বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেবী শেঠীর ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল উদ্বোধন

debi-sheti-imperial-hospital.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৫ জুন) :: বাংলাদেশের বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বহুল প্রত্যাশার ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ১৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে তার সেবা কার্যক্রম। শনিবার সকাল ১০টায় এ হাসপাতাল উদ্বোধন করেন বিশ্বের খ্যাতনামা কার্ডিয়াক সার্জন, ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর নারায়ণা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা ডা. দেবী শেঠী।

নগরীর পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালের পাশে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল। এর হৃদরোগ বিভাগের চিকিৎসা থেকে শুরু করে যাবতীয় কার্যক্রম ডা. দেবী শেঠীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এই বিভাগের নাম দেয়া হয়েছে ইম্পেরিয়াল-নারায়ণা কার্ডিয়াক বিভাগ।

১৫ জুন সকালে বিশেষ একটি ফ্লাইটে কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম আসেন ডা. দেবী শেঠী। সাথে তাঁর বড় পুত্র বিরেন শেঠীসহ হাসপাতালের একটি টিমও আছে। দুপুরে ডা. দেবী শেঠী ব্যাঙ্গালুরু ফিরে গেলেও তাঁর টিম থেকে যাবে চট্টগ্রামে।

ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. রবিউল হোসেন বলেন,চট্টগ্রাম ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ সেন্টারটি ডা. দেবী প্রসাদ শেঠীর তত্ত্বাবধানে পরিচালনা হবে।ইতোমধ্যে বিভাগটির নামকরণ করা হয়েছে ইম্পেরিয়াল-নারায়ণা কার্ডিয়াক সেন্টার। ভারতের নারায়ণা ইনস্টিটিউট অব কার্ডিয়াক সায়েন্সের চিকিৎসক-নার্সরা এখানে সেবা দেবেন। পুরো সেন্টারটি তারা নিয়ন্ত্রণ করবে। ইতোমধ্যে সব ধরনের যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সাত একর জায়গার ওপর এ হাসপাতাল গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে রয়েছে নার্সেস এবং টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। উন্নতমানের সার্বক্ষণিক জরুরি সেবা এবং ১৪টি মডিউলার অপারেশান থিয়েটার। রয়েছে ১৬টি নার্স স্টেশন ও ৬২টি কনস্যালটেন্ট রুমের বহির্বিভাগ। বিশ্বমানের ৬৪টি ক্রিটিকাল কেয়ার বেড (আইসিইউ ও সিসিইউ) এ হাসপাতালে সংযুক্ত করা হয়েছে। রয়েছে নবজাতকদের জন্য ৪৪ বেডের নিওনেটাল ইউনিট ও ৮টি পেডিয়াট্রিক আইসিইউ।’

তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি সংস্থা এ হাসপাতালের মূল নকশা প্রণয়ন করেছে। একটি ইউরোপিয়ান কনস্যালটেন্ট গ্রুপ এ হাসপাতাল তৈরিতে কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে। হাসপাতালে রয়েছে হেলিপ্যাড। যে কোনো স্থান থেকে হেলিকপ্টারে করে রোগীকে হাসপাতালে আনা যাবে।’

‘সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ (ইনফেকশান কন্ট্রোল), রোগীদের নিরাপত্তা এবং কর্মীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে এ হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। রোগী ও স্বজনদের জন্য হাসপাতালের পাশে থাকার ব্যবস্থা ও আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষিত আছে। এ ছাড়া অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ও হাসপাতাল জৈব বর্জ্য নিষ্কাশনের জন্য সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করার পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে উন্নতমানের স্বাস্থ্য সেবার অপ্রতুলতার কারণে বহু সংখ্যক রোগী বিদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে তাদেরকে আর্থিক, শারীরিক এবং মানসিক চাপের মুখে পড়তে হয়। এ অবস্থা থেকে কিছুটা পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ট্রাস্ট একটি আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

কী আছে চট্টগ্রামের অত্যাধুনিক ইম্পেরিয়াল হসপিটালে

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri