কক্সবাজারের খুরুস্কুলে ‘গৃহবধুর আত্মহত্যা নাকি হত্যা !

suicide-poison.jpg

এম শাহজাহান চৌধূরী(২৫ জুন) :: কক্সবাজার সদরের খুরুস্কুলে এসিড খাইয়ে দিয়ে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। তবে পরিবারের দাবী শ্বাশুড়ি রশিদা জোর করে এসিড পান করিয়ে হত্যা করেছে। গৃহবধুর স্বামী উসমানকে আটক করেছে পুলিশ। অন্য একটি সুত্র বলেছে গৃহবধু আত্মহত্যা করেছে।

২৫ জুন মঙ্গলবার বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ওই গৃহবধূ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ।

কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে থানার এসআাই রাশেদ অভিযান চালিয়ে শহরের হাসপাতাল রোড থেকে উসমানকে আটক করেছে।

জানা গেছে, কক্সবাজার সদরের খুরুস্কুল ইউনিয়নের মধ্যম ডেইলপাড়ার (খেলার মাঠের পাশে) এলাকার জনৈক মৃত কালামিয়ার ছেলে ওসমানের সাথে একই এলাকার দক্ষিণ ডেইলপাড়ার প্রবাসী ফরিদুল আলমের মেয়ের বিয়ে হয় প্রায় ৪ বছর আগে। তাদের সংসারে ২ বছর বয়সী ছেলে সন্তান রয়েছে।

ছামিরা আকতারের পারিবারিক সুত্র জানায়, সিএনজি চালক উসমানের পরকীয়ার ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন কলহ চলে আসছিল। এর জের ধরে রেশ গৃহবধু ছামিরাকে একাধিক বার বাপের বাড়িতে তাড়িয়েও দিয়েছিল।

ছামিরার চাচা ফিরোজ আলম বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় তার ভাতিজী ছামিরাকে উভয় পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতেই শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে আসে।

গৃহবধু ছামিরা আকতার (২৬) এর পারিবারিক সুত্র জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বাড়ীর সবাই মিলে ভাত খাওয়ার সময় গৃহবধু ছামিরাকে পানির বদলে এসিড ভর্তি গ্লাস দেয়া হলে ছামিরা একনিমিষে এসিড পান করে।

গৃহবধু ছামিরার ভাই ফাইরুজ আলম বলেন, তার বোনকে পানির পরিবর্তে এসিড খাইয়ে দেয়ার পর বোনের অবস্থা বেগতিক দেখে আমাদেরকে খবর দেয়া হয় দুপুরে।

আমরা ছামিরার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে আমার বোনকে মুমুর্ষ অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে ভর্তি করা হয়। এসময় আমার বোনের সাথে ছিল ভগ্নিপতি উসমান ও তার বোন। বিকাল সাড়ে ৪টার সময় জেলা সদর হাসপাতাল থেকে তারা কৌশলে পালিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে আমার বোন মারা যান। ওই গৃহবধূর দুই বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে বলে জানান তিনি।

গৃহবধু পরিবারের দাবী, স্বামী ওসমানের মা রাশেূাই তাকে জোর করে এসিড পান করিয়ে হত্যা করেছে। এব্যাপারে তারা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান।

বিকেল ৫ টার দিকে খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার এসআই রাশেদ শহরের হাসপাতাল সড়কে অভিযান চালিয়ে উসমানকে আটক করেছে।

এব্যাপারে কক্সবাজার সদর মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি ফরিদ উদ্দিন খন্দকার পিপিএম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একজন গৃহবধু মারা গেছে সেটা শুনেছি। গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে গৃহবধুর স্বামীকে আটকের সত্যতাও নিশ্চিত করেন তিনি।

এ ব্যাপারে এখনো কেউ অভিযোগ করেননি, তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri