যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী তাড়াতে ১৪ জুলাই থেকে নিউইয়র্কসহ ৯ শহরে অভিযান : আতঙ্কে বাংলাদেশিরা

usa-nypd-bd-flag.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৩ জুলাই) :: যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের আটক করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর অভিযান রবিবার থেকে জোরালো করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি অভিবাসন আদালতের রায়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আদেশ পেয়েও দশটি শহরে থেকে যাওয়া অভিবাসীরা এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের সূত্র উদ্ধৃত করে এ কথা জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

শহরগুলো হচ্ছে নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো, হিউস্টন, আটলান্টা, বাল্টিমোর, ডেনভার, মায়ামি ও সান ফ্রান্সিসকো।তবে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করে—এমন একাধিক আইনজীবী ও মানবাধিকার সংস্থা ভীত না হয়ে প্রত্যেক অভিবাসীকে তাঁদের অধিকার সম্বন্ধে সচেতন হতে পরামর্শ দিয়েছে।

গত মাসে এক টুইট বার্তায় এই অভিযানের ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তখন তা স্থগিত হয়ে যায়। তবে এবারে আগেই ঘোষণা দিয়ে অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, এসব মানুষ অবৈধভাবে এই দেশে প্রবেশ করেছে আর আমরা বৈধভাবে তাদের বের করে দেবো। এই অভিযানকে বড় ধরনের অভিযান আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন এর লক্ষ্য হবে মূলত অপরাধীদের তাড়িয়ে দেওয়া।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়ই অবৈধভাবে থাকতে চাওয়া অভিবাসীদের আটক করতে অভিযান চালায় মার্কিন অভিবাসন ও রাজস্ব প্রয়োগ (আইসিই) দফতর। সপ্তাঞ ধরে চলা এসব অভিযানে হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয় বলে সরকারি পরিসংখ্যানেই উল্লেখ রয়েছে। আগে থেকে কোনও ঘোষণা ছাড়াই এসব অভিবাসীদের মধ্যে বেশিরভাগকে আটক করা হয়।

শুক্রবার হোয়াইট হাউসের লনে সাংবাদিকদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন না যে আগেভাগে অভিযানের কথা প্রকাশ হয়ে গেলে অভিবাসীরা গ্রেফতার এড়াতে পারবে।

এদিকে ১৪ জুলাই রাত ১২টার পর থেকে ফের অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় শুরু করতে যাচ্ছে ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টট-আইস। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিসহ আনডক্যুমেন্টেড অভিবাসীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ কাগজপত্রবিহীন বাংলাদেশিদের কোনো সঠিক সংখ্যা নেই। তবে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে  অবৈধ বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রায় এক লাখের মতো। এর মধ্যে শুধু নিউইয়র্কেই বসবাস করছে ৫০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি। আর বাকি ৫০ হাজার ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এ ছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, শিকাগো, জর্জিয়া, নিউ জার্সি, পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে রয়েছে প্রচুর অবৈধ বাংলাদেশি।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি জানান, ‘কিছুদিন আগে সাত মুসলিমপ্রধান দেশের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত বন্ধ করার ঘোষণা শুনেই বাংলাদেশিরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন আইনজীবীকে নিয়ে সোসাইটির উদ্যোগে তাত্ক্ষণিক একটি সেমিনার করে বাংলাদেশি প্রবাসীদের আইনি পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলাম। বর্তমান নতুন আইন জারির পর বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা ধরনের ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে, যেসব অভিবাসীর অব্যাহত অবস্থানের বিরুদ্ধে আদালত ইতিমধ্যে চূড়ান্ত রায় দিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে এই অভিযান শুরু হয়েছে। আদালত থেকে রায় প্রকাশিত হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নিজের দেশে না ফিরে গেলে মার্কিন আইনে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আইস নামে পরিচিত অভিবাসন পুলিশের এই অভিযানের খবর ইতিমধ্যে অভিবাসীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছে। দুই সপ্তাহ আগে নিউইয়র্কে একজন সুপরিচিত বাংলাদেশি লেখককে জোরপূর্বক দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় বাঙালিদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রাথমিকভাবে বৈধ কাগজপত্রবিহীন দুই হাজারের মতো অভিবাসীকে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এঁদের সবার ব্যাপারেই আদালত চূড়ান্ত রায় দিয়ে ফেলেছেন। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, আইস অভিযানের সময় ধারেকাছে থাকা তালিকাভুক্ত নন—এমন অন্য অভিবাসীদের অনেকে বহিষ্কারের শিকার হতে পারেন।

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন পরামর্শ দিয়েছে, আইসের কোনো প্রতিনিধি গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে দরজায় আঘাত করলে তা না খুলতে। কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না থাকলে তারা কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে না। জোর করে ঢোকার কোনো অধিকারও তাদের নেই। তারা পরামর্শ দিয়েছে, দরজার ফাঁক দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখাতে বলুন। যেকোনো অবস্থায় চুপ থাকারও পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। কারণ, ‘আপনি যা–ই বলবেন, তা আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে।’

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হলেও কেউ যেন কোনো কাগজপত্রে স্বাক্ষর না করেন এবং অবিলম্বে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার দাবি জানান। তবে জোর করে গ্রেপ্তার করলে তা প্রতিরোধ না করার পরামর্শ দিয়েছে তারা।

নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন ও অন্যান্য অভিবাসন অধিকার সংস্থা সব অভিবাসীকে বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri