izmir escort telefonlari
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam

ফ্রি ভিসায় আউট পাশের অপেক্ষায় ওমানে হাজারো প্রবাসী

probash-oman.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১০ মে) :: ফ্রি ভিসার নামে অভিনব কায়দায় প্রতারণা চলছে। বাস্তবে এর অস্তিত্ব না থাকলেও এই ভিসার নাম করে মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে। বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট না থাকায় এসব দেশে গিয়ে কোনো কাজ পাচ্ছেন না শ্রমিকেরা। ফলে প্রবাসে অমানবিক জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বৈধ কাগজ না থাকায় ওমান থেকে কয়েক হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি দেশেও আসতে পারছেনা। এমনকি পরিবার-পরিজনের কেউ মারা গেলেও শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখটি পর্যন্ত দেখতে পারছে না।

কথা হয় ওমান প্রবাসী রুবেলের সঙ্গে, এতদিন কেন বাড়ি যাননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাগ্য বদলের আশায় চার বছর আগে মরুর দেশ ওমানে পাড়ি জমাই। দালালদের প্ররোচণায় ভিটেমাটি বিক্রি করে দেশটিতে এসে প্রতারণায় শিকার হয়। চল্লিশ হাজার টাকা বেতনে চাকরির কথা বলে দিতে পারেনি কোনো কাজ।’ অবৈধভাবে ফ্রি ভিসায় এসে এখন পথে পথে ঘুরছি। না পাচ্ছি কোনো কাজ না হচ্ছে বাড়ি যাওয়া।

রুবেলের মতো এমন হাজারও বাংলাদেশি অপেক্ষার প্রহর গুনছেন আউটপাশের জন্য। আবার অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওমান থেকে পালিয়ে দুবাই হয়ে দেশে আসছেন। ওমানের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় অনেকেই কাজ করতে পারছে না। কাজহীন বেকার জীবন কাটাচ্ছে হাজারও ওমান প্রবাসী।

একদিকে বাংলাদেশ থেকে পরিবারের চাপ, অন্যদিকে ব্যাংকের কিস্তি জ্বালা! অপরদিকে কাজহীন বেকার জীবন নিয়ে হতাশায় অনেকেই স্ট্রোক করে মারা যাচ্ছে!

ওমানের বাংলাদেশ দূতাবাসে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘বর্তমানে ওমানে প্রতি মাসে ৫০-৬০ জন প্রবাসী মারা যাচ্ছে, যাদের ভেতর বেশিরভাগই হচ্ছে যুবক। এভাবেই কঠিন সমস্যার মাঝে দিনাতিপাত করছে অবৈধ প্রবাসীরা।’ মানুষ না জেনে ফ্রি ভিসায় বিদেশ পাড়ি দিচ্ছে, প্রকৃতপক্ষে ফ্রি ভিসা কী সেটা বুঝে আসতে হবে। ফ্রি ভিসা কোনো ভিসা নয়, পুরোটায় অবৈধ।

বলেন, ‘ওমান আসতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জেনে বুঝে পা বাড়ানোর অনুরোধ করব। কোনো প্রতারকের ফাঁদে পড়া যাবে না। আমরাও চেষ্টা করছি প্রতারকদের আইনের আওতায় আনতে।’

আবেগাপ্লুত হয়ে রুবেল বলেন, ‘সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে ওমান এসেছি। সোনার হরিণের খোঁজে এসে ছাইও মেলেনি। ভেবেছিলাম পরিবারে অভাব মোচন করব। তাই শত কষ্ট করে টাকা-পয়সা জোগাড় করে কিছু করার আশায় পাড়ি জমালাম। কিন্তু এখানে এসে হতাশা ছাড়া কিছুই দেখছি না। আমার কী অবস্থা বুঝতে পারছি না।’

ফ্রি ভিসার নামে অভিনব কায়দায় প্রতারণা চলছে। বাস্তবে এর অস্তিত্ব না থাকলেও এই ভিসার নাম করে মধ্যপ্রাচ্যসহ কয়েকটি দেশে শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে। বৈধ ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট না থাকায় এসব দেশে গিয়ে কোনো কাজ পাচ্ছেন না শ্রমিকেরা। ফলে প্রবাসে অমানবিক জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

দেশটিতে স্থানীয় প্রশাসনের হাতে আটক হলে জেল জরিমানা এমন কি দেশেও পাঠিয় দিতে পারে। অপরদিকে দেশে শিক্ষিত বেকার তরুণদের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলছে। দেশে কর্মসংস্থান সংকটের কারণে অদক্ষ এমন অসংখ্য তরুণ দালালের খপ্পরে পড়ে তাদের লোভনীয় কথায় মুগ্ধ হয়ে জমিজমা বন্ধক রেখে চড়া লোনে ফ্রী ভিসা নিয়ে এসে রুবেলের মতো দিনাতিপাত করছে অনেকে।

ওমানের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইয়াসিন চৌধুরী (সিআইপি)’র সঙ্গে আলাপ করলে তিনিও বলেন ফ্রি ভিসায় যেনো কেউ ওমানে না আসে, তিনি আরো বলেন বর্তমান অবস্থায় যদি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আউটপাশের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে ওমানের অবৈধ প্রবাসীদের সমস্যা আরো বাড়বে। সরকারের কাছে আমরা অনুরোধ করব শিগগিরই আউটপাশের ব্যবস্থা করার জন্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সুনির্দিষ্ট কাজের চুক্তির মাধ্যমে ভিসা ইস্যু হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভিসার সব খরচ নিয়োগদানকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বহন করে। ফ্রি ভিসা বলে কিছু না থাকলেও মূলত কিছু অসাধু বাংলাদেশি স্থানীয়দের যোগসাজশে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা পদ্ধতি চালু করেছে।

ফলে সাধারণ শ্রমিক তার সর্বস্ব বিক্রি করে বিদেশে গিয়ে কাজ না পেয়ে অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েন। এমনি জেল জরিমানার ফাঁদে পড়েন। মূলত এ ভিসার প্রচলন আছে কাতার সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোয়।

মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে প্রবাসীদের তালিকায় বাংলাদেশিরা সর্বোচ্চ। প্রায় ৭ লাখ বাংলাদেশি রয়েছে দেশটিতে। নির্মাণ এবং আবাসন খাতে দক্ষ শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশিদের বেশ সুনাম রয়েছে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bedava bahis bahis siteleri
bahis siteleri