কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি

Pic-02Chakaria-14.07.2019.jpg

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া(১৪ জুলাই) ::: টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়ায় আবারো ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে বন্যা। অব্যাহত রয়েছে ভারী বর্ষণ। আশংকা রয়েছে পাহাড় ধসের। বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।

কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ ১৭টি অভ্যান্তরীণ সড়কের উপর দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল বিঘিœত হচ্ছে।

দু’উপজেলার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ৫ লাখ মানুষ। ঢলের পানিতে তলিয়ে অভ্যন্তরীন সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পানি প্রবেশ করায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্টান অঘোষিত বন্ধ রয়েছে। ঢলের ভেসে নিখোঁজ রয়েছে এক যুবক।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর ব্রিজ পয়েন্টে বিপদসীমার প্রায় এক মিটার উপর দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছিল।

টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া-পেকুয়ার লাখো মানুষ পানিবন্দি ছিলো ৩দিন। শনিবার পানি নামতে শুরু করেছিলো।

কিন্তু শনিবার দিবাগত রাতে পার্বত্য উপজেলার লামা ও আলীকদমে অতি বর্ষণ হলে রবিবার ভোররাতে ভয়াবহ ঢল নামে চকরিয়া-পেকুয়ায়। মাতামুহুরী নদীর দু’কুল উপচিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ কার পানি বসতঘরে ডুকতে শুরু করে রাত দেড়টা থেকে।

মাত্র দু’ঘন্টার মধ্যেই পাহাড়ি গ্রাম ছাড়া দু’উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন ও চকরিয়া পৌরসভার সিংহভাগ অংশে বসত বাড়িতে কয়েক ফুট পানি উঠে।

রবিবার বিকেল ৪টার দিকে শত শত বাড়িতে ৪-৫ ফুট পানি উঠে। দু’উপজেলার অভ্যন্তরীন সকল সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ঢলের পানিতে সড়ক ডুবে যাওয়ায়।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, চকরিয়ার বমুবিলছড়ি, সুরাজপুর-মানিকপুর, কাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, চিরিংগা, সাহারবিল, পূর্ব ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বিএমচর, কোণাখালী, ডুলাহাজারা-খুটাখালী, ঢেমুশিয়া, বদরখালী ও চকরিয়া পৌরসভা এবং পেকুয়ার উজানটিয়া, মগনামা, সদর ইউনিয়ন, শিলখালী, বারবাকিয়া, টৈটং ও রাজাখালী ইউনিয়নের পাহাড়ি গ্রাম ছাড়া সমতলের সিংহভাগ ঘরে পানি উঠেছে।

সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী ও হারবাং এলাকা।

চকরিয়া-পেকুয়ার সিংহভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্টান অঘোষিত বন্ধ হয়ে পড়েছে ঢলের পানি প্রবেশ করায়। তন্মধ্যে চকরিয়া সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ আকম গিয়াস উদ্দিন কলেজের ভিতরে-বাইরে প্লাবিত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম পানি না কমা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন।

কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শওকত ওসমান বলেন, এই ইউনিয়নটি পাহাড়ি ঢলে হিট পয়েন্টে পড়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে প্রপার কাকারায়। বেড়িবাঁধ ও গাইডওয়াল ভেঙ্গে ও লোটনী-হাজিয়ান দিয়ে মাতামুহুরীর পানি পাড়া গায়ে প্রবেশ করে।

শুধুমাত্র কয়েকটি পাহাড়ের বাসিন্দা ব্যতিত এই ইউনিয়নের অন্তত অর্ধ লক্ষ মানুষ এখ পানিবন্দি। কার্পেটিং, ব্রিকসলিং, প্লাডসলিং ও গ্রামের কাঁচা-রাস্তাগুলো ঢলের তুড়ে কমবেশি ভেঙ্গে গেছে। পানি কমলে ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। এরই মধ্যে এই ইউনিয়নে প্রায় ৪ হাজার ঘর আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে।

অনুরুপভাবে অপরাপর ইউনিয়নগুলোতেও ঢলের তুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন বলেছেন, বন্যার পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করে জানা যাবে।

এদিকে, প্লাবিত এলাকায় টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় ও ঘরের পানি উঠায় রান্না-বান্না করতে না পেরে তীব্র খাবার ও পানীয়জলের সংকট দেখা দিয়েছে। ওপোষ রয়েছে অত্যাধিক পানি উঠা বেশ ক’টি গ্রামের মানুষ।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা জানিয়েছেন, মাতামুহুমী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দু’দিন পর বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারো বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজারের আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘন্টায় স্থানীয় আবহাওয়া অফিস ৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। অব্যাহত ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড় ধসের সতর্কতাও জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। প্রথম দফার বন্যায় প্লাবিত পরিবারগুলোর জন্য চাল-ও শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে।

 

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno