izmir escort telefonlari
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam

চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধে ছাড় দিচ্ছে না কেউ

usa-china-tw.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৮ মে) :: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখনই বাণিজ্য আলোচনা শুরুতে চীনের যে তেমন গরজ নেই, তা উঠে এসেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে। বৈদেশিক চাপে নতি স্বীকার করতে প্রস্তুত নয় বলে জানাচ্ছে বেইজিং। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বলছে, শাস্তিমূলক শুল্ক থেকে কৃষকদের ভর্তুকি দেয়ার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি চাঙ্গা রাখতে পারবে তারা। এ রকম পরিস্থিতিতে বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির বাণিজ্য সম্পর্ক কোন পথে যাচ্ছে, সেদিকে তাকিয়ে পুরো বিশ্ব।

খবর ব্লুমবার্গ, রয়টার্স, বিবিসি।

চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত একটি সংবাদ সংস্থার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া পোস্টে বলা হয়, বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে নেয়ার ব্যাপারে আন্তরিক নয় যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক কয়েকটি পদক্ষেপের মাধ্যমে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করেছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানিউচিন বুধবার জানান, চীনের সঙ্গে সমঝোতা প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে তিনি শিগগিরই বেইজিং সফরে যাবেন। কিন্তু চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার জানানো হয়, মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দলের সফর পরিকল্পনা সম্পর্কে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। চীনের টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ে টেকনোলজিস লিমিটেডের ওপর ওয়াশিংটনের কঠোর নিষেধাজ্ঞায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বেইজিং।

সেখানে আরো বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তারা আলোচনা চায়, কিন্তু একই সঙ্গে কিছু ছলচাতুরী করছে, যা আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সমঝোতায় আন্তরিক প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে না, বরং তারা অধিক চাপ প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করে যাচ্ছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র চীনের জনগণের মতামতকে অবজ্ঞা করে, তাহলে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো জবাব পাবে না ওয়াশিংটন।

এ রকম জটিল এক পরিস্থিতিতে এখন অনেকের দৃষ্টি আগামী মাসে জাপানে অনুষ্ঠেয় জি২০’র পরবর্তী সম্মেলনে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি বৈঠক হতে পারে। গত ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনায় জি২০ সম্মেলনে উভয় নেতার সাক্ষাতের মাধ্যমে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা, কিন্তু চলতি মাসে আবার আলোচনা ভেস্তে যায়।

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও কূটনীতিক ঝু শিওমিং বলেন, প্রধান ইস্যুগুলোতে যদি যুক্তরাষ্ট্র ছাড় না দেয়, তাহলে আলোচনায় অংশ নেয়া চীনের জন্য অর্থহীন। তিনি আরো বলেন, ওয়াশিংটনের কঠোর অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের আন্তরিকতা নিয়ে কোনো মোহজালে আবদ্ধ নয় বেইজিং। চীনের অবস্থান এখন কঠোর হতে বাধ্য এবং তারা চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কোনো তাড়াহুড়োর মধ্যে নেই।

ঝু মনে করেন, বৃহস্পতিবারের মন্তব্যের মাধ্যমেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এটা পরিষ্কার করে নিয়েছেন নিকট ভবিষ্যতে কোনো বাণিজ্য আলোচনা হচ্ছে না। মুখপাত্র গাও ফেং বলেন, কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে চীনের তিনটি প্রধান উদ্বেগের সুরাহা করতে হবে। ওয়াশিংটনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বাণিজ্য আলোচনার পরিবেশ ‘মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’

শুক্রবার চীন সরকারের তরফ থেকে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের বিপরীতে ‘যুক্তিযুক্ত মাত্রায়’ পাল্টা পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের মুখপাত্র মেং ওয়েই বেইজিংয়ে এক সংবাদ বিবৃতিতে জানান, মার্কিন শুল্কের প্রভাব খতিয়ে দেখছে কমিশনটি এবং ‘প্রয়োজনে পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ’ করবে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংকটে বেইজিংয়ের সামনে কোন পথ খোলা, সে বিষয়ে বিবিসি কয়েকটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছে। প্রথমত. ট্রেজারি হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ড বিক্রি করে দিতে পারে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত উপাত্তে জানা গেছে, গত মার্চে আড়াই বছরের সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বন্ড বিক্রি করে দিয়েছে। মার্কিন বন্ডের সবচেয়ে বড় গ্রাহকের এ পদক্ষেপে ডলারের মূল্য কমে যাবে, যা অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।

চীনের সামনে আরেকটি যে পথ খোলা আছে, তা হলো ইউয়ানের মান কমিয়ে ফেলা। সাম্প্রতিক সময়ে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কয়েকবার ইউয়ানের মান কমিয়েছে। ইউয়ানের মান কমালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্যের দাম কম পড়বে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি সহজেই চীনা পণ্য ক্রয় করতে পারবে এবং মার্কিন শুল্কের তেমন প্রভাব পড়বে না।

তৃতীয় যে পথটি খোলা আছে, তা হলো বিদেশী বিনিয়োগ কমিয়ে ফেলা। চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে এত দিন সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই)। কিছুটা প্রতিকূল ব্যবসায় পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও বৈদেশিক কোম্পানিগুলোর জন্যও মুনাফা ঘরে তোলার সুযোগ করে দিয়েছে চীন। ২০১৮ সালে বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যে তিক্ত বাণিজ্যযুদ্ধ চললেও বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক এফডিআই প্রাপক দেশ ছিল চীন। বিভিন্ন প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, দেশটির কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা সংস্থা ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কাউন্সিল এখন থেকে বৈদেশিক বিনিয়োগের বিষয়টি দেখাশোনা করবে। জাতীয় নিরাপত্তার ওপর ভিত্তি করে বৈদেশিক বিনিয়োগ অনুমোদন করতে পারে সংস্থাটি।

Share this post

PinIt
scroll to top
bedava bahis bahis siteleri
bahis siteleri