চকরিয়ায় চিংড়িজোনে অস্ত্রধারীদের হামলায় আহত ঘের কর্মচারীর মৃত্যু

Chakaria-Picture-18-05-2019.jpg

এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া(১৮ মে) :: চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর কক্সবাজারের চকরিয়ায় চিংড়িজোনে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত বেলাল উদ্দিন (৩৮) নামের এক ঘের কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে দশটার দিকে তিনি চমেক হাসপাতালে মারা গেছেন।

গত সোমবার চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরনদ্বীপের একটি চিংড়িঘেরে হামলায় আহত হন বেলাল। নিহত ঘের কর্মচারী বেলাল উদ্দিন উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব ডুমখালী গ্রামের জাফর আলমের ছেলে।

নিহত পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, বেলাল উদ্দিন দীর্ঘ সময় ধরে চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের চরণদ্বীপে অবস্থিত একই ইউনিয়নের বুড়ি পুকুর এলাকার আবদুস সালামের ছেলে ছাবের আহমদের চিংড়িঘেরে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতো। গত সোমবার (১৩ মে) রাত ৩ টার দিকে মাছ লুটের অজুহাতে একদল দুর্বৃত্ত ওইঘেরে হানা দেন। এসময় বাঁধা দিতে গেলে হামলাকারীরা ঘেরকর্মচারী বেলাল উদ্দিনকে মারধরের একপর্যায়ে হাত কেটে দিয়ে মারাত্মক আঘাত করে।

নিহত বেলাল উদ্দনের পরিবারের দাবি, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক আহত বেলাল উদ্দিনকে উদ্ধারে ঘটনাস্থলে গেলে দেখতে পান ৮-১০জন অস্ত্রধারী দুর্বৃত্ত সেখানে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ডুমখালী গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪৫), একই এলাকার ইউসুফ মিয়ার ছেলে আবদুর রহমান (২৮), ফরিদ আলমের ছেলে নেজাম উদ্দিন (২৬) ও পূর্ব ডুমখালী গ্রামের ছৈয়দ আহমদের ছেলে মনছুর আলম (২৮) সহ কয়েকজনকে সনাক্ত করেছেন পরিবারের লোকজন।

পরিবার সদস্যরা জানান, ওইসময় তাঁরা কেন বেলাল উদ্দিনকে কুপিয়ে জখম করেছে সেঘটনা জানতে চেষ্ঠা করলেও অস্ত্রধারীদের হুমকির মুখে পরিবার সদস্যরা কোনমতে আহত বেলাল উদ্দিনকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর আহত বেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ডুমখালী এলাকার মেম্বার মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন। তিনি বলেন, বেলাল উদ্দিন একজন সহজসরল লোক। তিনি কোনমতে চিংড়িঘেরে শ্রমিকের কাজ করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতো। শুনেছি, ঘটনার আগে চরনদ্বীপে তার কর্মস্থল চিংড়িঘেরে কাঁকড়া বিক্রির বিষয় নিয়ে ঘেরে কমর্রত এক শিশুটিকে শাসন করতে গিয়ে চর-থাপ্পর মারে।

পরে বিষয়টি ঘের মালিক ছাবের আহমদ ও স্থানীয় লোকজন বসে সমাধান করে দেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ঘটনার সুত্র ধরে শিশুটির স্বজনরা চিংড়িঘেরে হামলা চালিয়ে মর্মান্তিক ঘটনাটি সংগঠিত করেছে।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, হামলায় আহত চিংড়িঘের কর্মচারীর মৃত্যুর ঘটনাটি শুনেছি। তবে বিষয়টির আলোকে এখনো থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri