izmir escort telefonlari
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam

বাংলা নববর্ষ ১৪২৬ প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা : মঙ্গল শোভাযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

pm14.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৪ এপ্রিল) :: বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার (১৪ এপ্রিল) সকালে গণভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এ সময় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী আগত অতিথিদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমগ্র দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধভাবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আমাদের সকল কর্মের মধ্যদিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণ করে যাবো। বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ। যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব দেখেছিলেন। আর সেই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমি সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি,’ যোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  রোববার সকালে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে দল এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে একথা বলেন।

বাংলা নববর্ষ সবার জীবনকে সুন্দর এবং উদ্ভাসিত করে তুলবে এবং বাংলাদেশে তার সরকারের নেতৃত্বে চলমান উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলেও প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলা নতুন বছর-১৪২৬ এর নতুন সূর্য সবার জীবনকে সুন্দর করুক, উদ্ভাসিত করুক, সফল করুক সেটাই আমি কামনা করি।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমি এটুকুই আশা করবো যে, আমাদের যে উন্নয়নের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে সেই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। বিশ্ব দরবারে বাঙালি জাতি সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলবে। বিশ্বে বাংলাদেশ একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলা নববর্ষ, পুরাতন বছরকে পেছনে ফেলে আমরা নতুন বছরে পদার্পন করছি। সমগ্র বাঙালি জাতিকে এই নববর্ষে আমি শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। শুভ নববর্ষ।

নতুন বছর বাঙালি জাতির জন্য নতুন বার্তা বয়ে আনুক, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন করবো, আমরা আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবো। যখন বাংলাদেশে হতদরিদ্র বলে কিছু থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করায় দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীসহ সমগ্র দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি বলেন, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ এবং আমাদের সহযোগী সংগঠনের সকল নেতা-কর্মীকে আমি বিশেষভাবে শুভেচ্ছা জানাই, শুভেচ্ছা জানাই গত নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে জাতির সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন তাদেরকে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। আজকে আমাদের লক্ষ্য জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা তা করতে পারবো।

বক্তব্যের শুরুতেই শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, চার জাতীয় নেতা, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং সম্ভ্রমহারা দুই লাখ মা-বোনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

সংসদের উপনেতা এবং দলের জ্যেষ্ঠ সভাপতিমণ্ডলির সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম, আমির হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং এডভোকেট সাহারা খাতুন অন্যান্যের মধ্যে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কন্যা এবং বিশ্ব অটিজম আন্দোলনের অগ্রপথিক সায়মা ওয়াজেদ হোসেন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থল গণভবনের ব্যাংকুয়েট হলে প্রবেশ করলে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের শিল্পীবৃন্দ বিখ্যাত রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং বর্ষবরণের গান ‘এসো হে বৈশাখ’ এবং ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে’ পরিবেশন করেন।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ এবং সভাপতিমণ্ডলিসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীকে শেখ হাসিনাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানে অতিথিদের বিভিন্ন বাঙালি খাবার যেমন- মোয়া, মুড়কি, মুরলি, কদমা এবং জিলেপি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রা সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়

আগের রাতেও কোথাও কোথাও প্রবল বর্ষণ হয়েছে। কিন্তু সকাল হতেই আবহাওয়া পরিবর্তন। প্রচণ্ড গরম। বছরের প্রথম দিন সূর্য খুলে দিল রোদের ঝাঁপি। রাজধানীর শাহবাগ মোড় পেরিয়ে চারুকলার পথটিতে মানুষ আর মানুষ। দোয়েল চত্বর, টিএসসি হয়ে দল বেঁধে এলো নানা বয়সী মানুষ।

তখন ঘড়ির কাঁটা ৯টার ঘরে। তবে ভোর থেকেই রঙ-বেরঙের মুখোশ, শোলার পাখি, পেঁচা, টেপা পুতুল, ঢাক-ঢোল-বাঁশি নিয়ে চারুকলা ইন্সটিটিউটের সামনের সড়কে অপেক্ষায় মঙ্গল শোভাযাত্রার যাত্রীরা। উদ্দেশ্য একটাই- মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া। ছেলেদের পরনে নানা বর্ণের পাঞ্জাবি-ফতুয়া আর নারীদের সাদা পেড়ে লাল শাড়ি, শিশু-কিশোরদের রঙ-বেরঙের পাঞ্জাবিতে বর্ণিল হয়ে ওঠে চারুকলার আশেপাশের এলাকা। ধর্ম-গোত্র-বয়স ভেদ ছিল। তবে ছিল না সবার মন ও মননে ‘আমরা সবাই বাঙালি’ এই মূল মন্ত্র।

অসাম্প্রদায়িক এই মনে সবাইকে এক কাতারে শামিল করেছিল বৈশাখি মঙ্গল শোভাযাত্রা। শপথ নিয়েছেন সাম্প্রদায়িকমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার।

মেট্টোরেল প্রকল্পের কারণে এবার শোভাযাত্রার রুট পরিবর্তন করা হয়। শোভাযাত্রাটি চারুকলা থেকে শুরু হয়ে মৎস্য ভবনমুখী সড়কের বারডেম হাসপাতাল ঘেঁষা ফুটওভার ব্রিজ থেকে ঘুরে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হয়।

চারুকলা ও ছবির হাটের মধ্যবর্তী জায়গা থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকে শোভাযাত্রা। হর্ষধ্বনি দিয়ে এগিয়ে চলে শোভাযাত্রা। দেশিয় বাদ্যের শব্দ ছড়িয়ে যায় দিগ্বিদিক। কেউ কেউ গলা ছেড়ে ধরেন গান ‘এসো হে বৈশাখ’।

শোভাযাত্রাজুড়ে নেচে-গেয়ে প্রাণের উৎসবে মাতোয়ারা করে রাখে চারুকলা ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীসহ হাজারো উৎসব প্রিয় মানুষ।

ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষে বাঘের মুখোশ, হাতপাখা, একতারা-দোতারা হাতে নিয়ে নানা বয়স ও শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন এ মঙ্গল শোভাযাত্রায়।

লোকজ ঐতিহ্য হুতুম পেঁচা, বাঘ-বকসহ নানা ধরনের শিল্পকর্ম নিয়ে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা সমাপ্ত হয়। হাজারো বাঙালির উপস্থিতিতে প্রদক্ষিণ করা সড়কগুলো দুই লেন কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। তাদের নিরাপত্তায় ছিল বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। পেশাগত পোশাক দেহে থাকলেও তাদের মাঝেও দেখা যায়, বাঁধভাঙা উচ্ছাস।

ভোর থেকেই উৎসবমুখর রাজধানীর বিভিন্ন থেকে উৎসব প্রিয় ভিড় জমতে শুরু করেন শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। প্রভাতে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষ হতেই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে উৎসব মুখর বাঙালি।

কাঁটাবন মোড় থেকে শাহবাগ মোড়- নিউমার্কেট থানা, মৎস্য ভবন মোড় থেকে শাহবাগ মোড়-দোয়েল চত্বর মোড়-বাংলা একাডেমি হয়ে টিএসসি পর্যন্ত ছিল জনতার ঢল।

এ সময় কথা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইশরাক জাহানের সঙ্গে। তিনি জাগরণকে বলেন, মঙ্গলশোভা যাত্রায় অংশ নেবো এই আনন্দে গতরাতে ঘুমই হয়নি। সারারাত ধরে পরিকল্পনা করেছি, কী পরব, কেমন লাগবে এসব।

৫০ বছর বয়সী ইমরান হোসেন এসেছিলেন ৭ বছরের সন্তান রাজিবকে নিয়ে। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখই আমাদের বাঙালির প্রাণ। বছরজুড়ে অনেক উৎসবই আসে, কিন্তু পহেলা বৈশাখের মতো সর্বজনীন উৎসব আর দ্বিতীয়টি নেই। এই সর্বজনীন উৎসব কেমন হয়, কিভাবে দলমত-ধর্ম-বয়স ভেদাভেদ ভুলে বাঙালি এক ছাতার নিচে জড়ো হয়, তা দেখাতেই ছেলেকে নিয়ে আসা। আমরা আর কয়দিন, ওরাইতো আগামী দিনে এসবের নেতৃত্ব দেবে

Share this post

PinIt
scroll to top