কুতুবদিয়া উপকূলে চলে এসেছে সাগরের মাছ : বাজারে চড়া দামে বিক্রি ইলিশসহ নানা সামূদ্রিক মাছ

10.jpg

নজরুল ইসলাম,কুতুবদিয়া(১০ জুলাই) :: দীর্ঘ ৬৫ দিন সমূদ্রে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় লইট্টা,সুন্দরী ও রিটাসহ নানান ধরনের সামূদ্রিক মাছ চলে এসেছে কুতুবদিয়া উপকূলে। মাছ ধরার সাধারন জাল কিংবা বড়শিতে ধরা পড়ছে এসব মাছ। কুতুবদিয়া উপকূলের স্থানীয় জেলেদের সাথে কথা বলে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

সবিতা রানী (ছদ্মনাম) সামূদ্রিক রিটা মাছ (স্থানীয় ভাষায় কাটা মাছ/ছোট মুছ মাছ) নিয়ে বিক্রি করতে এসেছেন স্থানীয় বড়ঘোপ বাজারে। ডিমওয়ালা প্রতি কেজি রিটা মাছ বিক্রি করছেন তিনি পাঁচশ-ছয়শ টাকায়।

সবিতা রানী বড়ঘোপ কৈবর্ত পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি এ পেশার সাথে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। ১০ জুলাই (বুধবার) সন্ধ্যায় সাড়ে পাঁচটার দিকে বড়ঘোপ বাজারে কথা হয় সবিতার সাথে।

তাকে যখন জিজ্ঞেসা করা হয়, এখনতো মাছ ধরা নিষেধ আছে। তাহলে কেন আপনি সমূদ্রে মাছ ধরতে গেলেন? প্রশ্নের জবাবে সবিতা রানী বলেন, মাছ ধরতে এখন আর গভীর সমূদ্রে যেতে হয় না। নদীর কিনারায় বড়শি দিলেই রিটা মাছসহ অনেক সামূদ্রিক মাছ পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি জানান শুধু রিটা মাছ নয়, সুন্দরীসহ আরো অনেক সামুদ্রিক বড়শিতে ধরা পড়ছে। তবে মৎস্য অফিস ও কোস্ট গার্ডের ভয়ে তাদেরকে এসব মাছ চুরি করে ধরে চুরি করে বিক্রি করতে হচ্ছে।

একই দিন সন্ধ্যা সাতটায় স্থানীয় ধুরুং বাজারে গিয়ে দেখা যায় মাছ ব্যবসায়ীরা বড় ইলিশ, সুন্দরীসহ নানান ধরনের সামূদ্রিক মাছ বিক্রি করছে। তারা এসব মাছ বিক্রি করছেন চড়া দামে।

প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা, লইট্টা ২শ থেকে আড়াইশ টাকা,সুন্দরী ৩শ থেকে ৪শ এবং রিটা ৫শ থেকে ৬শ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।তাদের সাথে কথা বলে জানাযায়, তার এসব মাছ সাগরে গিয়ে ধরেনি,ধরেছে উপকূলের কিনারায় কারেন্ট জাল দিলে (স্থানীয় ভাষায় থালিন জাল বসিয়ে)।

দীর্ঘ ৬৫ দিন সরকারিভাবে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকার কারনে উপকূলে মাছের আকাল পড়েছে। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় জেলেদের চুরি করে ধরা এসব সামূদ্রিক মাছ কম দামে ক্রয় করে চড়া দামে বিক্রি করছে এক ধরনে ফঁড়িয়া (দালাল)।

এব্যপারে কুতুবদিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, উপজেলা মৎস্য অফিস কোস্ট গার্ডের সহযোগিতায় আপ্রাণ চেষ্টা করেছে সাগরকে জেলেদের জালমুক্ত রাখতে। এখন আবহাওয়া খারাপ হওয়ার কারনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

তবে জেলেরা চুরি করে মাছ ধরে বিক্রি করছে এমন খবর পেলে উপজেলা মৎস্য অফিস ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৬৫ দিনের সামূদ্রিক মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময় শেষ হতে আর মাত্র ১২ দিন বাকী।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহমুদ বলেন, জেলেরা বাকী কয়েক দিন ধৈর্য্য ধরে মাছ ধরা বন্ধ রাখলে সামূদ্রিক মাছে উপকূল ভরপুর হয়ে যাবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno