চকরিয়ায় উপকুলে দুইপক্ষের মধ্যে সংর্ঘষ : নারীসহ আহত-৮

sngrso.jpg

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া(৩০ মার্চ) :: চকরিয়া উপজেলার বদরখালীতে জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে দুইপক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৮জন গুরুতর আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাদেরকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের ২নম্বর ব্লকের শহরিয়া পাড়া এলাকায় ঘটেছে এ সংঘর্ষের ঘটনা।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, বদরখালী ইউনিয়নের শহরিয়া পাড়া এলাকার মৃত ডা: আবদুল মজিদের ছেলে মোকতার আহমদ গং ও একই এলাকার সিরাজুল হকের মধ্যে বদরখালী সমিতির শেয়ারভুক্ত পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমির নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ওই জমি নিয়ে দু’পক্ষের মাঝে বিভিন্ন আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।

সর্বশেষ শনিবার সকালে সিরাজুল হকের ছেলে আবু বক্কর তার লোকজন নিয়ে বিরোধীয় জায়গায় গাছের চারা রোপন করছিলেন। খবর পেয়ে সেখানে বাঁধা দিতে যান মোকতার আহমদ গং। এতেই দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংর্ঘষে আহতরা হলেন, শহরিয়া পাড়া এলাকার মৃত ডা: আবদুল মজিদের ছেলে মোকতার আহমদ (৭০), তার ছেলে কফিল উদ্দিন (৩৬), মৃত মোজাম্মেল হকের স্ত্রী হামিদা খানম (৬০), তার ছেলে ওমর ফারুক (৩৪), একই এলাকার সিরাজুল হকের স্ত্রী ছেনোয়ারা বেগম (৫৮), ছেলে আবু বক্কর (৩৯), আজিজুল হকের স্ত্রী জন্নাতুল ফেরদৌস (৪৮), মেয়ে জোসনা বেগম (২৫)।

আহত বয়োবৃদ্ধা মোকতার আহমদ জানান, বিরোধীয় জায়গাটি বদরখালী সমিতি সৃষ্টিলগ্নে থেকে পৈত্রিক ভাবে তারা ভোগ দখল করে আসছিলেন। কিন্তু কিছুদিন আগে প্রতিবেশি সিরাজুল হকের ছেলে আবু বক্কর উল্লেখিত জায়গা রাতের আধাঁরে দখলে নেন।

শনিবার সকালে ওই জায়গায় গাছের চারা রোপন করতে আসলে বাঁধা দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের উপর হামলা চালিয়ে তারা আমার সন্তান, ভাইয়ের স্ত্রী ও তার ছেলেসহ পাঁচজনকে জখম করেছে।

অপরদিকে হামলায় আহত সিরাজুল হকের ছেলে আবু বক্কর দাবী করে বলেন, যে জায়গা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে মূলত ওই জায়গার প্রকৃত মালিকানায় আমার পিতার অংশ রয়েছে। ওই জায়গার মধ্যে থেকে আমার পরিবার বদরখালী সমিতির বিধিমালা অনুযায়ী মোকতার আহমদ গং থেকে প্রায় ৮০শতক জায়গা ক্রয় করেন। বিরোধপূর্ণ উল্লেখিত জায়গা নিয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আবু বক্কর দাবি করেন, শনিবার সকালে প্রতিপক্ষের লোকজন দলবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়ে আমার ক্রয়কৃত ও ভোগদখলীয় জায়গায় ঘেরা-বেড়া ভাংচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে আমি ও আমার মা, বোন, চাচীকে বেদড়ক মারধর ও কুপিয়ে জখম করে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri