আওয়ামী লীগে নতুন সাধারণ সম্পাদক নিয়ে হঠাৎ আলোচনা

alg-logo-1.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৪ মার্চ) :: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের কিছুটা সুস্থ হয়েছেন। এখন তাঁকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী দশ থেকে পনের দিনের মধ্যে তাঁর বাইপাস সার্জারি হওয়ার কথা। সিঙ্গাপুরে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে যারা আছেন তারা জানিয়েছেন যে, বাইপাসের জন্য যতটুকু শরীরকে প্রস্তুত করা দরকার সেভাবে তাঁকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ঢাকার একাধিক চিকিৎসকরা বলছেন যে, বাইপাস হওয়ার পরও ওবায়দুল কাদের সুস্থ হলেও তাঁকে একটা নিয়মনীতির মধ্যে থাকতে হবে এবং কাজ কমিয়ে ফেলতে হবে।

এদিকে আগামী অক্টোবর নাগাদ আওয়ামী লীগ কাউন্সিল অধিবেশন করতে চায়। যেহেতু ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা ভালো নয় এবং সুস্থ হলেও তাঁকে সীমাবদ্ধ জীবনযাপন করতে হবে সেজন্য আওয়ামী লীগের মধ্যে হঠাৎ করে নতুন সাধারণ সম্পাদক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে গঠনতন্ত্রের ২৫/১/গ ধারা অনুযায়ী মাহাবুব আলম হানিফকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওবায়দুল কাদের ফিরে আসা না পর্যন্ত মাহাবুব আলম হানিফই দায়িত্ব পালন করবেন। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে অক্টোবরে যে কাউন্সিল হবে সেখানে এই বাস্তবতায় ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদকের পদে রাখা নাও হতে পারে।

ওবায়দুল কাদের এখন দুটি দায়িত্বে রয়েছেন। একটি হলো- সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। অন্যটি হলো- দলের সাধারণ সম্পাদক। দুটিই অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং দুটিতেই অনেক চাপ নিতে হয়। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধাকরা মনে করছেন যে, তাঁর দুটি দায়িত্বের একটি দায়িত্ব তাঁর সুস্থতার জন্য এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য কমিয়ে নেয়া প্রয়োজন।

এক্ষেত্রে যেহেতু এখন পদ্মা সেতুর কাজ চলছে, মেট্রো রেল প্রকল্পের কাজ চলছে; এ দুটি কাজ অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। সেহেতু মন্ত্রীর পদ রেখে তাঁর সাধারণ সম্পাদকের পদটি অন্য একজনকে দেয়ার ব্যাপারে বেশি আলোচনা চলছে। কারণ আওয়ামী লীগ মনে করছে, জাতীয় নির্বাচনে বিপুল বিজয়, উপজেলা নির্বাচন ইত্যাদির পরও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাঠামো অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। সাংগঠনিকভাবে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী রাখা, নেতাকর্মীদেরকে উজ্জীবিত রাখা ইত্যাদির জন্য একজন সার্বক্ষণিক সাধারণ সম্পাদক দরকার।

যদিও মাহাবুব আলম হানিফ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এবং এখন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আছেন এবং তিনি মন্ত্রীও নন তারপরও আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে তারসঙ্গে নেতাকর্মীদের নিবিড় ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অনেকেরই সংশয় রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের মধ্যে কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অনেকগুলো নাম আলোচনায় এসেছে।

এই আলোচনায় হঠাৎ করে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের নাম সামনে চলে এসেছে। ড. আব্দুর রাজ্জাক কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তিনি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি একজন সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং নির্বাচন ইশতেহার প্রণয়ন কমিটিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও তিনি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং রাজনীতিতে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে পরিপাটি রুচিশীল ব্যক্তিত্ব হিসেবেই পরিচিত। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, সার্বিক প্রেক্ষাপটে ড. রাজ্জাকের নাম আকস্মিকভাবে সামনে চলে এসেছে।

তবে এখনো কাউন্সিল হওয়া অনেক বাকি। শুধু ড. আব্দুর রাজ্জাক নয়, আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানকের নামও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। নানক ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসাইনমেন্টে জাহাঙ্গীর কবির নানককে দায়িত্ব দিয়েছেন। এছাড়া যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমানের নামও বিবেচনায় আছে। তবে নানা কারণে আব্দুর রহমান এখন সাধারণ সম্পাদক দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন।

চমক হিসেবে ড. দীপু মনির নামও আলোচনা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে যে, অক্টোবরে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ওবায়দুল কাদেরের পূনর্নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতই ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি শারিরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তার স্বাস্থ্যের বিষয়টি সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একাধিক আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করছেন, এই শারিরিক অবস্থায় তাকে বেশি চাপ দেওয়া হলে সেটা তার স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি হতে পারে এবং এরফলে আওয়ামী লীগ একজন মূল্যবান কর্মীর সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

একারণেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিয়ে নানামুখী জল্পনা কল্পনা চলছে এবং শেষ পর্যন্ত সঠিক কে হচ্ছেন সেটা সিদ্ধান্ত নিবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এ ব্যপারে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ওবায়দুল কাদেরের শারিরিক অবস্থা কী এবং তিনি কী পরিস্থিতিতে দেশে ফেরেন সেটার উপর।

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno