লক্ষ শিশুর মাথা কেটে পদ্মা সেতু তৈরির গুজব : যা জানালো সেতু কর্তৃপক্ষ

padma.gif

কক্সবাংলা ডটকম(৯ জুলাই) :: কোথাও লেখা হয়েছে এক লক্ষ শিশুর মাথা লাগবে৷ কোথাও বলা হয়েছে হাজার মানুষের মাথা কেটে নিয়ে বিশেষভাবে পুঁতে দেওয়া হয়েছে, শতাধিক মানুষের মাথা কাটা হয়েছে৷ সেই মাথা নির্মীয়মাণ পদ্মা সেতুর স্তম্ভ তৈরির ভিত করতে রাখা হয়েছে৷ এই ধরণের মারাত্মক গুজব ক্রমে বিরাট আকার নিল বাংলাদেশে৷

একাধিক ফেসবুক ও হোয়াটস অ্যাপে গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়ঙ্কর ছবি৷ রীতিমতো ফটোশপের কারিকুরিতে তৈরি এই ছবি এক শ্রেণির মানুষের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করেছে৷ গুজব আরও ছড়িয়ে হাজার খানেক মানুষের নিখোঁজ বলেই রটানো হচ্ছে৷

পরিস্থিতি এমন যে সোশ্যাল সাইট জুড়ে এই গুজবের রমরমা৷ সেটা আরও ছড়িয়ে পড়ছে৷ এর জেরে তৈরি হওয়া আতঙ্ক রুখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ৷ বারে বারে এটিকে গুজব বলে পাল্টা প্রচার চালানো হলেও আতঙ্কের সেই ভুয়ো পোস্টার দেওয়া ছবি ও বিবরণ আটকানো সম্ভবই হচ্ছে না৷

বাংলাদেশ পুলিশের আইটি সেল ও সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সক্রিয় হয়৷ ঢাকা, সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও বিভিন্ন এলাকা থেকে এমন গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়৷ জানা গিয়েছে ধৃতদের কয়েকজন জামাত ইসলামির শাখা সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবিরের সক্রিয় সদস্য৷

মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের মোবাইলে একের পর এক নোটিফিকেশেন আসতে থাকে৷ তাতে দেখা যায় বিশেষ এক ধরণের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, -‘পদ্মা সেতু তৈরি করতে ১ লাখ শিশুর মাথা লাগবে। পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন দেশের বিভিন্ন জায়গায় শিশুদের গুম করে মাথা কেটে নিচ্ছে। কাজেই আপনার বাচ্চাকে ঘর থেকে বের হতে দিবেন না। স্কুল, মাদ্রাসা, খেলার মাঠ কোথাও না। আর আপনি মুসলমান হলে মেসেজটি আরো ১০ জনের কাছে পাঠিয়ে দিন।’

এর জেরে ক্ষোভ তৈরি হয়৷ আবার কিছু অভিভাবক রীতিমতো আতঙ্কিত হন৷ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গুজবটি চট্টগ্রামের কমবেশি প্রায় সব জায়গায় ছড়িয়েছে। অনেকে বাচ্চাদেরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো থেকে শুরু করে বাইরে খেলাধুলা ও করতে দিচ্ছেন না ।

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর উপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে লৌহজং, মুন্সিগঞ্জের সাথে শরিয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে, ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প।

পদ্মাসেতু গুজব নিয়ে যা জানালো সেতু কর্তৃপক্ষ

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মাসেতুর কাজ সারাদিন ব্যাপী পদ্মাসেতু নির্মাণ বিষয়ে একটি গুজবে মুখরিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো। পদ্মাসেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে বলে বিভিন্ন ফেসবুক আইডির টাইমলাইনে স্ট্যাটাস পোস্ট করতে দেখা গেছে। এতে অনেকেই ঘাবড়ে গেছেন।

শুধু তাই নয় এ বিষয়ে ম্যাসেঞ্জারের ইনবক্স করে একে অপরকে সতর্ক করেছেন নেটিজেনদের কেউ কেউ। বেশিরভাগ মানুষই না বুঝে-শুনে এরকম কুসংস্কারে গা ভাসিয়েছেন। দিনভর বিষয়টি নেট দুনিয়ায় অনেকটা মহামারি আকার ধারণ করেছে।

শেষ পর্যন্ত এমন অলীক, অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানোকে থামাকে নিজেই উদ্যোগ নিল পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এ গুজবে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

গতকাল (মঙ্গলবার) এক বিজ্ঞপ্তিতে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প পরিচালক মো.শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ পরিচালনায় মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এটি একটি গুজব। এর কোনো সত্যতা নেই।’

এমন অপপ্রচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ জানিয়ে তিনি এ ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। মূল সেতুর ২৯৪টি পাইলের মধ্যে ২৯২টি বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০টি পিয়ারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে, যা এখন দৃশ্যমান।

উল্লেখ্য, পদ্মাসেতুর জন্য মানুষের রক্ত বা মাথা লাগবে এমন গুজব বা অপপ্রচার এটাই প্রথম হয়নি। এর আগে গত বছরের আগস্ট মাসে একইরকম গুজব ছড়িয়েছিল রাজবাড়ী জেলায়।

সে সময় রাজবাড়ীর সদর উপজেলায় ১৫ দিনের মধ্যে তিন নারী ও এক শিশুকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পদ্মা সেতুর জন্য রক্ত লাগবে বলে হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে বলে অপপ্রচার চালানো হয় তখন।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri