স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা ছিল আইওয়াশ, খুনে জড়িত মিন্নি !

rifat.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৮ জুলাই) :: অবশেষে পুরো ভেঙে পড়লেন মিন্নি। একা লড়াই করে চার পাঁচজন দুষ্কৃতির হাত থেকে স্বামী রিফাতকে বাঁচিয়ে আনার চেষ্টা যে নাটক ছিল তা স্বীকার করে নিয়েছেন। ফলে চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যা মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে। আপাতত গ্রেফতার মিন্নি।

পুলিশের জেরায় তিনি ভেঙে পড়েছেন। স্বীকার করেছেন পুরনো প্রেমিক নয়ন বন্ডকে নিয়ে স্বামী রিফাতকে কুপিয়ে খুনের পরিকল্পনার কথা। প্রকাশ্যে এই নব্য বিবাহিত যুবককে কুপিয়ে খুন করেছিল দুষ্কৃতিরা। ঘটনাস্থল বরগুনা।

যেভাবে রিফাতকে ঘিরে ধরে রাস্তার উপরেই রাম দা কুপিয়ে খুন করা হয় সেই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই বাংলাদেশ তো বটেই বিশ্বজুড়ে সামাজিক মাধ্যমে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তখনই দেখা গিয়েছিল রিফাতের খুনিদের বাধা দিতে একাই লড়ছিলেন মিন্নি।

পরে গোটা ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। খুনি নয়নকে গুলি করে মারা হয়। তারই মাঝে উঠে আসে নয়নের সঙ্গে মিন্নির প্রেমের সম্পর্ক। এরপর নিহত রিফাতের পরিবারের পক্ষে মিন্নির বিরুদ্ধে খুনে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আদালতের নির্দেশে ৫ দিনের পুলিশি হেফাজত হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি এই খুনে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছে। বৃহস্পতিবারই গ্রেফতার হয়েছে এই খুনের অন্যতম আসামী রিশান ফরাজী।

বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ জানান, গ্রেফতার হওয়া সব আসামি এবং মিন্নির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে স্পষ্ট খুনের বিষয়ে মিন্নি জানতেন। তিনিও এর অংশীদার। মিন্নি নিজেও এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আগে ও পরে খুনিদের সঙ্গে মিন্নির কথোপকথনও হয়েছে।

মিন্নি ও নয়নের মধ্যে বিয়ে হয়েছিল। তারপর মিন্নি সবকথা লুকিয়ে রিফাতকে বিয়ে করেন। সেই ঘটনার পর থেকে রিফাত হয়ে যায় নয়নের টার্গেট। নয়নকে সঙ্গে নিয়ে মিন্নি তার নতুন স্বামী রিফাতকে খুনের পরিকল্পনা করে।

বরগুনার রাস্তায় যখন এই খুনের ঘটনা ঘটে তখন মিন্নি নিছকই নাটক করে খুনিদের বাধা দিয়েছিলেন।

একটি মোবাইল ফোন থেকে শুরু রিফাত হত্যার গল্প

বরগুনার আলোচিত ‍রিফাত হত্যাটি মূলত একটি মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে সংঘঠিত হয়েছে।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন বরগুনা জেলা পুলিশের এক সদস্য।

ওই পুলিশ সদস্য জানান, গত ২৬ জুন বুধবার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হয়। ঘটনার দুইদিন আগে সোমবার হেলাল নামে এক ছেলের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় রিফাত শরীফ। হেলাল রিফাত শরীফের বন্ধু হলেও নয়ন বন্ডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। সেই মোবাইল ফোন উদ্ধারের জন্য নয়ন বন্ড মিন্নির দারস্থ হয়।

পরে রিফাত শরীফের কাছ থেকে ফোন উদ্ধার করে মিন্নি। কিন্তু ওই ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে রিফাত শরীফের মারধরের শিকার হন মিন্নি। পরে হত্যাকাণ্ডের আগের দিন মঙ্গলবার নয়নের সঙ্গে দেখা করে মিন্নি সেই মোবাইল নয়নের হাতে তুলে দেন।
এ সময় মিন্নি তার স্বামী রিফাত শরীফের হাতে যে মারধরের শিকার হয়েছেন তার প্রতিশোধ নিতে নয়নকে রিফাত শরীফকে মারধর করতে বলেন। তবে মারধরের সময় নয়ন যাতে উপস্থিত না থাকেন, সেটাও মিন্নি নয়নকে বলে দেন। এরপর ওইদিন সন্ধ্যায় বরগুনা কলেজ মাঠে মিটিং করে রিফাত শরীফকে মারধরের প্রস্তুতি গ্রহণ করে বন্ড বাহিনী।

তিনি আরও জানান, রিফাত শরীফের ওপর হামলার আগ মুহূর্তে রিফাত শরীফের সঙ্গে মিন্নি কলেজ থেকে বের হলেও কলেজের সামনে রিফাতকে মারধরের পরিকল্পনা অনুযায়ী কোনো প্রস্তুতি দেখতে না পেয়ে সময় ক্ষেপণের জন্য রিফাত শরীফকে নিয়ে আবার কলেজে প্রবেশ করেন।

এর কিছুক্ষণ পরই বন্ড বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য একত্রিত হয়ে রিফাত শরীফকে আটক করে মারধর করতে করতে কলেজের সামনের রাস্তা দিয়ে পূর্ব দিকে নিয়ে যায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী রিফাতকে মারধর করা হচ্ছে দেখেই মিন্নি তখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটছিলেন।

পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে নয়ন বন্ড রিফাত শরীফকে মারধর শুরু করলে মিন্নি তখনই এগিয়ে আসে। মূলত মিন্নি রিফাত শরীফকে বাঁচাতে নয়, রিফাত শরীফকে মারধরের অভিযোগ থেকে নয়ন বন্ডকে বাঁচাতেই বারবার নয়ন বন্ডকে প্রতিহত করেন। কিন্তু সেই প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হন মিন্নি।

এদিকে আলোচিত রিফাত মামলার প্রধান সাক্ষী ও নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। আজ বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে এ তথ্য নিশ্চত করেছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন।

এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার দিনভর জিঞ্জাসাবাদ ও বুধবার মিন্নির রিমান্ড রিমান্ড মঞ্জুরের পরও পুলিশের জিঞ্জাসাবাদে রয়েছে মিন্নি। ইতোমধ্যেই মিন্নি রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং এ হত্যা পরিকল্পনার সঙ্গে মিন্নি যুক্ত ছিলেন।’

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri