নিউজিল্যান্ডের মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ নিহত-৪৯

nzl-2.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৫ মার্চ) :: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ কমপক্ষে ৪৯ জন নিহত ও কমপক্ষে ২৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পুলিশ কমিশনার । হামলায় সময় মসজিদের কাছেই ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। যদিও তাঁরা সবাই সুরক্ষিত আছেন বলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে। এ দিনের হামলায় পরই গোটা এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন মহিলা।

তখন ঘড়িতে বেলা পৌনে ২টা। মসজিদের ভিতরে চলছে সাপ্তাহিক নামাজ। জড়ো বহু মানুষ। হঠাৎ গুলির শব্দ। ছুটোছুটি পরে গেল মসজিদের ভিতর। সেনার পোশাকে থাকা বন্দুকধারী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে চলেছে তখনো। মুহূর্তে রক্তে ভেসে গেল মসজিদ চত্বর। এই হামলার ঘটনাটিকে দেশের অন্ধকারতম দিনগুলির মধ্যে একটি বলে বিবৃতি দিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন।

ঘটনাস্থল নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের সাউথ আইল্যান্ডের আল নুর মসজিদ। শুক্রবার এখানেই এক (যদিও কারও কারও দাবি দু’জন) বন্দুকধারীর হামলায় প্রাণ হারান ৪৯ জন। যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই গুরুতর। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানিয়েছে, সেনার পোশাকে মসজিদের ভিতর ঢুকেছিল ওই বন্দুকধারী।

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় খুনি ব্রেনটন ট্যারেন্ট। জনসম্মুখে এই খুনির ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।এই খুনি ৫০টি গুলি করে আমাদের মুসলিম ভাইদের উপর।নিরহ মুসল্লিদের যেভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেই ভয়াবহ দৃশ্য লাইভ প্রচার করে জঙ্গী নিজেই।২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট নামের ওই বন্দুকধারী জঙ্গীকে শ্বেতাঙ্গ বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জন নিহত হয়েছে এবং আর ও অনেকে আহত হয়েছেন। হে আল্লাহ, সবাইকে শহিদের মর্যাদা এবং জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। আমিন।

Posted by Mobin Chowdhury on Friday, March 15, 2019

এ দিনের হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। হামলায় সময়ই মসজিদে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন তারা। এই মুহূর্তে নিউজিল্যান্ড সফরে রয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। হামলার পর বাংলাদেশের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল টুইট করে জানিয়েছেন, সব ক্রিকেটারই সুরক্ষিত আছেন। টুইট করে একই কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, কালো পোশাকে মসজিদের ভিতর ঢুকেছিল ওই বন্দুকধারী। তাঁর কথায়, ‘‘তখন মসজিদের অন্য একটি দরজার সামনে দাড়িয়েছিলাম। সাপ্তাহিক নামাজ চলছিল। হঠাৎ গুলি চালাতে শুরু করে ওই বন্দুকবাজ। কম করে চার-পাঁচ জনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই।”

এ দিনের হামলার পরই নিউজিল্যান্ডের পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে৷ গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে। এখনও গুলির লড়াই চলছে বলে জানা গিয়েছে।

হামলাকারী চিহ্নিত, এক নারীসহ আটক ৪

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ এলাকার আল নূর মসজিদ ও লিনউড মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় একজন নারীসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৪০ জন নিহতের খবর জানিয়েছে নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় গণমাধ্যম।

হামলাকারী ফেসবুক লাইভ চালু করে হামলা চালায়, সেই লাইভ ভিডিও থেকে হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। হামলাকারী এজন বর্ণবাদী অস্ট্রেলিয়ান বলে প্রাথমিক অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে। ‘ব্রেনটন টেরেন্ট’ নামে একটি টুইটার একাউন্টে ওই হামলাকারীর ব্যবহ্নত রাইফেলের ছবি থাকায় তা ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে।

শুক্রবার আল নুর মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে ৩০০ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। সেখানে উপস্থিত হয়েছিল নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরাও। তবে তারা সবাই নিরাপদ আছে।

সেখানকার পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ জানান, দেশটির পুলিশকে বন্দুকধারীকে ধরতে বেশ মারাত্মক অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ৪ জনকে আটক করা হয়েছে, তাদের একজন নারী ও তিনজন পুরুষ। আমাদের ধারণা আরো অনেকে এর সাথে জড়িত থাকতে পারে।

আপাতত ক্ষোভ থেকে এ হামলা চালানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।

ফেসবুক লাইভে এভাবেই গুলি করতে দেখা গেছে হামলাকারীকে

পুরো দেশেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এবং পুলিশের সবাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কিছু সময়ের জন্য দেশটির মসজিদগুলোতে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছে পুলিশ।

যে কোন অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু দেখলে জরুরি নম্বর ১১১ তে কল করতে বলা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই বিস্তারিত ঘোষণা নিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে।

Share this post

PinIt
scroll to top