buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort

চীনা পণ্যের ওপর আরেক দফা শুল্ক আরোপ চান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

usa-china-trade-war-trump.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১২ জুন) :: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি মাসে অনুষ্ঠেয় জি=২০ সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় যদি কোনো ফলাফল না আসে, তবে তিনি চীনা পণ্যের ওপর আরেক দফা শুল্ক আরোপের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। ২৮-২৯ জুন ওসাকায় অনুষ্ঠেয় জি২০ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে। সম্মেলনে শির সঙ্গে দেখা করার কথা ট্রাম্প নিজেই বারবার জানিয়েছেন। তবে চীনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বৈঠক নিয়ে কোনো মন্তব্য আসেনি। খবর রয়টার্স।

নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের সমাধানে পৌঁছাতে না পেরে বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতি রেষারেষি করে পরস্পরের পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করছে এবং গত সপ্তাহে চীনা টেলিকম সরঞ্জাম কোম্পানি হুয়াওয়ে টেকনোলজিসকে ওয়াশিংটনের কালো তালিকাভুক্ত করার পর উত্তেজনার পারদ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজেদের মধ্যকার বাণিজ্য দ্বন্দ্ব নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে ওয়াশিংটনে ১০ মে এবং এরপর নতুন করে আলোচনার তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি। ওইদিনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক বৃদ্ধি করেন এবং বাকি চীনা আমদানি পণ্যের ওপরও শুল্ক বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। চীনও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ৬ হাজার কোটি ডলার মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে। সর্বশেষ বৈঠকের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার আলোচনা স্থবির হয়ে রয়েছে।

ট্রাম্প গত সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, ৩০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্কআরোপ করা হবে কিনা, সে বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন শির সঙ্গে বৈঠকের পর। সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, তিনি এখনো মনে করেন জি২০ সম্মেলনে শির সঙ্গে তার বৈঠক হবে।

হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের মধ্যে আলোচনা ও দেখা করা নির্ধারিত রয়েছে। আমি মনে করি, উৎসাহব্যঞ্জক কিছু হতে যাচ্ছে। দেখা যাক কী ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্য ২৫ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।

সোমবার চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে আরো আলোচনার জন্য চীন প্রস্তুত রয়েছে, তবে জি২০ সম্মেলনে শি-ট্রাম্পের মধ্যকার সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে কোনো ঘোষণা দেয়ার কিছু নেই।

নিজেদের মধ্যকার বাণিজ্য বিবাদ মেটাতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস ধরে আলোচনা চললেও সমাধানের দেখা মেলেনি। উল্টো নিজেদের কাঠামোগত অর্থনৈতিক সংস্কার আনার যে প্রতিশ্রুতি চীন দিয়েছিল, তা তারা ভঙ্গ করেছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগের পর ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

হুয়াওয়েকে কালো তালিকাভুক্তি চীনকে বেশ রাগান্বিত করেছে। চীন যুক্তরাষ্ট্রে চিরতরে দুর্লভ খনিজ পদার্থ রফতানি বন্ধের হুমকি দিয়েছে। সোমবার ফেচ রেটিং জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ মেমোরি চিপ, রিচার্জেবল ব্যাটারি ও সেলফোনে দুর্লভ খনিজ পদার্থ ব্যবহার করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং চীনে কিছু খাতও বাদ যাবে না। চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ১৭ ধরনের দুর্লভ খনিজ পদার্থকেন্দ্রিক বিশ্ববাণিজ্যে কিছুটা অস্থিরতা দেখা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্যযুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব যেমন দুই দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে, তেমনি বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি করছে। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থা (আইএমএফ) সতর্ক করে দিয়ে বলেছিল, শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যকার বাণিজ্য বিবাদে আগামী বছর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে এবং আর্থিক বাজারের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্রমেই দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। দুই দেশের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা একটি দীর্ঘযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে সর্বশেষ আর্থিক সংকটের পর চলতি বছর হতে যাচ্ছে বিশ্ববাণিজ্যের সবচেয়ে বাজে বছর।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri