পেকুয়ায় কবরস্থান নিয়ে সংঘর্ষ : আহত-১৭

sngrsa-1.jpg

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(৫ জুলাই) :: পেকুয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। একটি প্রাচীন সময়ের কবরস্থানের বিরোধ নিয়ে গ্রামবাসী ও পল্লী চিকিৎসকের পরিবারের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয়পক্ষের অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছে। কলেজ ও মাদ্রাসা ছাত্রীসহ কয়েকজন নারীও সংঘর্ষে আহত হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে যান।

এ সময় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে দু’পক্ষের মারামারি থেমে যায়। উত্তেজনা প্রশমিত করতে ইউপি চেয়ারম্যান ওই স্থানে গ্রাম পুলিশ পৌছায়। পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

৫ জুলাই (শুক্রবার) দুপুর ২ টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের হিরাবুনিয়া পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন ওই গ্রামের ফরিদুল আলমের স্ত্রী জন্নাত আরা (৩৮), আলী হোসেনের ছেলে আবু বক্কর (২৫), মৃত নাগু মিয়ার পুত্র আলী হোসাইন (৬৭), মৃত এজাহারুল হকের ছেলে শফিউল আলম (৩৯), পেকুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ছাত্রী নুরী জন্নাত সিরু (১৮), শফিউল আলমের ছেলে ও কলেজের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র মামুনুর রশিদ (১৮), জিয়াউর রহমান কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্রী শারমিন আক্তার (১৮), মৃত জাফর আলমের ছেলে মাষ্টার জাকের উল্লাহ হিরু (৩০), আলী হোসেনের স্ত্রী পুতিলা বেগম (৬৩), মৌলভী বাজার মাদ্রাসার আলিম ১ম বর্ষের ছাত্রী জোছনা আক্তার (১৮), মিয়াজানের ছেলে কাইছার (২৫), জামালের ছেলে ইউনুছ (৪৮), বশরত আলীর ছেলে ফজল করিম (৪০), আহমদ হোসেনের ছেলে আমিনুল্লাহ (২৩), কালুর ছেলে মোকাজ্জল (২০), ফজলুল হকের ছেলে জাহাঙ্গীর (৪৩), হাকিম আলীর ছেলে ইলিয়াছ (২২)।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সুত্র জানায়, হিরাবুনিয়া পাড়া গ্রামে ৬০ শতক আয়তনের একটি কবরস্থানের মালিকানা নিয়ে গ্রামবাসী ও পল্লী চিকিৎসক আবদুল গফুর গংদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সোনাইছড়ি মৌজার বিএস ১৪৯ নং খতিয়ানের অন্তর্ভূক্ত ওই কবরস্থানটি। একরাম মিয়া চৌধুরী, আমিন শরীফ মিয়া চৌধুরী ও এমদাদ মিয়া চৌধুরী মিলে বিগত ১২০ বছর আগে ওই কবরস্থানের জন্য জায়গা দান করেন। তারা ৩ জনই সহোদর। পৈত্রিক অংশ থেকে ওই কবরস্থানের জন্য জমি দান করেন।

এ দিকে সম্প্রতি হিরাবুনিয়া পাড়া গ্রামে ওই কবরস্থান নিয়ে বিরোধ প্রকট আকার ধারন করে।

স্থানীয়রা জানায়, হিরাবুনিয়া পাড়ার আলী হোসাইনের ছেলে পল্লী চিকিৎসক আবদুল গফুর ও নাপিতখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওসমান গণি গং খতিয়ানের এজমালি অংশ থেকে জমিদার গংদের পরবর্তী ওয়ারিশদের কাছ থেকে জায়গা খরিদ করেন। দলিলে কবরস্থানের কিছু অংশ জায়গা লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। কবলা গ্রহীতা আবদুল গফুর ও ওসমান গণি গং কবরস্থান থেকে জমি উদ্ধারের প্রচেষ্টা চালায়।

ঘটনার দিন দুপুরে আবদুল গফুর গং ৬০ শতক আয়তনের কবরস্থানের বিপুল অংশ পৃথক করে ওই স্থানে ঘিরা বেড়া দেয়ার চেষ্টা চালায়। এ সময় খবর পেয়ে হিরাবুনিয়াপাড়া গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক লোকজন জড়ো হন। তারা কবরস্থানে গিয়ে পল্লী চিকিৎসক আবদুল গফুর গংদের ঘিরা বেড়া স্থাপন কাজে বাধা দেয়। এর সুত্র ধরে দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক মারামারি ও সংঘর্ষ হয়েছে। উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া হয়। এ সময় উভয়পক্ষ ইটপাটকেল ছুড়ে।

হিরাবুনিয়াপাড়ার বাসিন্দা ডা: শাহাদাত হোসেন চৌধুরী জানায়, ওই কবরস্থানের জন্য আমিও ৫ শতক জমি ওয়াকফ করেছি। ময়েজ উদ্দিন চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি ওই কবরস্থানের জন্য জমি দিয়েছে।

মৌলভী শাহাব উদ্দিন, জমির উদ্দিন, নুরুল ইসলাম, কাজী মাহামুদুল হকসহ গ্রামবাসীাভ জানায়, এটি ১২০ বছর আগের কবরস্থান। আরএস রেকর্ডে সেটি কবরস্থান হিসেবে রেকর্ড ভূক্ত। তবে বিএসে রেকর্ড ক্রুটি ছিল।

এর দুর্বলতায় আবদুল গফুর গং দলিল সৃজন করে। বহু কবর বিলুপ্তি সাধন করে তারা কবরস্থানটির বিশাল অংশ ফসলী জমি বানায়। গফুরের বসতভিটায়ও পাকা কবর রয়েছে। আসলে এরা কবরস্থান কেনার এ দৃষ্টতা কিভাবে দেখায়। মানুষ পরকালের জন্য নির্দিষ্ট স্থান কবরস্থানকে বেচেঁ নেয়। অথচ সেটিকে নিয়ে চক্রান্ত করছে।

পল্লী চিকিৎসক আবদুল গফুর জানায়, আমরা জায়গা ক্রয় করেছি। আমাদের কেনা জায়গায় তারা অন্যায় করছে। চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আমি জিডিও করেছি। এরপর অতর্কিত হামলায় আমার মা, বোন ও পিতাসহ ৯ জনকে জখম করেছে। পেকুয়া থানার এস,আই সুমন সরকার জানায়, খবর পেয়ে আমিসহ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। উভয়পক্ষকে বিরোধপূর্ণ স্থান ত্যাগ করাতে পুলিশ সক্ষম হয়েছে।

টইটং ইউপির চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী জানায়, উভয়পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। যেহেতু কবরস্থান এটি স্পর্শকাতর বিষয়। এখানে কোন বাড়াবাড়ি থাকতে পারে না।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri