কক্সবাজারে ২ লাখ ২৫ হাজার ৭০২ মেট্রিক টন ‘বোরোর’ বাম্পার ফলন : ক্রয় কার্যক্রমে ধরিগতি

rice-coxsbazar.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(২১ মে) :: অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলায় ২ লাখ ২৫ হাজার ৭০২ মেট্রিক টন বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা অভিযোগ করেছেন তাঁরা ধানের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।আর সরকারীভাবে এখনও পুরোপুরি ক্রয় কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। জেলায় উৎপাদনের এক শতাংশ ধান সরকারিভাবে কেনা হচ্ছে। বাকি ৯৯ শতাংশ ধান কৃষককে স্থানীয় বাজারে কম দামে বিক্রি করতে হবে।

জেলা উপ-সহকারি কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশীষ কুমার দে কক্সবাংলাকে বলেন, জেলায় এবার বোরো আবাদ হয়েছে ৫৬ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে। আর উৎপাদনের লক্ষমাত্রা রাখা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৪৭ মেট্রিক টন।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক পর্যবেক্ষণ আর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করায় গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে এবার ৯৭ মেট্রিক টন বেশি উৎপাদন হয়েছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জেলার প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার কৃষক বোরো চাষ করেছে।আর চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জেলায় ২ লাখ ২৫ হাজার ৭০২ মেট্রিক টন বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান সার-কিটনাশকের স্বাভাবিক সরবরাহ, সর্বোপরি চাষ উপযোগী আবহাওয়া, পোকা-মাকড়ের কম উপদ্রব ও যথাযথ পরিচর্যায় এবছর বোরোর এমন ভাল ফলন। তিনি জানান জেলায় এবার চকরিয়ায় সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন বোরো উৎপাদিত হয়েছে। এছাড়া পেকুয়ায় ২৯ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন,মহেশখালীতে ২৮ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন,সদরে ২৫ হাজার ৮৩২মেট্রিক টন,রামুতে ২২ হাজার ৮৬৬ মেট্রিক টন,কুতুবদিয়ায় ৯ হাজার ৯৩২ মেট্রিক টন এবং সবচেয়ে কম টেকনাফে উৎপাদিত হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৪৭৬মেট্রিক টন।

তিনি আরও জানান,জেলায় ২ লাখ ২৫ হাজার ৭০২ মেট্রিক টন বোরোর বাম্পার ফলনেরমধ্যে উফশী জাতের উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৬০ মেট্রিক টন, হাইব্রিড ৪৯ হাজার ২২৯ মেট্রিক টন এবং স্থানীয় জাত উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৪৮৭ মেট্রিকটন।ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা কৃষককে আনন্দিত করেছে। তবে বোরোর বাম্পার উৎপাদন হলেও ধানের ন্যায্য দাম নিয়ে চাষীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে এবং লোকসানের ভয়ে শংকিত। আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনার জন্য।

এদিকে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দেবদাস চাকমা কক্সবাংলাকে জানান,চলতি মৌসুমে খাদ্য বিভাগ সরকারীভাবে ৫৪৫ মেট্রিক টন চাউল এবং ২০৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের বরাদ্দ পেয়েছে। এছাড়া জেলার ৫৪জন মিলারের মাধ্যমে ৪ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ক্রয় করবে। আর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে চাউল প্রতি কেজি ৩৫ টাকা এবং ধান ২৬ টাকা।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আরও জানান, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার জন্য কৃষি বিভাগে তালিকা নেওয়া হয়েছে। তারা তালিকা ও উৎপাদনের তথ্য নিয়ে ৮ উপজেলার তালিকাভূক্ত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় শুরু হয়ে গেছে। উখিয়া উপজেলায় ইতিমধ্যে ৩ হাজার কেজি চাল ক্রয় করা হয়েছে।

এদিকে সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন, কৃষকরা ধানের যদি ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বার বার বঞ্চিত হতে থাকেন এবং লাভের বদলে দিনের শেষে তাঁদের লোকসান গুনতে হয় এর পরীনতি হবে অচিন্তনীয়। তাদের আশংকা কৃষকরা যদি ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে খাদ্যশস্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জনের গর্ব নস্যাৎ হয়ে যেতে পারে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri