যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের

trump.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৭ মে) :: আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন  সামনে রেখে অভিবাসন নিয়ে নিজের নতুন পরিকল্পনা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন পরিকল্পনায় পরিবার রয়েছে এমন ব্যক্তিদের বদলে তরুণ, শিক্ষিত, ইংরেজিভাষী আবেদনকারীদের উৎসাহিত করার জন্য মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। ২০২০ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় পরিকল্পনাটি জোরেশোরে সামনে আনতে চান ট্রাম্প। খবর রয়টার্স।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, যদি কোনো কারণে আমরা ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে এ মেধাভিত্তিক, উচ্চনিরাপত্তাসম্পন্ন পরিকল্পনার অনুমোদন না পাই, তবে নির্বাচনের পর পরই আমরা এটা পাস করিয়ে নেব। তখন হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস, সিনেট এবং অবশ্যই প্রেসিডেন্সিও আমাদের থাকবে।

ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা ডেমোক্র্যাট ও অভিবাসন পরামর্শদাতা সংস্থাগুলোর ব্যাপক সমালোচনা মুখে পড়ার পর এ বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। মূলত আগামী বছর প্রেসিডেন্সিয়াল ও কংগ্রেশনাল নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের একত্রিত করাই পরিকল্পনাটির লক্ষ্য, যাদের অনেকেই অভিবাসন জোরদারের পক্ষে, আবার অনেকেই আরো কঠোর অভিবাসন চান।

বর্তমানে প্রতি বছর ১১ লাখ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের অনুমোদন পায়। এ অভিবাসীদের দুই-তৃতীয়াংশই পারিবারিক সম্পর্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের গ্রিন কার্ড পেয়ে থাকে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় সামগ্রিক অভিবাসীর সংখ্যা স্থিতিশীল রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবনাটিতে কেবল ‘মেধাভিত্তিক’ ব্যবস্থাটি যুক্ত করা হয়েছে, যেমনটা কানাডায় প্রচলিত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ৫৭ শতাংশ গ্রিন কার্ড কর্মসংস্থান ও দক্ষতার ভিত্তিতে হবে। প্রস্তাবনায় লটারি ব্যবস্থারও অবসানের কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প জানান, আমাদের অভিবাসন আইন কোম্পানিগুলোকে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন, এমনকি প্রতিভাবান কর্মী নেয়ার সুযোগ থেকে বিরত রাখায়  তারা অন্যান্য দেশে কার্যালয় সরিয়ে নিচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্পের এ পরিকল্পনায় দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীর ভাগ্য ও ‘ড্রিমার’দের নাগরিকত্ব সুরক্ষার বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা  যেসব শিশু এখনো দেশটির নাগরিকত্ব পায়নি; তাদের  ‘ড্রিমার’ নামে ডাকা হয়। কিন্তু এ বিষয়গুলোকেই অভিবাসন ইস্যুতে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন ডেমোক্র্যাটরা।

ট্রাম্পের এ পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে ডেমোক্রেটিক হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি বলেন, তার এ পরিকল্পনা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল হয়ে গেছে। প্রস্তাবনাটি খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু ছিল না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri