ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় বাড়ছে তেলের দাম : ইরাক থেকে সরকারি কর্মী সরাচ্ছে ওয়াশিংটন

US-IRAN-tension.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৫ মে) :: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন নিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের খবরে বলা হয়েছে, অপরিমোধিত ব্রেন্ট তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭১.৭৫ ডলার। আর মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৬২.৪৮ ডলার।

এদিকে নিরাপত্তার কারণে ‘অ-জরুরি’ সরকারি কর্মচারীদের ইরাক থেকে সরিয়ে নেয়ার আদেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার আশঙ্কা নিয়ে সম্প্রতি বেশ কয়েকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার ইরাক থেকে সরকারি কর্মী প্রত্যাহারের ঘোষণা দিল দেশটি। খবর রয়টার্স।

তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ইরান-মার্কিন উত্তেজনার পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী কোম্পানি সৌদি আরামকোর ট্যাংকার ও তেলে উত্তোলন কেন্দ্রে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার ভূমিকা রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলে ইয়ানবু বন্দরের একটি পাইপলাইনে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকার নাশকতার শিকার হয়।

সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী খালেদ আল-ফলিহ জানান, সৌদি আরামকো ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করছে এবং তা মেরামত করবে। তিনি দাবি করেছিলেন, এতে করে তেলের রফতানিতে কোনও প্রভাব পড়বে না।

সৌদি স্থাপনার হামলার আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। মধ্যপ্রাচ্যে ও ভূমধ্যসাগরে যুক্তরাষ্ট্র জঙ্গিবিমানবাহী রণতরী ও অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পর থেকে এই উত্তেজনার শুরু।

রবিবার আমিরাতের উপকূলে চারটি ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। মার্কিন তদন্তকারীদের বিশ্বাস ইরান অথবা তাদের সমর্থিত কোনও গ্রুপ এই বিস্ফোরণের সাথে জড়িত। তবে তার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আর তেহরান বিস্ফোরণে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

ইরাক থেকে সরকারি কর্মী সরিয়ে নেয়ার আদেশ ওয়াশিংটনের

 নিরাপত্তার কারণে ‘অ-জরুরি’ সরকারি কর্মচারীদের ইরাক থেকে সরিয়ে নেয়ার আদেশ দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলার আশঙ্কা নিয়ে সম্প্রতি বেশ কয়েকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার ইরাক থেকে সরকারি কর্মী প্রত্যাহারের ঘোষণা দিল দেশটি। খবর রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বাগদাদের মার্কিন দূতাবাস ও এর্বিলের কনস্যুলেট থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারী সরিয়ে নেয়ার আদেশ দিয়েছে। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে দূতাবাসটি। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উভয় স্থানে সাধারণ ভিসা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। যত দ্রুত সম্ভব কর্মীদের ইরাক ত্যাগের জন্য বলা হয়েছে। তবে কতজন কর্মী ইরাক ছাড়বে তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

মঙ্গলবার মার্কিন সেনাবাহিনী উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করে বলেছে, ইরাকে মার্কিন সেনাদের ওপর ইরান হামলা চালাতে পারে। যদিও একজন ব্রিটিশ কমান্ডার এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, তেহরান এটিকে ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেছে।

ইরানের তেল কেনে এমন কিছু দেশের ওপর থেকে ছাড় তুলে নেয়ার মাধ্যমে দেশটির ওপর চাপ বৃদ্ধির চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আদেল আব্দুল মাহদি মঙ্গলবার বলেছেন, দুই দেশ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে ইঙ্গিত পেয়েছেন সবকিছু ভালোয় ভালোয় শেষ হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরী, বি-৫২ বোমারু বিমান ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ অতিরিক্ত সামরিক বাহিনী পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। এ পদক্ষেপের কারণ হিসেবে ওয়াশিংটন বলেছে, তাদের বাহিনীর ওপর তৈরি হওয়া ঝুঁকি মোকাবেলা ও মধ্যপ্রাচ্যের স্বার্থে এটি করা হয়েছে।

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno