পেকুয়ায় প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, বাড়ি ভাংচুর

rape-eng.jpg

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(১৩ মার্চ) :: পেকুয়ায় প্রতিবন্ধী মহিলাকে ধর্ষনের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর জের ধরে বসতবাড়িতে ভাংচুর চালায় দুবৃর্ত্তরা। পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রতিবন্ধীকে ধর্ষনের এ অভিযোগে সালিশি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ধর্ষনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এ সময় অভিযুক্ত যুবককে উত্তম মাধ্যম দেয়া হয়েছে।

১৩ মার্চ (বুধবার) সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের নাপিতখালী গ্রামে বাড়ি ভাংচুরের এ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, গত এক সপ্তাহ আগে এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হয়। বিকেলে ওই নারী একটি বাড়িতে পাতা কুড়াতে যায়। এ সময় নির্জন ওই বাড়িতে প্রতিবন্ধী ওই নারীকে ধর্ষন করেছে।

গ্রামবাসী জানায়, ভুট্রো নামের এক যুবক ওই নারীকে ধর্ষন করেছে। আপত্তিকর অবস্থায় বাড়িটির কেয়ারটেকার এক নারী এ দৃশ্য দেখে পেলে। এ সময় ধর্ষক যুবককে মমতাজ বেগম নামের ওই নারী কেয়ারটেকার প্রতিবন্ধী নারী ও যুবক ভুট্রোকে ধরে ফেলার চেষ্টা চালায়। এ সময় ভুট্রো দ্রুত ওই স্থান ত্যাগ করে।

গ্রামবাসী জানায়, বাড়িটি আবুল বশর চৌধুরীর। তারা গ্রামের ওই বাড়িতে থাকেন না। ছেলে সন্তান দেশের অভিজাত এলাকায় প্রতিষ্টিত। গ্রামের ওই বাড়ি দেখভাল করতে মমতাজ বেগম নামের এক নারীকে সেখানে ঠাই দেওয়া হয়েছে। বিশাল জমিদার বাড়িতে ওই নারী থাকেন। প্রতিবেশীরা এ ভিটা থেকে লাকড়ি ও পাতা সংগ্রহ করে তা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এক সপ্তাহ আগে প্রতিবন্ধী ওই নারী এ বাড়িতে পাতা কুড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। বিষয়টি বাড়ির মালিক আবুল বশর চৌধুরীকে অবহিত করা হয়।

১২ মার্চ (মঙ্গলবার) রাতে তার বাড়িতে এ সম্পর্কিত সালিশি বৈঠক চলছিল। বৈঠকে সমাজপতিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ভুট্রোকেও এ অপরাধে হাজির করানো হয়। সেখানে ধর্ষনের বিষয়টি ওই যুবক স্বীকার করেছেন। এ সময় তার নিকট আত্মীয় আবুল বশর চৌধুরীসহ সালিশি প্রতিনিধিগন তাকে শারীরিক শাস্তি দেয়। তাকে বৈঠকে উত্তম মাধ্যম দেয়া হয়েছে। এ দিকে এর সুত্র ধরে নাপিতখালীতে বাড়ি ভাংচুরসহ কান্ড সংঘটিত হয়েছে।

একটি পক্ষ যুবক ভুট্রোকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বৈঠকের পর তাকে পেকুয়ায় চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। ওই ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে পেকুয়া থানায় অভিযোগ পৌছায়। সালিশি বৈঠক হয়েছিল আবুল বশর চৌধুরীর বাড়িতে। এ ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে যুবক ভুট্রোর ২ ভাইসহ উত্তেজিত ৫/৬ জন লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে আবুল বশর চৌধুরী বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় কেয়ারটেকার মমতাজ বেগম বাড়ির ফটক বন্ধ করে ফেলে। হামলাকারীরা জানালার কাঁচ ভাংচুর চালায়। এ সময় কেয়ারটেকার মমতাজ বেগমের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। কাঁচ ভাংচুর দেখতে পেয়ে ওই নারী বাড়ির ভিতরে অচেতন হয়ে যান। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে পরবর্তী সময়ে স্থানীয়রা বাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার করে।

প্রতিবেশী নারী রেহেনা আক্তার জানায়, ধর্ষণের এ ঘটনা ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে তারা কৌশলে ওই ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আবুল বশর চৌধুরী একজন ভাল মানুষ। ভদ্র, ন¤্র ও পরোপকারী। তারা বাড়িতে থাকেন না। একজন অসহায় নারী ও ছেলের এ অনৈতিক সম্পর্ক জানতে পেরে ক্ষেপে গিয়েছিলেন। ভুট্রো তার নিকট আত্মীয়। তাকে শাসন করার অধিকার তারত আছে।

কেয়ারটেকার মমতাজ বেগম জানায়, আমি আপত্তিকর অবস্থায় এ ২ জনকে দেখে ফেলি। বিশাল বসতবাড়ি আমি দেখভাল করি। অজু করতে পুকুরে যাচ্ছিলাম। এ সময় সেটি দেখে ফেলি। তারা বাড়ি আক্রমন করেছে। আমি ভিতরে ছিলাম। না হয় আমাকে আক্রমন করা হত। হামলার ভয়ে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। পিছুনের দরজার তালা ভাংচুর করে। সামনের ৩ টি জানালার কাঁচ লাঠির আঘাতে চুরমার করে ফেলে।

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno