কক্সবাজারের আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জেহাদে উদ্বুদ্ধ করছে বহু এনজিও

rh-camp-coxbangla.jpg

কক্সবাংলা রিপোট(৩১ মে) :: কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জঙ্গি কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, ‘বহু এনজিও ওদের (রোহিঙ্গাদের) রেডিক্যালাইজড করছে, জেহাদে উদ্বুদ্ধ করছে। এই তহবিল শুধু মধ্যপ্রাচ্য থেকে নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকেও আসছে।

ইংল্যান্ডের ব্যাপারে আমরা সবাই জানি: সেখানকার কয়েকটা এনজিও ইসলামের নাম নিয়ে এখানে রোহিঙ্গাদের মধ্যে কাজ করছে। তাদের বলছে যে, কেউ ফেরত যাবে না, জেহাদ করে আরাকান দখল করতে হবে, কক্সবাজার-বান্দরবানের অংশ এবং আরাকান নিয়ে একটা স্বাধীন রোহিঙ্গা মুসলিম রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) রাতে একাত্তর টিভির টক শো  ‘একাত্তর জার্নাল’-এর ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেছেন তিনি।

রোহিঙ্গাদের জঙ্গি কার্যক্রমে জড়ানোর পেছনে জামায়াতকে দায়ী করেছেন শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা এদেশে এসেছে ১৯৭৯ সালে। আবারও নতুন যে ঢল নামলো ২০১৭ সালে, তার আগে ২০০৫ সালে আমাদের জরিপে ১২৫টা মৌলবাদী-জঙ্গি সংগঠনের তালিকা তৈরি করেছিলাম, তারমধ্যে ১৭টি ছিল রোহিঙ্গাদের। আরএসও-এর এক কর্মী সাক্ষাতকারে বলেছিল- যারা এখানে আসছে তারা ওখানে সবাই গণহত্যা-নির্যাতনের শিকার। অত্যন্ত গরিব মানুষ, এরা খুবই অসহায়। দারিদ্র্য এবং অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে জামায়াতিরা তাদের বিভিন্নরকম জঙ্গি কার্যক্রমে রিক্রুট করেছে।’

সেই আরএসও-কর্মীকে প্রশিক্ষণের জন্য জামায়াতের পক্ষ থেকে লিবিয়া পাঠানো হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন,‘ ওই ছেলেই আমাকে বললো- সে (মিয়ানমার থেকে এদেশে) এসেছে, তারপর জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ হলো। এরপর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তাকে লিবিয়া পাঠানো হয়। তবে হাঁটুতে আঘাত পাওয়ার জন্য তাকে ফিরে আসতে হয়েছে।’

স্থানীয়রা রোহিঙ্গাদের কারণে বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. আয়াছুর রহমানি। অডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, ‘মানবতাকে পুঁজি করে রোহিঙ্গারা সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কাজে জড়িত হয়েছে। নিজেদের মধ্যে মানব পাচার ও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। তারা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে পড়েছে। বিভিন্ন জেলায় গিয়ে পাসপোর্ট বানিয়ে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তারা নিজেরাই খুন-খারাবিতে জড়িয়ে পড়ছে।’ ইতোমধ্যে কক্সবাজারের বিভিন্ন লোকালয়ে রোহিঙ্গা ঢুকে পড়েছে এবং স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত দেশের আলোচিত কিছু সংবাদ নিয়ে একাত্তর টিভির নিয়মিত আলোচনার আয়োজন ‘একাত্তর জার্নাল’। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপনা করেছেন মিথিলা ফারজানা। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক মানস ঘোষ ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট লীনা পারভীন।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri