রিয়াল মাদ্রিদে যেতে নেইমারের শর্ত : আগামী মৌসুমে ১৪ জনের ছাটাই !

nmr.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১ মে) :: বার্সেলোনার মতো অ্যান্থনিও গ্রিজম্যানকে দলে পেতে দৌড়ে আছে পিএসজিও। কাইলিয়ান এমবাপে, নেইমারের মতো একাধিক বিশ্বমানের ফরোয়ার্ড থাকার পরও প্যারিসের ক্লাবটি কেনো আরেকজন ফরোয়ার্ডের পেছনে ছুটছে সেটিও একটা প্রশ্ন। খবর, নেইমার কিংবা এমবাপের যেকোনো একজনকে ছেড়ে দিচ্ছে পিএসজি!

ডন ব্যালনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই একজনটা নেইমার হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড যেতে পারেন রিয়াল মাদ্রিদে। শুধু তাই নয়, আলোচনা এগোনোরও খবর মিলছে। মাদ্রিদে যাওয়ার শর্ত হিসেবে নেইমার নাকি জুড়ে দিয়েছেন ছয়টি দাবিও!

নেইমারের ছয় শর্তের প্রথমটি হল, রিয়ালে এলে তার জার্সি নাম্বার হতে হবে ৭ অথবা ১০। বর্তমানে মারিয়ানো ডিয়াজ ও লুকা মদ্রিচের গায়ে শোভা পাচ্ছে এ দুই জার্সি। অর্থাৎ, নেইমার এলে হয় বসে পড়তে হবে মারিয়ানো অথবা মদ্রিচের যেকোনো একজনকে, নয়তো জার্সি পরিবর্তন করতে হবে।

দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে নেইমার জুড়ে দিয়েছেন মার্সেলোর নাম। ব্রাজিল জাতীয় দলের সতীর্থ ও বন্ধুকে ক্লাবেও পাশে চান নেইমার। গত মৌসুমে বেশিরভাগ সময় ডাগ আউটে কাটানোর পর ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সামনের মৌসুমেই ছাড়বেন মাদ্রিদ।

নেইমার রিয়াল সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজকে অনুরোধ করেছেন, মার্সেলোর প্রস্থানটা যেন অন্তত ঠেকানো হয়। আর রাফায়েল ভারানে মাদ্রিদ ছেড়ে গেলে পিএসজির ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্কুইনোসকে চান নেইমার। নেইমারকে খুশি করতে ৫০ মিলিয়নে এই ডিফেন্ডারকে আনতে কম কসুর করবেন না রিয়াল সভাপতি!

পঞ্চম শর্তে নাম আছে কাসেমিরোর। বিশ্বের দামি ফুটবলারের চাওয়া রিয়াল ছেড়ে কোথাও যেন না যান ব্রাজিলিয়ান হোল্ডিং মিডফিল্ডার। নেইমারের পছন্দের তালিকায় নেই মার্কো আসেনসিওর নাম। এডেন হ্যাজার্ড কিংবা পল পগবা মাদ্রিদে এলে তাদের সঙ্গে খেলতে আগ্রহী ২৬ বছর বয়সী তারকা।

পিএসজি তারকার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা হল, সাদিও মানে কিংবা এমবাপে, কাউকেই পাশে চান না তিনি। নেইমারের মতে, তিনি রিয়ালে গেলে আরেকজন গতিতারকার প্রয়োজন নেই রিয়ালের!

রিয়ালে ১৪ জনের বিদায় আসন্ন

আগামী গ্রীষ্মে রিয়াল মাদ্রিদে কারা আসছেন—এ নিয়ে অনেক কথা, অনেক লেখালেখি হয়েছে। চেলসি প্লেমেকার এডেন হ্যাজার্ডের আগমন প্রায় নিশ্চিত। কোচ জিনেদিন জিদানের পছন্দের নাম ফরাসি মিডফিল্ডার পল পগবা; ব্রাজিলীয় ডিফেন্ডার মার্সেলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য আসছেন ফরাসি লেফটব্যাক ফারল্যান্ড মেন্দি, আর আক্রমণ ভাগে করিম বেনজেমাকে সাহায্য করবেন লুকা জোভিচ।

তবে বাস্তবতা হলো, নতুন খেলোয়াড় আসার আগে কিছু খেলোয়াড়কে অবশ্যই বিদায়ও নিতে হবে। মাদ্রিদ জায়ান্টরা বর্তমান স্কোয়াডের অন্তত ১৪ খেলোয়াড়ের জন্য নতুন ঠিকানা খুঁজছে, যারা সত্যিকার অর্থে পরের মৌসুমে জিদানের পরিকল্পনায় নেই। বর্তমান স্কোয়াডের ১৯ জনের আগামী ৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ওই সময় প্রাক-মৌসুম ম্যাচ খেলতে যুক্তরাষ্ট্র যাবে দলটি। পরের মৌসুমে যারা রিয়ালের স্কোয়াডে থাকবেন, শুধু তাদেরই প্রাক-মৌসুম সফরে নেবেন জিদান। তাতে নতুন মৌসুমে রিয়ালের স্কোয়াড কেমন হবে তার একটা ইঙ্গিতও মিলবে।

গোলকিপারদের মধ্যে বেলজিয়ান তারকা থিবো কোর্তোয়া, ইউক্রেনের আন্দ্রিই লুনিন ও লুকা জিদানের থাকা নিশ্চিত; কোস্টারিকান গোলকিপার কেইলর নাভাসকে বলে দেয়া হয়েছে তিনি চলে যেতে পারেন। রক্ষণে মেন্দি আসতে পারেন, আবার না-ও পারেন। তিনি ছাড়াও রক্ষণে রয়েছেন দানি কারবাহাল, আলভারো অদ্রিওজোলা, সার্জিও রামোস, রাফায়েল ভারানে, নাচো মনরিয়েল ও এডার মিলিতাও।

মিডফিল্ড আরেকটি জায়গা, যেখানে আসতে পারে বড় পরিবর্তন। হয়তো আগামী মৌসুমেই রেড ডেভিলদের লাল জার্সি ছেড়ে রিয়ালের বিখ্যাত সাদা জার্সিতে দেখা যাবে ফরাসি তারকা পগবাকে। ২০১৬ সালে তখনকার বিশ্বরেকর্ড ৮৯ মিলিয়ন পাউন্ড ফি দিয়ে কেনা হলেও ম্যানইউতে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি তিনি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ম্যানইউর সাম্প্রতিক ব্যর্থতা। এ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সেরা চারে না থাকায় পরের মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলা হবে না ম্যানইউর। কিন্তু পগবা তো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে মরিয়া, তাই বিদায় বলতে চান ওল্ড ট্র্যাফোর্ডকে।

এছাড়া সদ্যই ডাচ লিগজয়ী আয়াক্সের ডনি ফন ডি বিক, জুভেন্টাসের মিরালের পিয়ানিচ ও টটেনহামের ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনকে নিয়েও ভাবছে রিয়াল। এদের মধ্যে যেকোনো একজন বার্নাব্যুর মিডফিল্ডে যোগ দেবেন টনি ক্রুস, ক্যাসেমিরো, লুকা মডরিচ, ফেদে ভালভার্দে ও মার্কো অ্যাসেনসিওর সঙ্গে।

আক্রমণভাগে জিদানের আস্থাভাজন হিসেবে থাকবেন চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা বেনজেমা ও ব্রাজিলের তরুণ তুর্কি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। স্যান্টোসের ১৮ বছর বয়সী স্ট্রাইকার রদ্রিগো গোয়েসকে কেনার কথা ভাবছে লস ব্লাঙ্কোসরা। এদের সঙ্গে রিয়ালের প্লেনে উঠতে পারেন চেলসি প্লেমেকার হ্যাজার্ড ও জার্মান ক্লাব এনট্র্যাখট ফ্রাংকফুর্টের ২১ বছর বয়সী স্ট্রাইকার লুকা জোভিচ। বসনিয়ান উদীয়মান তারকা জোভিচ এ মৌসুমে ফ্রাংকফুর্টের হয়ে বুন্দেসলিগা ও ইউরোপা লিগে আলো ছড়িয়েছেন।

জিদানের ইচ্ছাপূরণেই বেশকিছু খেলোয়াড়কে নিজ নিজ গন্তব্য খুঁজে নিতে বলা হয়েছে। জিদানের প্রথম অধ্যায়ে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী নাভাস রয়েছেন এ তালিকায়; আছেন ওয়েলস উইঙ্গার গ্যারেথ বেলও। জেসুস ভ্যালেইয়ো কিংবা সার্জিও রেগুলিয়ন হয়তো ২০১৯/২০ মৌসুমে স্যান্টিয়াগো বার্নাব্যুর পরিবর্তে খেলবেন অন্য কোথাও। আবার থিও হার্নান্দেজেরও ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

দানি সেবায়োস ও মার্কোস লরেন্তেও নেই জিদানের পরিকল্পনায়। এছাড়া ম্যাতেও কোভাচিচ, হামেশ রদ্রিগেজ, মার্টিন ওডেগার্ড ও অস্কার রদ্রিগেজদের নিয়েও কোনো পরিকল্পনা নেই জিদানের। কোভাচিচ খেলে যেতে চান চেলসিতেই। কেননা তিনি চান নিয়মিত খেলতে, রিয়ালে গেলে যা সম্ভব নয়। আবার কলম্বিয়ান প্লেমেকার হামেশকে কিনতে চায় রিয়ালের নগর প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। বার্নাব্যুতে ফিরে আসতে পারেন রাউল ডি টমাস ও বোরিয়া মেয়োরাল। বিদায় নিতে পারেন আলোচিত মিডফিল্ডার ইসকো। মনে-প্রাণে বার্নাব্যুতে থাকতে চাইলে আগামী কয়েকটি মাস চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হবে ডিফেন্ডার লুকাস ভাজকেজকে।

গ্রীষ্মকালীন দলবদলে ছাঁটাইয়ের শঙ্কায় থাকা খেলোয়াড়দের তালিকা পূর্ণ করেছেন ব্রাহিম ডিয়াজ ও মারিয়ানো ডিয়াজ। এ দুজন চলতি মৌসুমে খুব একটা খেলার সুযোগ পাননি, পরের মৌসুমেও সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। মার্কা

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri