ডেঙ্গু জ্বরের নতুন লক্ষণ

Dengue-Fever-2.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৪ আগস্ট) :: এ বছর ডেঙ্গু জ্বর আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আর ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণে অনেক পরিবর্তন এসেছে। যে কারণে অনেকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পরও বুঝতে পারে না। ডেঙ্গু জ্বরের চারটি ধাপ আছে। টাইপ ওয়ান, টাইপ টু, টাইপ থ্রি এবং টাইপ ফোর। এবার ডেঙ্গু টাইপ থ্রি জ্বর বেশি হচ্ছে। আর অন্য বছরের চেয়ে কিছু পার্থক্য রয়েছে জ¦রে।

ডেঙ্গুজ্বরের নতুন লক্ষণ : আগে ডেঙ্গু জ্বরের প্রচন্ড শরীর, র‌্যাশ এবং চোখে ব্যথা হতো। তবে এবার খুব একটা জ্বর দেখা যায় না। জ্বর খুব বেশি না হলেও শুধু জ্বর জ্বর ভাব। শরীর অল্প অল্প দুর্বল লাগে। বমি হচ্ছে বা কারও হয়তো শুধু মাথা ব্যথা। এ বছর যারা মারা গেছে বা ডেঙ্গু জ্বরের জটিলতায় ভুগছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা পানিস্বল্পতায় ভুগছে। এ কারণে ডেঙ্গু জ্বরের শক সিনড্রোম হচ্ছে। এখন ডেঙ্গু জ্বরে শরীর থেকে প্রচুর তরল বের হয়ে শরীরের ভেতরেই রয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ রক্তনালি থেকে বাইরের দিকে চলে যাচ্ছে তরলটা। তখন প্রেশার কমে যাচ্ছে। এর ফলে হালকা দুর্বল লাগে। সামান্য দুর্বল লাগার কারণে অনেকে হয়তো চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন না। এর ফলে শরীরের প্রেশার কমে যাওয়ার কারণে বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে সঞ্চালন কম হচ্ছে। তাই জ্বর হলে বিশ্রামে থাকতে হবে। জ্বর নিয়ে সাধারণত প্রতিদিন যেসব পরিশ্রমের কাজ করেন, সেগুলো না করাই ভালো। পরিপূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন।

কী খাবেন : প্রচুর পরিমাণে তরল-জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন গ্রহণ করা যেতে পারে। এমন নয় যে, প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে, পানি-জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।

যে ওষুধ খাওয়া উচিত নয় : ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ চারটি প্যারাসিটামল খেতে পারবেন। প্যারাসিটামলের সর্বোচ্চ ডোজ হচ্ছে প্রতিদিন চার গ্রাম। কিন্তু কোনো ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট এবং কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভোগেন, তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না। অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

কখন প্লাটিলেট প্রয়োজন : ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্লাটিলেট বা রক্তকণিকা মূল বিষয় নয়। প্লাটিলেট কাউন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সাধারণত একজন মানুষের রক্তে প্লাটিলেট কাউন্ট থাকে দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখ পর্যন্ত।

কখন যাবেন হাসপাতালে

ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি ভাগ হচ্ছে এ, বি এবং সি। এই ক্যাটাগরির রোগীরা নরমাল থাকে। তাদের শুধু জ্বর থাকে। অধিকাংশ ডেঙ্গু জ্বরের রোগী ‘এ’ ক্যাটাগরির। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন নেই। ‘বি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বরের রোগীদের সবই স্বাভাবিক থাকে। তবে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যেমন পেটে ব্যথা, বমি কিংবা সে কিছুই খেতে পারছে না। অনেক সময় দেখা যায়, দুই দিন জ্বরের পর শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে হাসপাতাল ভর্তি হওয়াই ভালো। ‘সি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর প্রয়োজন হতে পারে।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri