কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২১ মাসে খুন ৩১জন, মামলা ৩২৮টি : বাড়ছে সন্ত্রাসী কার্যক্রম

rohingya-camp-balukhali-5-drone.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(২৫ মে) :: মিয়ানমারের নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট পর ৭ লাখ ৪১ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। আগের প্রায় ২ লাখের সাথে মোট ১২ লাখ বাস্তুচ্যূত রোহিঙ্গার ঠাঁই হয়েছে কক্সবাজোরের ৩৪টি ক্যাম্পে।

এ সুযোগে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে। বাড়ছে অপরাধ। ছিনতাই, অপহরণ, খুনের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের একটি চক্র। এরই মধ্যে এ চক্রটি ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত। তাদের উৎপাতে ধৈর্য হারাচ্ছে স্থানীয়রা। উচ্ছৃঙ্খল রোহিঙ্গাদের বেপরোয়া আচরণে স্থানীয়রা পড়েছে হুমকির মুখে।

নির্যাতন-নিপীড়নের মুখে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা নিরীহ রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশ বহুমুখী সমস্যার মুখে রয়েছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও। তবে আশ্রয় নেওয়া এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে গোপনে সক্রিয় ‘সন্ত্রাসী চক্র’ এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েকটি ঘটনা এরই মধ্যে সমালোচিত হচ্ছে।

উখিয়া বালুখালী ক্যাম্প ঘুরে দেখা যায়,অবকাঠামোগত সমস্যা এবং বিদ্যুৎ না থাকায় রাতের বেলা রোহিঙ্গা ক্যাম্প অনেকটা অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। সেই সুযোগে কিছু রোহিঙ্গা চোরাচালান ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায় নিয়মিত। উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলায় জার্মানির দুই সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় একদল রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী জড়িত ছিল। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, অর্থ ও মূল্যবান মালপত্র ছিনিয়ে নেওয়াই ছিল এই হামলার উদ্দেশ্য।

নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠীর কেউ কেউ পড়িয়ে পড়ছেন অপরাধে। গত ২১ মাসে আশ্রয় শিবিরে খুন হয়েছেন ৩১ জন। অপহরণ, চাঁদাবাজি, চোরাচালানসহ ধর্ষণ ও ডাকাতিসহ নানা অভিযোগে মামলা হয়েছে ৩২৮টি।দিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও রাতে রোহিঙ্গা শিবির অনেকটা অরক্ষিত হয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা অপকর্ম করে পাহাড়ে কিংবা মিয়ানমারে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

এমন অবস্থায় ক্যাম্পের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বিদ্যুতায়ন, সিসি ক্যামেরা এবং কাঁটাতারের বেড়া দেয়ার সুপারি করেছে পুলিশ। ঘটনা বুঝতে পেরে ২৮ ঘন্টা পুলিশ মোতায়েন, রাতে যৌথ বাহিনীর টহল, গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, নয়াপাড়া ক্যাম্পের পেছনের পাহাড়ে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের দুটি গ্রুপ আস্তানা গেড়েছে। দিনে পাহাড়ে আর রাতে ক্যাম্পে চষে বেড়ায় তারা। আবদুল হাকিম ও মো. হাসান এই দুই গ্রুপের নেতা। খুন, ধর্ষণ, ইয়াবা কারবার, মানব পাচার, অপহরণ- এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করছে না।

কক্সবাজারের সচেতন মহল মনে করেন, মিয়ানমার দ্রুত ফিরিয়ে না নিলে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শিকার হতে পারে রোহিঙ্গারা। যা শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বের জন্য হুমকি। আর রোহিঙ্গাদের মিয়ানমার ফিরে যাবার মাধ্যমেই সমাধান হবে মূল সমস্যার।

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno