মিয়ানমারে মুক্তি পেলেন রয়টার্সের দুই সাংবাদিক

rt2.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৭ মে) :: দীর্ঘদিন কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন মিয়ানমারের আলোচিত দুই সাংবাদিক। মঙ্গলবার (৭ মে) দেশটির প্রেসিডেন্টের প্রত্যক্ষ ক্ষমায় তাদের এই মুক্তি দিল মিয়ানমার। কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত রয়টার্সের এই দুই সাংবাদিক হলেন ওয়া লোন (৩৩) ও কিয়াও সোয়ে ওউ (২৮)। সম্প্রতি তারা সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখায় পুলিৎজার পুরস্কারে ভূষিত হন।

২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তাদের আটক করে দেশটির সামরিক বাহিনী। পরে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনের জেলা জজ আদালত তাদের ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের’ অধীনে দোষী সাব্যস্ত করেন। মূলত এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বরে তাদের প্রত্যেককে অন্তত সাত বছর করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই বিশ্বব্যাপী মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। একইসঙ্গে দেশটিতে মানবাধিকার ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। তাছাড়া ব্রিটেন, কানাডা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের আরও বেশ কয়েকটি ক্ষমতাশীল দেশ রয়টার্স এই দুই সাংবাদিককে মুক্তি দেওয়ার জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

২০১৭ সালে দেশটিতে জাতিগত দাঙ্গা চলাকালে মিয়ানমারের ইনদিন প্রদেশে স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হামলা চালায়। এতে একসঙ্গে অন্তত ১০ রোহিঙ্গাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেশ কিছু তথ্য প্রমাণসহ একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন এই দুই সাংবাদিক। প্রতিবেদনটি তাৎক্ষণিক বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে আসা মাত্রই তারা মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। প্রশাসন মূলত এতেই সেই সংবাদকর্মীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়। আর তাদের তাৎক্ষণিক ‘অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের’ অধীনে গ্রেফতার করেন।

ইয়াঙ্গুনের উপকণ্ঠে অবস্থিত কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ৩৩ বছর বয়সী ওয়া লোন বিবিসি নিউজের প্রতিবেদক নিক বেকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই এতে ভীষণ খুশি হয়েছি। এখন আমি আমার পরিবার এবং সহকর্মীদের দেখতে উত্তেজিত। একইসঙ্গে আমি আমার নিউজ রুমে যেতে আর অপেক্ষা করতে পারছি না।’

রয়টার্সের সম্পাদক-ইন-চিফ স্টিফেন জে অ্যাডলার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গত মাসে তারা তাদের প্রতিবেদনের জন্য সম্মাননাস্বরূপ পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছেন। যা তাদের প্রেস স্বাধীনতার “প্রতীক” হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে।’

বিবৃতিতে এও বলা আছে, ‘প্রায় ৫০০ দিনের বেশি বন্দি অবস্থাতে দিন কাটানোর পর অবশেষে তাদের মুক্তি দেওয়া হলো। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে মায়ানমার আমাদের সেই সাহসী দুই সাংবাদিকদের সসম্মানে মুক্তি দিয়েছে। যে কারণে আমরা সেই দেশের সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানায়। ওয়া লোন এবং কিয়াও সোয়ে ওউ হচ্ছেন আমাদের প্রেস স্বাধীনতার অন্যতম প্রতীক।’

রয়টার্সের প্রতিবেদনে যা ছিল: উত্তর রাখাইনের ইনদিন গ্রামে সেনাবাহিনী ও কিছু গ্রামবাসী মিলে সারিবদ্ধভাবে একদল রোহিঙ্গাকে বসিয়ে গুলি করে হত্যা করেছিল। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর। ওই ঘটনাই উঠে এসেছিল রয়টার্সের প্রতিবেদনে, যার তথ্য-উপাত্ত ওই দুই সাংবাদিকই সংগ্রহ করেছিলেন। রয়টার্স দাবি করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের এটিই প্রথম কোনো প্রমাণ।

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno