কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন

bkm-1.jpg

শহিদুল ইসলাম,উখিয়া(১০ জুলাই) :: কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন।রাজধানী ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরের হেলিপ্যাডে অবতরণ করার পর তিনি কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই বান কি মুন কয়েকটি রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। তিনি রোহিঙ্গা শিবিরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। গাছের চারার পাতাগুলো ধরে তিনি পাশে থাকা এক সংবাদকর্মীর নিকট জানতে চান- এটি কী গাছের চারা। সংবাদকর্মী তাঁকে জানান- এটি চাঁপা ফুল গাছের চারা। পরে তিনি গাছের নামটি ওই সংবাদকর্মীর নিকট বানান করে নেন।

বান কি মুন পরে রোহিঙ্গা শিবিরের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ে নির্মিত কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সমন্বয় অফিসে গিয়ে উঠেন। তিনি সেখান থেকেই প্রায় সবগুলো রোহিঙ্গা শিবির প্রত্যক্ষ করেন। পরে অফিসে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে মিলিত হন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ও রোহিঙ্গাদের সেঙ্গ কথা বলে তাদের খোঁজ খবর নেন।

বুধবার বিকেলে মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলডা হেইনিও এবং ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সিইও ক্রিসটিলিন জর্জিয়েভের সঙ্গে উখিয়ার কুতুপালং ১৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমকে রোহিঙ্গা সমস্যাটি অবশেষে বাংলাদেশের জন্য একটি অসহনীয় সংকট হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি কি মুন।তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের মতো একটি ছোট দেশের জন্য বড় “বোঝা” হিসেবে রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকারকে আরও বেশি কিছু করতে হবে। যাতে রোহিঙ্গারা ভয়হীনভাবে তাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী হয়।’ নানামুখী সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশি মানুষের প্রশংসা করেন মুন।

বিশ্বব্যাংকের সিইও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশিদের উদারতা ও দুর্বল রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

উল্লেখ্য জানুয়ারি ২০০৭ থেকে ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত পরবর্তী দক্ষিণ কোরিয়ান কূটনীতিক বান কি মুন জাতিসংঘের অষ্টম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নিকারুজ্জামান চৌধুরী জানান,সফরকালে বান কি মুন এর তার সাথে ছিলেন নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রোগ ব্রেন্ডে ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ স্কেফার, ত্রান সচিব শাহ কামাল, পররাষ্ট্র সচিব মোঃ শহিদুল হক।

এরআগে বুধবার বিকাল ৪ টার দিকে হেলিকপ্টার যোগে ক্যাম্প-২০ র মাঝে করা হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন।এরপর তিনি উখিয়ার কুতুপালং ২০ নং ক্যাম্প ও ১৭ নং ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং বাস্তুচূত রোহিঙ্গা নর-নারীদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের দাবী প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের পর থেকে উখিয়া-টেকনাফে ৩০টি ক্যাম্পে প্রায় ১১ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। মূলত রোহিঙ্গাদের থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, আবাসন বিষয় সম্পর্কে দেখতে আসেন বাং কি মুন।

তিনি ১৭ ও ২০ নং ক্যাম্পে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি অবলোকন করে কয়েকজন রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতার সাথে কথা বলেন বলে ক্যাম্পের হেডমাঝি সিরাজুল মোস্তাফা জানিয়েছেন।

কুতুপালং আন-রেজিষ্ট্রার্ট ক্যাম্পের চেয়ারম্যান মোঃ নুর জানান, রোহিঙ্গাদের দাবী দাওয়া সম্পর্কে সাবেক মহা-সচিবকে রোহিঙ্গারা অবগত করেন। ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যা ৬ টার দিকে হেলিক্যাপ্টার যোগে ক্যাম্প ত্যাগ করেন।

সাবেক মহা-সচিবের আগমন উপলক্ষ্যে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক সহ ক্যাম্প অভ্যন্তরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno