নিউইয়র্কে মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রবাসীদের ভীড়

ny-me.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১ জুন) :: দূর দেশে থাকলেও স্বজনদের জন্য মন পড়ে থাকে প্রবাসীদের। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্জিত অর্থ সবসময় প্রবাসীদের কাছে পাঠিয়ে থাকেন তারা। তবে উৎসব আনন্দে সেই টাকা পাঠানোর পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নিউইয়র্কের মানি ট্রান্সপার বা অর্থপ্রেরণকারী প্রতিষ্ঠাগুলোতে ভীড় পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানে প্রবাসীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা পাঠাচ্ছেন। টাকা পাঠিয়ে অনেকের চোখে মুখে আনন্দের ঝলক দেখা যায়। তাদের ভাষায় আমাদের পাঠানো টাকায় স্বজনদের গায়ে ঈদের পোষাক শোভা পাবে এটা ভাবতেই ভালো লাগে।

বুধবার বিকেল ৫ টা। জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি পাøজা সংলগ্ন বাংলা মোবাইলে গিয়ে দেখা যায় দেশে টাকা পাঠানোর জন্য প্রবাসীদের ভীড়। তাদের একজন উডসাইডের ক্যাবি নুরুদ্দিন। তিনি বলেন, কুমিল্লায় থাকা স্বজনদের জন্য ৩০ হাজার টাকা এখনই পাঠালাম। মাসের শুরুতে সবসময় টাকা পাঠাই। এবার পাঠালাম পরিবারের সবাই মিলে যাতে নতুন পোষাকে ঈদ করতে পারেন সে জন্য। আমি যে টাকা পাঠিয়েছি তা দিয়ে সবার ঈদের জামা-কাপড় হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, আমার ছোট বোন ক্লাস থ্রিতে পড়ে। বিশেষ করে সে খুব খুশি হবে। গত কয়েকদিন ধরে সে সবাইকে বলে বেড়িয়েছেন ‘ভাইয়া আমেরিকা থেকে টাকা পাঠাইলে লাল জামা কিনব’।

আরিফা খানম। কাজ করেন ম্যানহাটানের একটি গিফ্ট স্টোরে। কাজ থেকে এসেই দিনাজপুরের স্বজনদের জন্য ২৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শ্বশুর বাড়ীর জন্য ১৫ হাজার টাকা আর মায়ের বাড়ির জন্য ১০ হাজার টাকা। তিনি  বলেন, আমার পাঠানো ২৫ হাজার টাকায় পরিবারের অন্তত ৮জন সদস্যসের ঈদ আনন্দ নির্ভর করবে। ঈদুল ফিতরের সময় পাঠানো টাকা দিয়ে স্বজনরা নতুন জামা কাপড় কিনেন, আর ঈদুল আযহার সময় গরু কোরবানি দেন।

তিনি বলেন, আমি প্রতি বছরই দেশে টাকা পাঠায়। কিন্তু এ বছর এখানে এসে ভীড় দেখছি। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। আমি মনে করছি এবার অনেক মানুষ টাকা পাঠাচ্ছেন।

ইস্ট এলমাস্টের আশিকুর রহমান। কাজ করেন ব্রুকলিনের একটি সাবওয়ে স্যান্ডুউইচের দোকানে। তিনিও দেশে টাকা পাঠিয়েছেন দুই ঘন্টা আগে। তবে একটি তথ্যের জন্য এসেছেন বাংলা মোবাইলে। তিনি বলেন, আমি ফিতরার টাকা পাঠিয়েছি। আমার পরিবারে এখানে ৮জন থাকেন। ফিতরা হিসেবে করে একশ ডলার দেশে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমি প্রতি বছর ফিতরা দেশেই পাঠাই। এবারও তাই হয়েছে। তবে তিন দিন আগে দেশের স্বজনদের জন্যও টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।

বাংলা মোবাইল ও ডিজিটাল ট্রাভেলসের অন্যতম কর্ণধার মো: বেলায়েত হোসেন বলেন, ঈদ নয় যে কোন উৎসবে প্রবাসীরা দেশে অর্থ প্রেরণ করেন। এবারও তাই হয়েছে। আমাদের দুটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় সময় ভীড় লেগেই থাকছে। আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার জন্য কাউন্টারে অতিরিক্তি জনবল নিয়োগ দিয়েছি। কারণ আমরা চাই প্রবাসীদের কস্টের টাকা দ্রুত স্বজনদের হাতে পৌঁছাক এবং বাংলাদেশের রিজার্ভে প্রবাসীদের অবদান থাকুক।

জ্যাকসন হাইটসের ৭৩ স্টিটে রয়েছে বেশক’টি মানি ট্রান্সপার বা অর্থ প্রেরণকারী প্রতিষ্ঠান । প্রভু মানি ট্রান্সপার, স্ট্যান্ডার্ড একচেঞ্জ ও জনতা একচেঞ্জই একই অবস্থা। সবসময় টাকা পাঠানো প্রবাসীদের লাইন থাকে। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্ট্যান্ডার্ড একচেইঞ্জে গিয়ে দেখা যায় বেশ ক’জন প্রবাসী দেশে টাকা পাঠাচ্ছেন। তাদের মধ্যে একজন ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আমি কানেকটিকাট থেকে মাসের বাজার করতে এসেছি। এ ফাঁকে স্বজনদের ঈদের টাকা পাঠিয়েছি। আমার পাঠানো ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ঈদের কেনাকাটা ও ফিতরার টাকা রয়েছে।

থাকেন প্রবাসে কিন্তু দেশে কেন ফিতরা দেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরাতো দেশে কুরবানিও দিই। এছাড়া এখানে একজনের ফিতরা ১২ ডলার। এই ১২ ডলার যদি দেশে একজন গরীব মানুষকে দেয়া যায় তাহলে সেটি তার কাছে দাঁড়াবে এক হাজার টাকা। একজন গরীব মানুষ এক হাজার টাকা পাওয়ার পর কি যে খুশি হবেন সেটি নিশ্চইয় সবাই অনুভব করতে পারবেন।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri