চামড়ার ব্যাপক দরপতন : সরকারের রফতানির অনুমতিতে চটলেন ট্যানারি মালিকরা

camra-5.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৪ আগস্ট) :: বছরে প্রায় ২২ থেকে ২৪ কোটি বর্গফুট চামড়ার যোগান আসে কোরবানির ঈদে জবাই করা পশুর চামড়া থেকে। যা গড় হিসাবের প্রায় ৬০ শতাংশ। এসব চামড়ার ২০ শতাংশ ব্যবহার হয় জুতাসহ চামড়াজাত পণ্য তৈরীতে। চাহিদা বেশি থাকা সত্ত্বেও গত সাত বছরে ধাপে ধাপে কমেছে চামড়ার দাম। ২০১৩ সালে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৮৫ থেকে ৯০ টাকা আর ছাগলের চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।সেই চামড়ার দাম চলতি বছর ২০১৯ সালে এসে রাজধানী শহর ঢাকার জন্যে নির্ধারণ করা হয়েছে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৪৫-৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকা। ছাগলের চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ থেকে ২০ টাকা।তবে সরকার নির্ধারিত এসব মূল্য উপেক্ষা করে একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে চামড়ার মূল্য আরও কম।

এদিকে স্থানীয় শিল্পে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সাধারণ মানুষ ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা কতটা উপকৃত হতে পারেন এসব বিষয়ে অস্পষ্টতার মধ্যেই দেশে প্রথমবারের মত কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করে মানুষ যে দাম পাচ্ছে, সেটা ‘যৌক্তিক না’। মানুষ যেন ন্যায্য দাম পায় তা নিশ্চিত করতেই সরকারের এ পদক্ষেপ।

রপ্তানির সুযোগ হলে আর ট্যানারিগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে না- এই আশায় কাঁচা চামড়ার পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

কিন্তু চামড়াজাত পণ্য, পাদুকা উৎপাদন শিল্প ও প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঁচা চামড়া রপ্তানি হলে দেশে এসব শিল্পের কাঁচমালের সহজলভ্যতা কমে যাবে, তাতে হুমকির মুখে পড়বে পুরো শিল্প।

বাংলাদেশে সারা বছর যে সংখ্যক পশু জবাই হয়, তার অর্ধেক হয় এই কোরবানির মৌসুমে। সরকারি হিসাবে এবারেও প্রায় সোয়া কোটি পশু জবাই করা হয়েছে।

কোরবানি যারা দেন, তাদের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া কিনে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করেন পাইকারদের কাছে। পাইকাররা সেই চামড়ায় লবণ দিয়ে সংরক্ষণের প্রাথমিক কাজটি সেরে বিক্রি করেন ট্যানারিতে।

এ সময়ই সবচেয়ে বেশি চামড়া সংগ্রহ করেন ট্যানারি মালিকরা। ন্যূনতম কোন দামে তারা সেই চামড়া কিনবেন তা ঈদের আগে ঠিক করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চামড়া নিয়ে আসছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু দাম ও ক্রেতা না থাকায় রাস্তার পাশে বা ট্রাকেই স্তূপ হয়ে আছে চামড়া।মূলত চামড়ার আড়তদার ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে চামড়ার দাম কমে যাচ্ছে। ফলে চামড়ার বাজার সংকটে পড়ছে বলে মনে করছেন ট্যানারি মালিকরা। কিন্তু এ অভিযোগ মানতে রাজি নন আড়তদাররা। তারা মনে করেন, চামড়ার বাজারে কোনো সিন্ডিকেট নেই। ট্যানারি মালিকরা বাজারে এ সংকট তৈরি করছেন। তারা বকেয়া পরিশোধ করে দিলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তাদের হাতে টাকা না থাকায় চামড়া কিনতে পারছেন না। ট্যানারি মালিকরা বকেয়া পরিশোধ করলেই সমস্যা থাকবে না। বাজারও আগের মতোই চাঙা হয়ে যাবে। তবে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলছেন, আড়তদারদের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের জন্য পোস্তার চামড়া ব্যবসার আজ এ অবস্থা। তারা পানির দামে চামড়া কেনার আশায় এ সিন্ডিকেটে করে রেখেছেন।

অপরদিকে মঙ্গলবার বিক্রি করতে না পেরে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় লাখখানেক কোরবানির পশুর চামড়া সড়কে ফেলে দিয়েছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর আতুরার ডিপো, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট এলাকা থেকে এসব চামড়া সরিয়ে পুতে ফেলার কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)।

আড়তদাররা বলছেন, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা না পাওয়ায় চট্টগ্রামের বেশিরভাগ আড়তদার এবার চামড়া কিনতে পারেননি। যেসব মৌসুমী ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রি করতে পেরেছেন, তারাও বড় অংকের লোকসান করেছেন বলে দাবি করেছেন।

সিসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উত্তর জোনের মনিটরিং টিমের প্রধান ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের (পশ্চিম ষোলশহর) কাউন্সিলর মোবারক আলী বলেন, “আড়তদাররা টাকার অভাবে এবার চামড়া কিনতে পারেনি। আতুরার ডিপো, মুরাদপুর রোড ও বহদ্দারহাট মোড়ে হাজার হাজার চামড়া পড়ে আছে।

“বহদ্দারহাট মোড় থেকে চার ট্রাক চামড়া সরিয়েছি। আতুরার ডিপো ও মুরাদপুর এলাকায় প্রায় ৭০ ট্রাকের মত চামড়া হতে পারে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ পিস চামড়া নষ্ট হয়েছে।”

এসব চামড়া নগরীর বায়েজিদ আরেফিন নগর এলাকায় সিটি করপোরেশন নির্ধারিত আবর্জনা ফেলার স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে গর্ত করে সেগুলো পুঁতে ফেলা হবে।

চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতি এবার সাড়ে পাঁচ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। এর মধ্যে চার লাখ গরুর, এক লাখ ১২ হাজার ছাগল, ১৫ হাজার মহিষ ও ১৫ হাজার ভেড়া চামড়া।

তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সমিতির নেতারা বলছেন, তারা লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশের মত চামড়া সংগ্রহ করতে পেরেছেন।

তাদের হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নিয়ে আসা প্রায় ১৫ শতাংশ চামড়া বিক্রি হয়নি। আর জেলার দূরবর্তী এলাকায় থাকা প্রায় ২৫ শতাংশ চামড়া এসে পৌঁছাবে আরো কয়েকদিন পর।

ফটিকছড়ি থেকে ২০০ চামড়া নিয়ে আতুরার ডিপো এলাকায় আসা মৌসুমী ব্যবসায়ী নাজিম উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গ্রামে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ৩০০ টাকা দরে চামড়া কিনেছি। এখানে দাম বলছে ৫০ টাকা করে।

“দুপুরের পর আর ৫০ টাকাতেও কেউ কিনছে না। তাই চামড়া রাস্তায় ফেলে রেখে যাচ্ছি।”

 

নগরীর ঈদগাঁ এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, “পাঁচ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে মাত্র তিন লাখ টাকা নিয়ে ঘরে আসছি। শেষের ৩০০ চামড়া আর কেউ নেয়নি। সেগুলো ফেলে এসেছি।”

বোয়ালখালী থেকে চামড়া নিয়ে বহদ্দারহাট এলাকায় এসেছিলেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “গতরাতেও দুয়েকজন চামড়া কিনতে চেয়েছিল। আজকে আর কেউ নিতে চাইল না। ২০-৩০ টাকায়ও কেউ নিচ্ছে না।

“গাড়ি ভাড়া দিয়ে যে এসেছি সেটাও লস। চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। কতক্ষণ আর বসে থাকা যায়। তাই রাস্তায় রেখেই চলে যাচ্ছি।”

মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে এসব এলাকায় রাস্তায় চামড়া রেখে চলে যান মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। রাস্তার পাশে ফুটপাত ঘেঁষে হাজার হাজার চামড়ার স্তুপ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

বৃষ্টিতে চামড়া থেকে বের হওয়া পানি সড়কে গড়িয়ে যাচ্ছিল। বিকেল থেকে শুরু হয় দুর্গন্ধ। তবে দুর্গন্ধ ঠেকাতে চামড়ায় ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিসিসি।

বিক্রি করতে না পেরে চট্টগ্রামের মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ফেলে দেওয়া কোরবানির পশুর চামড়া আগ্রাবাদ চৌমহুনি এলাকার সড়ক থেকে সরিয়ে নিচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা। ছবি: সুমন বাবু
এবার চট্টগ্রামে ১০-১৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হতে পারে বলে চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি আবদুল কাদের জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে আমাদের কয়েক বছরের বকেয়া পাওনা প্রায় ৫০ কোটি টাকা। তার মধ্যে ঈদের আগে অল্প কিছু টাকা তারা দিয়েছে। টাকার অভাবে চামড়া কেনা সম্ভব হয়নি।

“সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত আগে জানালে এবং কোরবানির আগে বকেয়া পরিশোধে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিলে এ অবস্থা হতো না।”

কাদের বলেন, সমিতির সদস্য ১১২ জন আড়তদার। এর বাইরে আরো ১৫০ আড়তদার আছেন চট্টগ্রামে। এবার শুধু ৩০ জন আড়তদার চামড়া কিনতে পেরেছেন।

কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমতি দেওয়ায় চটলেন ট্যানারি মালিকরা
—————————————-
এদিকে সরকার কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমতি দেওয়ায় চটেছেন ট্যানারি মালিকরা। কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্তের পর মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ট্যানারি মালিকরা জরুরি বৈঠক করেছেন। তারা বলছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত দেশের চামড়া শিল্পকে বিপদে ফেলবে।

এর আগে মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) কাঁচা চামড়ার উপযুক্তমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাঁচা চামড়া রফতানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা দিতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত হবে অনেকটা আত্মঘাতী। কারণ, কোরবানি চামড়া দিয়েই মূলত আমাদের ব্যবসা করতে হয়। কোরবানির কাঁচা চামড়া যদি রফতানি হয়, তাহলে আমাদের শিল্প-প্রতিষ্ঠানগুলো কি করবে? তিনি বলেন, আর আমরা তো এখনও চামড়া সংরক্ষণ করা শুরুই করিনি।

আরও ৮ থেকে ১০ দিন পর আমরা চামড়া কেনা শুরু করবো। আর মধ্যস্বত্বভোগীদের তৈরি করা সমস্যা আমাদের ওপর কেন চাপানো হবে? আমরা তো সরকারের বেঁধে দেওয়া দামেই চামড়া কিনবো। আমরাতো কম দামে চামড়া নেবো না।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের চামড়া ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়বে। এ নিয়ে ট্যানারি মালিকরা জরুরি বৈঠক করেছেন। বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল বুধবার (১৪ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলেও জানান বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক।

প্রসঙ্গত, গত ৩১ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে পশুর চামড়া।

মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ৮০ হাজার টাকার গরুর চামড়ার দাম দিয়েছেন ২শ’ টাকারও কম। এক লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩শ’ টাকায়। চামড়ার দাম না পাওয়ায় কোরবানি দাতাদের অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে চামড়া মাটিতেও পুঁতে দিচ্ছেন। তবে কাঁচা চামড়ার দাম কমে যাওয়ার জন্য ট্যানারি মালিকরা মধ্যস্বত্বভোগীদেরকে দায়ী করেছেন। ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মধ্যস্বত্বভোগীদের তৈরি করা কৃত্রিম সংকটের কারণে এবার কাঁচা চামড়ার দাম কমে গেছে।

এদিকে সোমবারের (১২ আগস্ট) মতো মঙ্গলবারও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া কিনছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। একইভাবে গতকালের মতো আজও স্যায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা পাইকারদের কাছে মাত্র ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকায় চামড়া বিক্রি করছেন।

অন্যদিকে, পোস্তা ও হাজারীবাগ এলাকাতেও পাইকার, ট্যানারি প্রতিনিধি ও আড়তদাররাও অল্প দামে কোরাবানির পশুর চামড়া কিনছেন। ঢাকার বাইরে থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, যে দামে চামড়া কিনেছেন তার চেয়েও কম দামে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

উল্লেখ্য, এ বছর গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকায় প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সারা দেশে খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

এ প্রসঙ্গে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের কাছে যখন টাকা ছিল, তখন আমরা প্রতিযোগিতা করে চামড়া কিনেছি। ফলে তখন কাঁচা চামড়ার দাম বেশি হতো। এবার আমাদের কাছে টাকা নেই। ট্যানারি মালিকরা সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকার বেশি বকেয়া রেখেছেন। টাকা না থাকলে আমরা কিনবো কিভাবে? তিনি বলেন, মৌসুমী ব্যবসায়ী ও অন্যান্য ব্যবসায়ীরা তাদের আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে টাকা ধার অথবা যে কোনোভাবেই হোক তারা এবার অল্প টাকায় কাঁচা চামড়া কিনেছেন।

এবার প্রতিযোগিতা করার মতো লোক ছিল না। এ কারণে চামড়ার দাম পড়ে গেছে। তাদের হাতে টাকা না থাকার কারণে এবছর ২৪৫ জন আড়তদারের মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন আড়তদার চামড়া কিনতে পারছেন বলেও জানান তিনি।

ধর্মীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, কাঁচা চামড়া বিক্রির টাকা কোরবানিদাতারা গরিব-মিসকিন ও এতিমদের মধ্যে দান করে থাকেন। কিন্তু, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়া জাতীয় পণ্যের বাজার চড়া থাকলেও এবছর সরকারিভাবে কাঁচা চামড়ার দাম গত বছরের দরেই নির্ধারিত হয়েছে। এরপর কাঁচা চামড়া কেনার পাইকার ও ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই ‘টাকা নেই’, ‘বেশি দামে চামড়া কিনলে বেচতে পারবেন না’, ‘সংরক্ষণ করার প্রস্তুতি রাখুন’, ‘চামড়া পচে যেতে পারে’ ইত্যাদি হুজুগ তোলায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেছেন প্রায় বিনামূল্যে।

ফলে চামড়ার দাম একেবারেই পড়ে যাওয়ায় কোরবানিদাতার দানের টাকার পরিমাণ গেছে কমে। ফলে চামড়া ব্যবসায়ে জড়িত সবাই লাভবান হলেও বঞ্চিত হয়েছেন কেবল এতিম ও দুস্থরা। তাদের প্রাপ্য অংশ এবার ভয়াবহভাবে কমে গেছে।

মনোপলি

বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার অ্যান্ড লেদারগুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের শঙ্কার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আভাস দেন।

তিনি বলেন, “আমরা রপ্তানির ঘোষণা দিয়েছি। দেখি না, যদি দেখি স্থানীয় শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তাহলে রপ্তানি স্লো করে দেব।”

সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, “রপ্তানি করতে আমরাও যে খুব উৎসাহী তা নয়। আমাদের লক্ষ্য মানুষ যেন ন্যায্য দাম পায়।”

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘সিন্ডিকেট’ করে চামড়ার দাম কমালে কাঁচা চামড়া রপ্তানির বাজার যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে, সেই হুঁশিয়ারি ব্যবসায়ীদের আগেই দেওয়া হয়েছিল।

“আমরা ব্যবসায়ীদের বলেছিলাম, মনোপলি যেন না হয়। মনোপলি হলে বাজার উন্মুক্ত করে দিতে হবে। আমরা সেটাই করেছি।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “চামড়ার কি একদম দাম নেই? তারা মানুষের কাছ থেকে পানির দামে কিনবে?”

এখন ঈদের একদিন পর চামড়া যখন একবার বা দুইবার হাতবদল হয়ে গেছে, সরকারের এই সিদ্ধান্তে ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব কি না- এ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি মন্ত্রীর কাছে।

স্বল্প সময়ের মধ্যে রপ্তানি শুরু করার পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত কি না- এই প্রশ্নে তিনি বলেন, “একদম স্বল্প সময়ের মধ্যে সম্ভব না। তবে লবণ দিয়ে চামড়া রেখে দিলে রপ্তানি করা যাবে।”

 

 

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno