izmir escort telefonlari
porno izle sex hikaye
çorum sürücü kursu malatya reklam

ধান চাষীরা ক্ষোভে-বিক্ষোভে খবর নেই কৃষক লীগের

rice-fire.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২২ মে) ::ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ধান চাষীরা ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফেটে আছেন। দেশের দু–এক জায়গায় কৃষকরা ন্যায্যদামের দাবিতে তাদের ধান ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে আন্দোলনও করেছেন। কেউ কেউ আবার উদ্বৃত্ত ধান মহাসড়কে ফেলে দিয়ে প্রতিবাদও করেছেন। ক্ষেতের ধান না কাটার অনিচ্ছার কথাও বলেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। এমন পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় নিজ নিজ এলাকায় কৃষকদের ধান কাটাসহ সর্বাত্মক সহযোগিতার কথা জানিয়েছে ছাত্রলীগ।

এরইমধ্যে সংগঠনটি ঘোষণা দিয়েছে কৃষকের পাশে থেকে কৃষকদের ধান কেটে দেবে তারা। কিন্তু এতো কিছুর পরেও তেমন কোনও কর্মসূচির দেখা মেলেনি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ও কৃষকদের সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘কৃষক লীগ’ এর। তাদের এই নীরবতা কিংবা উদাসীনতাকে কৃষকদের পাশে থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তবে কৃষকলীগের নেতৃবৃন্দ দাবি, তারা জেলা পর্যায়ে কৃষকদের পাশে রয়েছেন।

সংগঠনটির দৃশ্যমান কর্মকাণ্ড কেনো এখনও দেখা যায় নি জানতে চাইলে সংগঠনের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা বলেন, সরকারি দল হয়ে আমরা কী করে রাস্তায় কর্মসূচি দেই।

দাম কম হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জায়গায় কৃষকরা ধান কাটতে বেশ কিছুদিন ধরেই অনিচ্ছা জানিয়েছেন। এমন অবস্থায় দেশের বিভিন্ন স্থানের শিক্ষার্থীরা কৃষকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। কৃষকদের ক্ষেতের ধান কেটে দিয়েছেন তারা বেশ কয়েক দিন আগে। যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সহযোগিতার হাত নিয়ে কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ছাত্রলীগও। কিন্তু কৃষকদের নিয়ে সংগঠন কৃষক লীগ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে দৃশ্যমান কোনও কর্মসূচি দেখতে পাওয়া যায় নি।

তবে কৃষক লীগ নেতাদের দাবি, কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্য দাম পান সে জন্য প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে লিখিত আকারে দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে তারা দেখা করেছেন। জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোকে কৃষকদের পাশে থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লা দৈনিক জাগরণকে জানান, ‘এরইমধ্যে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। কৃষিমন্ত্রীকে বলেছি, কৃষকরা শেষ হয়ে যাচ্ছে, এক মণ ধান বিক্রি করে একজন লেবারের টাকা দিতে পারে না। কৃষকরা সর্বশান্ত হয়ে যাচ্ছে। এমন চলতে থাকলে কৃষকরা ভবিষ্যতে আর ধান চাষ করে আগ্রহী হবেন না।

কৃষক লীগ থেকে তো এখনও কোনও কার্যকর বা দৃশ্যমান কর্মসূচি দেখতে পাওয়া যায় নি। ভবিষ্যতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বড় ধরনের কোনও কর্মসূচি দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে মোতাহার হোসেন মোল্লা বলেন, আমরা তো সরকারি দল। আমরা তো রাস্তায় ব্যানার নিয়ে দাঁড়াতে পারি না। আমরা সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবির কথা বলেছি।

কেনো রাস্তায় দাঁড়াতে পারেন না- জানতে চাইলে কৃষকলীগ সভাপতি প্রশ্নের সুরে বললেন, সরকারি দল হয়ে আমরা রাস্তায় কী করে কর্মসূচি দেই?

কৃষকদের বিষয়টিকে আপনাদের প্রধান্য দেয়া উচিত কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারিভাবে যেখানে যেখানে যা বলার, আমরা বলেছি।’ এ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সাথে খুব দ্রুত সাক্ষাৎ করবেন বলে জানান কৃষকলীগ সভাপতি।

কৃষকলীগ সভাপতি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, ধান কেনার নির্দেশ (সরকারিভাবে) দিয়ে দিচ্ছি। অসুবিধা নেই।’’ তবে আমরা প্রধানমন্ত্রী কাছে দাবি জানিয়েছি, কৃষকদের ভর্তুকি দিতে হবে। কারণ কৃষক ৫০০ টাকার বেশি ধান বিক্রি করতে পারে না। ২-৩’শ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। এ জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।’’

কৃষক লীগের এ সব কর্মকাণ্ড প্রচার না হওয়ায় সংগঠনের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি-না এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোতাহার হোসেন মোল্লা বলেন, এ কথা ঠিক। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কর্মসূচি করলে ভাল হতো। তবে আমরা সরকারে থাকায় একটু কৌশল অবলম্বন করেছি। তবে কৃষকদের পাশে থেকে যা যা করণীয়, তা সব কিছু করে যাচ্ছে কৃষকলীগ।

কৃষক লীগ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন। ১৯৭২ সালে কৃষকদের স্বার্থ ও দেখভালের জন্য এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা হয়। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৯ জুলাই সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়। ৩ বছরের কমিটিও এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। শুধু কেন্দ্রীয় কমিটি নয়, জেলা পর্য়ায়ের কমিটিগুলোও মেয়াদোত্তীর্ণ। এ সব কারণে কৃষক লীগের কর্মকাণ্ড অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। এ জন্য সারা দেশে ধানের দাম কম হওয়ার পরও তেমন কোনও কর্মসূচি নেই কৃষক লীগের। সংগঠন গতিহীনতার জন্যই এমনটাই হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এক কেন্দ্রীয় নেতা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কেন্দ্রীয় নেতা অভিযোগ করে বলেন, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক একজন আইনজীবী। তিনি পার্টির জন্য তেমন একটা সময় দিতে পারেন না। কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আরও ৩০-৩৫ জন আইনজীবী রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেক্রেটারি আইনজীবী হওয়ায় সংগঠনে আইনজীবীর সংখ্যা একটু বেশি।

এই প্রতিবেদকের কাছে তিনি দাবি করে বলেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতি যথেষ্ট সময় দিলেও সাধারণ সম্পাদক সময় দিতে পারেন না। তার কারণে সংগঠন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ দলের সূত্রে জানায়, আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের মধ্যে কৃষক লীগ গুরুত্ববহ হলেও সারা দেশে তেমন কোনও কর্মসূচি নেই সংগঠনটির। দলীয় দিবস পালন ভিত্তিক কিছু কর্মসূচি থাকলেও কৃষকদের পাশে থেকে জোরালো কোনও কর্মসূচি দিতে দেখা যায়নি এই সংগঠনটিকে।

কৃষকলীগের তৃণমূল নেতাদের মন্তব্য, সংগঠন হিসেবে কৃষকলীগের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এর কারণ হিসেবে দায়ী করছেন দুর্বল নেতৃত্বকে। এই দুর্বল নেতৃত্ব কাটাতে শিগগিরই সংগঠনের সম্মেলন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

কৃষকলীগ জানায়, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে কৃষকলীগের সম্মেলন হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। অপর দিকে জেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোও ঝিমিয়ে পড়েছে। এই সংগঠনের অনেক জেলা কমিটি ৬-৭ বছরের পুরনো।

এদিকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেছেন, সংগঠনের সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার ভার্কুতা ইউনিয়নের কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা। তাদের সংগঠনের কর্মীরা কৃষকদের ক্ষেতে ধান কেটে দিয়ে সহাযোগিতা করবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bedava bahis bahis siteleri
bahis siteleri