বাংলায় মমতার ’বিধানসভা’ দখলের প্রস্তুতি বিজেপি’র

bjp-west-bengal-logo.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২৫ মে) :: ভারতে বিজেপির যে ২১টি আসন বেড়েছে তার ১৮টি এসেছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। দুই থেকে একলাফে ১৮টি আসন।বাংলায় বিজেপির উত্থান নজরকাড়া৷ ৪২ আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে ১৮৷ যা ২০১৪-র তুলনায় ১৬টি বেশি৷ গত পাঁচ বছরে ভোট একলাফে ১৭ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশের কিছু বেশিতে৷ লোকসভার নিরিখে রাজ্যে ১২৯টি বিধানসভা আসনে এগিয়ে রয়েছে পদ্ম শিবির৷ রাজ্যে বিকল্প হিসাবে মানুষ ভরসা রাখছেন বিজপিতে৷ এই অবস্থায় মমতার নেক নজরে দলের বহু বিধায়ক৷

লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র লেখচিত্র এটাই। ভারতে লোকসভা নির্বাচনে গেরুয়া বাহিনী যে ঝড় তুলেছে, পূর্ব ভারতের গেটওয়ে পশ্চিমবঙ্গে এই ফলাফল অবশ্যই সাযুজ্যপূর্ণ। কিন্তু এই একটা নির্বাচন বামেদের একেবারে উলঙ্গ করে দিয়েছে। আর শাসক তৃণমূলকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে খাঁদের কিনারায়। ফল এতটাই অপ্রত্যাশিত যে রাজ্যে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র পক্ষে এখন থেকেই বাজি ধরেছে বুকিরা।

দেশের প্রথম লোকসভা ভোট ১৯৫২ সালে রাজ্যে জনসংঘ (এখনকার বিজেপি) আসন পেয়েছিল ২টি। ৬৭ বছর পরে সেই দুই এবার ১৮ হল। অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল ১২টি আসন খুইয়ে ২২টি পেল। কংগ্রেস পেল ২টি। আর বামেরা খাতায় খুলতে পারল না। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, বামেদের ভোট গিয়েছে রামে। ২০১৪ সালে বামফ্রন্ট ২টি আসন পেলেও ভোট পেয়েছিল ৩০ শতাংশ। এবার ২২ শতাংশের বেশি কমে হল প্রায় ৮ শতাংশ। আর ২০১৪-তে পাওয়া বিজেপির ১৭ শতাংশ ভোট বেড়ে পৌঁছল ৪০ শতাংশে। বাম ভোট রামের পক্ষে যাওয়ার ছবিটা দিনের আলোর মত স্পষ্ট।

আপাতদৃষ্টিতে এই ভোলবদল রাম-বামের মধ্যে হলেও এতে অশনি সংকেত দেখছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভার মধ্যে ২০১৬ সালের নির্বাচনে ২১১টি দখল করেছিল তৃণমূল। আর বিজেপি পেয়েছিল ৩টি আসন। চলতি লোকসভা ভোটের বিচারে ১২৯টি বিধানসভা কেন্দ্রে এগিয়ে গিয়েছে বিজেপি। মমতার দল এগিয়ে ১৫৮টি আসনে। পরিস্থিতি যা, তাতে দু’বছর পর ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে এই রাজ্যে মমতা সরকারের মৃত্যুঘণ্টা বেজে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। আর এই কারণেই আতঙ্কিত তৃণমূল। দিল্লি থেকে মোদি সরকারের বিদায় ঘণ্টা বাজাতে আদাজল খেয়ে নেমেছিলেন মমতা। সেই আশায় এক বালতি চুনা পরে গেলেই রাজ্যে ক্ষমতায় থাকার সুবাদে তবু একটা সান্ত্বনা ছিল। সেই শান্তিও এখন বিপন্নতার মুখে। এই ভোট দেখিয়ে দিয়েছে, রাজ্যের ভোটাররা ধর্মের ভিত্তিতে প্রায় আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছেন।  এই ছবি আগামী দু’বছরে বদলাবে, সেই আশা কম। বরং তা আরও বাড়তে পারে।

তৃণমূলের অন্দরের খবর, মমতার আতঙ্ক আরও বাড়িয়েছে দল ভাঙ্গনের সম্ভাবনা। ভোটের প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন, তৃণমূলের ৪০ জন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের দাবি ছিল, যোগাযোগ রাখা বিধায়কের সংখ্যা ১০০-এর বেশি। দাবি যাই হোক, গেরুয়া বাহিনীর এই উত্থানে শাসক দল যে ভাঙ্গবে, তা নিশ্চিত। সেই ভাঙ্গনের বহর কত, তা বুঝতে আরও কয়েক মাস লেগে যাবে। তবে ঘটনা হল, ১৫৮টি বিধানসভায় এগিয়ে থাকায় ২০২১-এ বিজেপি যে বারতি অক্সিজেন নিয়ে মাঠে নামবে, তাতে কোনও সন্দেহ।

লোকসভার ফলে অবশ্য ভয়ের কিছু নেই বলে দাবি নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক বহু তৃণমূল নেতার৷ দুটি নির্বাচনের প্রেক্ষিত আলাদা বলে বিজেপির দাবি ওড়াচ্ছেন তারা৷ তবে চোরা গেরুয়া স্রোত নজরে পড়তেই তড়িঘড়ি কালীঘাটে পর্যালোচনা বৈঠকের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ড্যামেজ কন্ট্রোল কীভাবে করবেন মমতা?

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno