পেকুয়ায় মাতামুহুরী পয়েন্টে বেড়িবাঁধ বিলীন : পাহাড় ধসের শংকা

pic-badibad.jpg

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(৮ জুলাই) :: পেকুয়ায় পাহাড় ধসের শংকা তৈরী হয়েছে। উপজেলায় ৩ টি ইউনিয়নে পাহাড় ধসের আশংকায় স্থানীয় প্রশাসন মাইকিংসহ প্রচারনা চালায়।

উপজেলার টইটং, বারবাকিয়া ও শিলখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ন বনাঞ্চল ও রিজার্ভ ভূমিতে হাজার হাজার মানুষ বসতি করছে। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে সরকারের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে এ সব মানুষ অবৈধ বসতি স্থাপন করেছে।

এ সব ইউনিয়নের রিজার্ভ ভূমি ও পাহাড়ের সর্বোচ্চ শিঙ্গে মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। সম্প্রতি পেকুয়াসহ সারাদেশে প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে পেকুয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ৫ দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও প্রবল বর্ষণে পেকুয়ার নিন্মাঞ্চলের বিপুল ভূমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

বিশেষ করে উপজেলার পাহাড়ী তিনটি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ সব এলাকায় পাহাড়ী ছড়াগুলিতে ঢলের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টইটং ইউনিয়নের সোনাইছড়ি ছড়ার উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী প্রচন্ড স্রোতের আঘাতে মধুখালী পয়েন্টে গ্রামীণ সড়ক বিলীন হয়েছে।

বনকানন-মধুখালী সড়কের ছনখোলার জুম পয়েন্টে ছড়া ও সড়ক একাকার হয়েছে। গত কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিপাতে মাতামুহুরী নদীতে পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা প্রচন্ড স্রোত ও ঢলের পানির তীব্রতায় উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের পূর্ব উজানটিয়া রুপালী বাজার পয়েন্টে ৬ চেইন বেড়িবাঁধ বিলীন হয়েছে।

খরস্রোতা মাতামুহুরী নদীর স্রোত ওই পয়েন্টে সরাসরি আঘাত হানে। এতে করে ওই ইউনিয়নের রুপালী বাজারের দক্ষিন অংশে পাউবো নিয়ন্ত্রিত বেড়িবাঁধ বিলীন হয়েছে।

এ ছাড়া উজানটিয়া ইউনিয়নের সুতাচুড়া পয়েন্টেও প্রায় ১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিশ্চিত করেছেন।

গ্রামবাসী জানায়, পূর্ব উজানটিয়ার গোদারপাড় থেকে সুতাচুড়া উল্টানাশি নামক স্থান পর্যন্ত বেড়িবাঁধের প্রায় ১ কিলোমিটার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তারা জানায়, মাতামুহুরী নদীর স্রোতের আঘাতে ওই স্থানের বেড়িবাঁধ অনেক আগে থেকে ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। স্থানীয়রা পানির দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে নিজেরাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেড়িবাঁধে মাটি ভরাট করে আসছিলেন।

বেড়িবাঁধের ওই স্থানে বর্তমানে রিংবাঁধ রয়েছে। স্থানীয়রা ওই রিংবাঁধ নিজেরাই নির্মাণ করেছেন। রুপালী বাজার পয়েন্টে বেড়িবাঁধের খুবই নাজুক অবস্থা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পাউবোর ওই অংশের বেড়িবাঁধ বিলীন হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জনগনকে একত্রিত করে মাটি ও পলিথিনের বস্তা দিয়ে পানি আটকিয়েছেন। উজানটিয়া ইউনিয়নের মধ্যম উজানটিয়ায় নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জনগন জানিয়েছেন পানি চলাচল সাহেবখালী খালে পানি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার নিকটাত্মীয়রা ওই খালে দুটি পয়েন্টে বাঁধ তৈরী করেছে।

তারা মৎস্য শিকারের জন্য পানি চলাচল নিয়ন্ত্রন করছে। এতে করে সাহেবখালি খালের পানি চলাচল থেমে গেছে। জলাবদ্ধতার জন্য ওই দুটি বাঁধকে দায়ী করেছেন গ্রামবাসী।

উজানটিয়া ইউপির চেয়ারম্যান এম,শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানায়, রুপালী বাজার পয়েন্টে বেড়িবাঁধের অবস্থা অত্যন্ত করুন। পাউবোর নজরদারী আহবান করছি। যে কোন মুহুর্তে যে অংশটুকু রয়েছে সেটি মাতামুহুরী নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। ৬ চেইন বেড়িবাঁধ বিলীন ওই স্থানে। গুদারপাড় থেকে উল্টা নাশি পর্যন্ত স্থানেও বেড়িবাঁধ নেই।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri