অর্থনৈতিক সংকটে আইএমএফের সঙ্গে বেইলআউট চুক্তি পাকিস্তানের

IMF-Approves-loan-for-Pakistan.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৪ মে) :: অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ৬০০ কোটি ডলারের একটি বেইলআউট চুক্তি করেছে পাকিস্তান। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী তিন বছরের মধ্যে ওই অর্থ সরবরাহ করা হবে। খবর বিবিসি ও ডন।

কয়েক মাস ধরে চলা আলোচনা শেষে এ চুক্তিতে পৌঁছতে পারল ইসলামাবাদ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকুচিত এবং প্রবৃদ্ধি স্থবির হয়ে পড়ায় অর্থনৈতিক সংকটে কোণঠাসা পাকিস্তান।

এক বিবৃতিতে আইএমএফ জানায়, প্রবৃদ্ধি নাজুক হয়ে পড়া, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং দুর্বল রফতানিতে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশ নাজুক।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ব্যবসায় পরিবেশ উন্নত করা, প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক ব্যয় সুরক্ষায় বেইলআউটের মাধ্যমে সরকারের প্রবৃদ্ধি চাঙ্গার প্রচেষ্টায় সহায়তা করছে তহবিলটি।

সাধারণত কঠোর শর্তে বেইলআউট দিয়ে থাকে আইএমএফ। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন আইএমএফ থেকে সর্বশেষ দফা এ অর্থ গ্রহণের ফলে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি বিঘ্নিত হবে।

গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে বড় অংকের সাহায্য গ্রহণ করেছেন ইমরান খান। আইএমএফের কাছ থেকে বেইলআউট প্যাকেজের আকার ছোট করার লক্ষ্যে এসব সহায়তা গ্রহণ করেছেন তিনি।

লেনদেন ভারসাম্য সংকটে ধুঁকছে দেশটির অর্থনীতি, যাতে গুরুত্বপূর্ণ আমদানির বকেয়া অর্থ প্রদানে হিমশিম খাচ্ছে দেশটি। আইএমএফের অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, চলতি বছরে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়ে ২ দশমিক ৯০ শতাংশে দাঁড়াতে পারে, ২০১৮ সালে তা ছিল ৫ দশমিক ২০ শতাংশ। গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ৮০০ কোটি ডলার।

আবদুল হাফিজ শেখ নামে প্রধানমন্ত্রীর একজন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা জানান, বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ৯ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং পাঁচ বছর ধরেই রফতানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি আরো বলেন, পাকিস্তান আইএমএফ থেকে ৬০০ কোটি ডলার ঋণ নিচ্ছে। এছাড়া আগামী তিন বছরে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে ২০০ কোটি ও ৩০০ কোটি ডলার ঋণ পেতে যাচ্ছে।

আইএমএফ থেকে তহবিল সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিতে আর কী কী করণীয় হাফিজ শেখকে ডন থেকে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তহবিল থেকে অনেকগুলো দাবিদাওয়া পেশ করা হয়েছে, যার অনেকগুলো আমরা দেশের স্বার্থে আগে থেকেই কার্যকর করা শুরু করেছি। সেগুলো হচ্ছে সম্পদের সঙ্গে ব্যয় যুক্ত করা, রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত লোকসানি কোম্পানিগুলোর কার্যক্ষমতা উন্নত করা, ধনিক শ্রেণীর জন্য ভর্তুকি কমানো এবং বিত্তশালীদের জন্য কর বৃদ্ধি করা।

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno