বিশ্বের জনবহুল দেশের তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে বাংলাদেশ

bd-people.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১১ জুলাই) :: ২১০০ সালের দিকে বিশ্বের জনবহুল শীর্ষ দশটি দেশের তালিকায় থাকবে না বাংলাদেশ। জাতিসংঘের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে এমনটাই মনে করছে ওয়াশিংটনের পিউ রিসার্চ সেন্টার।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই শতাব্দীর শেষ দিকে বাংলাদেশ, ব্রাজিল, রাশিয়া ও মেক্সিকো বিশ্বের শীর্ষ দশটি জনাকীর্ণ দেশের তালিকায় থাকবে না। এই চারটি দেশকে স্থলাভিষিক্ত করবে আফ্রিকার কঙ্গো, ইথিওপিয়া, তাঞ্জানিয়া ও মিসর।

‘পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৯৪ সালে বিশ্বের নিম্ন অগ্রগতিসম্পন্ন দেশগুলোতে মোট প্রজনন হার ছিল ৬, এখন তা ৪। আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ব্যবহারের হার ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৭ শতাংশ হয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট প্রজনন হার ২.০৫ এবং পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার ৬২.৪। একটি দেশের জনসংখ্যা ও উন্নয়ন অবিচ্ছেদ্যভাবে সম্পর্কিত।’

প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী আট দশকে মেক্সিকোতে ১০ শতাংশ জনসংখ্যা বাড়তে পারে। একই সময়ে জনসংখ্যা কমবে ব্রাজিলে ১৫ শতাংশ, বাংলাদেশে ৮ শতাংশ এবং রাশিয়ায় ১৪ শতাংশ।

আর একই সময়ের মধ্যে আফ্রিকার দেশগুলোতে দ্বিগুণের বেশি বাড়তে পারে জনসংখ্যা। কঙ্গোতে ৩০৪ শতাংশ, ইথিওপিয়াতে ১৫৬ শতাংশ, তাঞ্জানিয়াতে ৩৭৮ শতাংশ এবং মিসরে ১২০ শতাংশ।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের প্রতিবেদন অনুসারে, ২১০০ সালের দিকে জনবহুল দশটি দেশের মধ্যে আটটি আফ্রিকার হতে পারে। তালিকায় আফ্রিকার বাইরে থাকা দুটি দেশ হতে পারে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই দুটো দেশের জনসংখ্যা বাড়তে পারে যথাক্রমে ১৮২ মিলিয়ন ও ১০৩ মিলিয়ন।

এছাড়া ২১০০ সালের মধ্যে যে দশটি দেশের জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি কমবে সেগুলোর একটিও আফ্রিকার না। এই দেশগুলো এশিয়া ও ইউরোপের। সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা কমতে পারে চীনে। ২১০০ সালের মধ্যে বর্তমানের তুলনায় চীনের জনসংখ্যা ৩৭৪ মিলিয়ন কমতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সম্ভাব্য জনসংখ্যা কমে আসার পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান জনসংখ্যার চেয়ে বেশি হতে পারে। ২০২৭ সালের দিকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ হিসেবে চীনকে সরিয়ে দিতে পারে ভারত।

সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, এই শতাব্দীর শেষ দিকে কার্যত বিশ্বের জনসংখ্যা বৃদ্ধি কমে আসতে পারে বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলে সন্তান জন্মদানের পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলে।

২১০০ সালের দিকে বিশ্বের জনসংখ্যা ১০.৯ বিলিয়নে পৌঁছাতে পারে। বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়াবে ০.১ শতাংশ, যা বর্তমানের চেয়ে কম। ১৯৫০ থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিবছর বিশ্বের জনসংখ্যা বেড়েছে ১ থেকে ২ শতাংশ হারে। জনসংখ্যা ২.৫ বিলিয়ন থেকে বেড়ে হয়েছে ৭.৭ বিলিয়ন।

এদিকে ১১ জুলাইবিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় ও আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।

এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জনসংখ্যা ও উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ২৫ বছর : প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়ন।’

জনসংখ্যা উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান নিয়ামক। এ জনসংখ্যাকে কাম্য জনসংখ্যায় পরিণত করতে পরিকল্পিত পরিবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘পরিকল্পিত জনসংখ্যা, খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য মৌলিক অধিকার পূরণের পাশাপাশি সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের আয়তন, অবস্থান, জনসংখ্যা, প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে পরিকল্পিত পরিবার গঠনের বিকল্প নেই।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সরকার বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বিদ্যমান কর্মসূচিগুলোতে উদ্ভাবনীমূলক কর্মকাণ্ডের সন্নিবেশ ঘটাতে হবে। তাহলে দেশের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের ক্ষমতায়ন হবে এবং ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পৌঁছে যাবে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে জনমিতিক লভ্যাংশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্ট’ সুযোগ বিদ্যমান। আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। সঠিক উন্নয়ন কৌশল, কর্ম-পরিকল্পনার মাধ্যমে এ বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে পরিণত করতে পারলে জনমিতিক এই সুযোগ আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno