পেকুয়ায় মৃত গরুর মাংস বিক্রি : বাজার সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা

cow-meat.jpg

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(২২ মে) :: পেকুয়ায় বনকানন বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। চকরিয়া সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নালিশি অভিযোগ প্রেরন করে। বিজ্ঞ হাকিম ওই অভিযোগ আমলে নিয়েছেন।

উপজেলার টইটং ইউনিয়নের বনকানন বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফরিদ মাঝিসহ এ অভিযোগে ৯ জনকে নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জনসহ ১৩ থেকে ১৫ জনকে বিবাদী করে। ২০ মে সোমবার এ নালিশি অভিযোগ আদালতে রুজু হয়েছে।

বাদীর নাম শাহিদা বেগম (৪২)। তিনি টইটং ইউনিয়নের মধুখালী গ্রামের আবদুল জলিল প্রকাশ জলুর স্ত্রী। যার সিআর নং ৫৫৮/১৯। মামলায় টইটং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি মাঝেরপাড়া গ্রামের কালা বাসির ছেলে জাকের আহমদকে ১ নং আসামী করে।

এ ছাড়া তার ভাই জসিম উদ্দিন ও জমির উদ্দিনকেও আসামী করা হয়েছে। আর্জিতে বাদী শাহিদা আক্তার জানায়, ১৩ মে দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আসামীরা বাদীর বসতবাড়িতে হানা দেয়। এ সময় তাকে পিটিয়ে আহত করে। মালামাল ও নগদ টাকা লুট করে। তিনি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।

এ দিকে স্থানীয় সুত্র জানায়, বাদীর আনীত ওই অভিযোগ কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন। বাদী মুলত আর্জিতে নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে যে ঘটনা আনায়ন করেছেন সেটি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে। চলতি ১৫ মে টইটং ইউনিয়নের বনকানন বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ মাংস সহ ৪ জনকে পুলিশ আটক করে। ওই দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পেকুয়া থানা পুলিশ বনকানন বাজারে অভিযান চালায়।

এ সময় মাংসসহ ওই ৪ জনকে আটক করে। স্থানীয় সুত্র জানায়, বনকানন বাজারে একটি মৃত গরু জবাই করে দুবৃর্ত্তরা মাংস বিক্রি করছিলেন। মাংস নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরী হয়। তারা গরুর মাংস বিক্রি না করতে প্রতিবাদ জানায়।

এ সময় বাজার সভাপতি ফরিদ মাঝিসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা ওই স্থানে গিয়ে মাংস বিক্রি বন্ধ করে দেয়। পুলিশ এসে মাংসসহ অভিযুক্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করে। পেকুয়া থানায় চোরাই গরু মৃত অবস্থায় জবাই করে মাংস বিক্রি করায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে ওই দিন পেকুয়া থানায় মামলা রেকর্ড করে।

আসামীরা বর্তমানে জেল হাজতে। মামলার প্রধান আসামী আবদুল জলিল প্রকাশ জলুর স্ত্রী সাহিদা বেগম সিআর মামলাটি পরবর্তীতে চকরিয়া সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রুজু করে। গরুর মালিক জাকের আহমদ থানায় দায়েরকৃত মামলার বাদী। তিনিসহ বনকানন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ফরিদ মাঝিও ওই নারীর মামলায় আসামী হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানায়, বাদীর স্বামী আবদুল জলিল পাহাড়ে বসতবাড়ি করেছেন। বিভিন্ন সময় অপকর্মে লিপ্ত থাকে। ওই দিন বনকানন বাজারে আবদুল জলিলসহ চোর সিন্ডিকেট একটি মরা গরু জবাই করে। আমরা মাংস বিক্রিতে বাধা দিয়েছিলাম। ফরিদ মাঝি সভাপতি তিনি এসে মাংস বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। গরুটির মালিক মাঝেরপাড়ার জাকের আহমদ। তার গরু চুরি হয়েছিল। সেটি ওই চক্র জবাই করেছে। মালিক বাদী হয়ে থানায় মামলা রুজু করে। তবে শাহিদা বেগম স্বামী জেলে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়েছেন। এর জের ধরে পরবর্তীতে কোর্টে সিআর এ মামলাটি রুজু করে। প্রতিবাদ স্তব্দ করতে ওই নারীর মুলত এ মামলাটি।

টইটং ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানায়, ফরিদ মাঝিসহ সবাই নিরীহ। মুলত বাজারে মৃত পশু জবাই নিয়ে বিরোধের সুত্রপাত। মামলাটি প্রতিশোধমুলক।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri