ভারতে লোকসভা নির্বাচনে ১১ এপ্রিল ভোটগ্রহণ শুরু

ELECTION-2019.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৯ এপ্রিল) :: ভারতে সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে ১১ এপ্রিল। দেশটির লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৯১টির প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোটাররা রায় দেবেন। আগামী ১৯ মে পর্যন্ত সাত দফায় মোট ৫৪৩টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এরপর ২৩ মে হবে ভোটগণনা। সেদিনই জানা যাবে ভারতে পরবর্তী সরকার গঠনে কোন দল নেতৃত্ব দেবে।

নির্বাচনকে ঘিরে পুরোদমে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর সংগঠক ও কর্মীরা। ক্ষমতাসীন দল বিজেপির তারকা প্রচারক ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গতকাল জনসভা করেছেন মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু রাজ্যে। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ পৃথক নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন মহারাষ্ট্রে। কট্টরপন্থী দলটির আরেক নেতা ও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জনসভা করেছেন ওই রাজ্যের মিরাট শহরে। অন্যদিকে ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী নির্বাচনী সমাবেশ করেছেন আসাম ও বিহারে। তার বোন ও কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রোড শো করেছেন উত্তর প্রদেশে। এর আগে সকালে ঝড়ের কারণে ওড়িশায় জনসভার কর্মসূচি বাতিল করতে হয় রাহুল গান্ধীকে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় প্রশাসন অনুমতি না দেয়ায় বিকালে উত্তর প্রদেশে তিনটি পূর্বনির্ধারিত জনসভা করতে পারেননি রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা।

লোকসভার যে ৯১টি আসনে আগামীকাল ভোট হবে, সেগুলোর অবস্থান ভারতের ১৮টি রাজ্য ও দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫ আসনে ভোটগ্রহণ হবে অন্ধ্রপ্রদেশে। অন্ধ্রের পার্শ্ববর্তী নতুন রাজ্য তেলেঙ্গানার ১৭টি আসনেও কাল ভোট। একই দিনে উত্তর প্রদেশের আটটি, মহারাষ্ট্রের সাতটি, আসাম ও উত্তরাখণ্ডের পাঁচটি করে, বিহার ও ওড়িশার চারটি করে আসনে ভোট হবে। অরুণাচল, জম্মু ও কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ে ভোট হবে দুটি করে আসনে। ছত্তিশগড়, মনিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, সিকিম ও ত্রিপুরা রাজ্যেও একটি করে আসনে কাল ভোট হবে। কেন্দ্রশাসিত আন্দামান অ্যান্ড নিকোবর আইল্যান্ডস এবং লাক্ষাদ্বীপের লোকসভা প্রতিনিধি নির্বাচনও কাল সম্পন্ন হবে। নির্বাচনমুখী বেশির ভাগ আসনেই প্রচারণার সময় শেষ হয়েছে গতকাল বিকাল ৫টায়। দুর্গম এলাকার কিছু আসনে প্রচারণার সময় ছিল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মূহূর্তে ৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় ছত্তিশগড়ের দান্তেওয়াদা জেলায় রাস্তায় পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে বিজেপির বিধানসভা সদস্য ভীমা মণ্ডভীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এ হামলার জন্য নকশালপন্থীদের দায়ী করেছে। ৯ এপ্রিল রাতে রাজ্য মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক শেষে ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা ভূপেশ বাঘেল বলেছেন, নকশালীরা যে ভাষা বোঝে, সে ভাষাতেই হামলার কঠোর জবাব দেয়া হবে। বস্তার অঞ্চলের জেলা দান্তেওয়াদায় আগামীকাল ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে এমন হামলা বস্তার অঞ্চলে নির্বাচন পুরোপুরি বয়কটের ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

এবার লোকসভার ১৭তম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নানা কারণে এ নির্বাচনকে ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে তাত্পর্যবহ নির্বাচন বলে অভিহিত করেছেন ভারতের অনেক রাজনীতিক, পর্যবেক্ষক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী। তাদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে ভারতের সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হতে যাচ্ছে। বিজেপি সরকার গত পাঁচ বছরে ভারতের অসাম্প্রদায়িক, সহনশীল চরিত্র বিপন্ন করে সমাজে তীব্র বিভাজন ও মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসীন দলের বাইরের প্রায় সব রাজনীতিক। এবারের নির্বাচনে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে না পারলে দলটি ভবিষ্যতে নির্বাচনের পথই রাখবে না বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন আম আদমি পার্টি নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাহ বলেছেন, বিজেপি আবার ক্ষমতায় এলে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে ফেলবে এবং সবক’টি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে। জাতীয়তাবাদের কথা বলে, সেনাবাহিনীর নাম ব্যবহার করে বিজেপি নিজেদের ব্যর্থতা ও অপকর্ম আড়াল করতে চাইছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা।

এদিকে ৯ এপ্রিল মহারাষ্ট্রের লাতুরে নির্বাচনী জনসভায় নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, প্রথমবারের মতো যারা ভোট দেবেন, তাদের অনুরোধ করছি পাকিস্তানের বালাকোটে বোমা হামলা চালানো সেনাদের পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য। নাগপুরের জনসভায় অমিত শাহ বলেছেন, আবার ক্ষমতায় গিয়ে আমরা ভারতের সব রাজ্যে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) প্রবর্তন করব ও অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াব। পাল্টা জবাবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, এনআরসির নামে ভারতীয়দের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার পাঁয়তারা বাংলায় সফল হবে না। ৯ এপ্রিল রায়গঞ্জে এক জনসভায় তিনি নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাবখানা এমন যেন সেনাবাহিনী তার নিজের সম্পত্তি। হিটলার বেঁচে থাকলে তার কাণ্ড দেখে আত্মহত্যা করত।

পশ্চিমবঙ্গে যে দুটি আসনে ১১ এপ্রিল নির্বাচন, তার মধ্যে রয়েছে কোচবিহার ও আলীপুরদুয়ার। বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়ের পর ভারতের নাগরিক হওয়া ভোটাররা এখন কোচবিহার জেলার অধিবাসী। সে হিসেবে তারা ১১ এপ্রিল প্রথমবারের মতো লোকসভা নির্বাচনে ভোট দেবেন।

 

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno