চকরিয়া-পেকুয়ার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ঢল

Pic-2Pekua-16.08.2019-2.jpg

মুকুল কান্তি দাশ,চকরিয়া থেকে(১৬ আগস্ট) :: রোদ-ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদের দিন বিকাল থেকে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মূখরিত হয়ে উঠেছে ককক্সবাজারের চকরিয়ার বিনোদন কেন্দ্রগুলো। কাজের ভারে নুইয়ে পড়া মানুষ এক ঘেয়েমি কাটাতে ছুটে যায় দেশের উপভোগ্য স্থান গুলোতে।

তন্মধ্যে কক্সবাজারের চকরিয়াস্থ ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক এবং পেকুয়ার মগনামা জেটিঘাটে দর্শনার্থীদের ভীড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের শহুরে দর্শনার্থীরাও বৈচিত্রময় ও প্রায় বিলুপ্ত পশু-পাখি দেখতে ভিড় করছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে। প্রতিদিন কম করে হলেও ১০ থেকে ১৫ হাজার দর্শনার্থীর পা পড়ছে সাফারি পার্কে। আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সাফারি পার্কে পর্যটক ও স্থানীয় দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গরমের সাথে হাল্কা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভ্রমণের জন্য পর্যটক ও দর্শনার্থীরা পার্কে ভিড় জমাচ্ছে। পার্কে থাকা বাঘ, সিংহ, উল্টো লেজী বানর, লাম চিতা, হনুমান, উল্লুক, কালো শিয়াল, জলহস্তী, ওয়াইল্ডবিষ্ট, চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, প্যারা হরিণ, মিঠা পানির কুমির, মঁয়ূর, বনমোরগ, বন্য শুকর, তারকা কচ্ছপ, বানরসহ অসংখ্য বন্যপ্রাণী ঘুরে ফিরে দেখছিল দর্শনার্থীরা।

তবে, অধিকাংশ দর্শনার্থীরা অভিযোগ করে বলেছেন, পার্কে নতুন কোন অতিথি নাই। পাশাপাশি পার্কের ভিতরে সড়কের অবস্থাও বেহাল। পার্কের চারপাশ উপর থেকে দেখার জন্য একটি ১০ তলা বিশিষ্ট টাওয়ার থাকলেও তা বন্ধ করে রেখেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। অনেকটা শ্রীহীন হয়ে পড়েছে পার্কটি। এব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন দর্শনার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্কে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগ ছোট বাচ্চা। এছাড়া তরুণ-তরুণী, কিশোর-কিশোরীদের পদচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা বন্যপ্রাণী দেখার পাশাপাশি সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মনের সুখে উপভোগ করছেন নান্দনিক বৃক্ষ রাজির ফাঁকে ফাঁকে উন্মুক্ত বিচরণ করা হরিণ, খরগুস, বানর। বেশিরভাগ দর্শনার্থী ও পর্যটকদের কাছে আকর্ষনীয় ছিল বাঘ, সিংহ এবং জলহস্তীর বেষ্টনী।

সাফারি পার্ক সূত্র জানায়, সোমবার ঈদের দিন বিকাল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পার্কে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম হয়েছে। পার্কের প্রধান গেইটের বাইরে নির্মিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বিশাল ম্যুরাল ছাড়াও পার্কের বাইরে নব-নির্মিত লেক ও বাগান ছিল দর্শনার্থীদের কাছে বেশ আকর্ষনীয়।

সাফারি পার্কের ফরেস্টার মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পার্কে নতুন কোন প্রাণী না থাকলেও অন্যান্যবারের চেয়ে এবার দর্শনার্থী ছিল প্রচুর। অনেকে পায়ে হেটে আবার অনেকে পার্কের নিদিষ্ট মিনিবাসে করে ঘুরে ঘুরে দেখছেন প্রাণীদের বেষ্টনিগুলো। প্রতিদিন ১৫-২০ হাজার দর্শনার্থীর আগমন ঘটছে পার্কে। এই ধারা আগামী এক সপ্তাহ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

টুরিষ্ট পুলিশ ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের পুলিশ পরিদর্শক সুনিল বরণ দাশ বলেন, ঈদ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভবনা নেই।

অপরদিকে, ঈদের আনন্দকে আরো উপভোগ্য করে তুলতে ও সাগরের খোলা হওয়া আর ঝাউবনের অপরূপ দৃশ্য দেখতে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা জেটিঘাটে ভীড় জমেছে দর্শনার্থীদের। মুলত এই জেটিঘাটটি পেকুয়া-কুতুবদিয়া মানুষের সাগর পথে পারাপারের জন্য তৈরী করা হলেও বর্তমানে এই জেটিঘাটটি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দর্শনীয় স্থানে রুপ নিয়েছে। আর ঈদ ও বাঙ্গালীর নানা সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে জেটিঘাটটি দর্শনার্থীদের পদচারণায় ছিল মূখর।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে মগনামা জেটিঘাট দর্শনার্থীতে ভরপুর হয়ে উঠেছে। কেউ ইঞ্জিন চালিত বোট নিয়ে ঘুরে দেখছেন সাগরের ঢেউ। আবার কেউ জেটিঘাটে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। ছবি ও সেলফি তোলায় ব্যস্ত রয়েছে নব-দম্পতি থেকে শুরু তরুণ-তরুনী ও যুবক-যুবতীরা।

সবে বিয়ে করেছেন নারায়ান-চৈতী। ঘাটে বেড়াতে এসেছে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে। কথা হয় তাদের সাথে। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরে আসবো আসবো চিন্তা করছি। কিন্তু সময়ের অভাবে আসা হয়নি। অনেক কষ্টে কয়েকঘন্টা সময় বের করে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে এসেছি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইঞ্জিন চালিত বোটে করে সাগরের ঢেউ দেখেছি। জায়গাটি সত্যি খুব সুন্দর। ভাল লগেছে।

অপর এক দর্শনার্থী শহিদুল ইসলাম। বাড়ি চকরিয়ার পৌরশহরে। কয়েক মাসের ছুটি নিয়ে আবুধাবী থেকে দেশে এসেছেন বেড়াতে। তিনি জানান, চকরিয়া-পেকুয়ায় ঘুরে বেড়ানোর মতো স্থান খুব কম। চকরিয়ায় সাফারী পার্ক ছাড়া তেমন কোন বিনোদনের জায়গা নেই। দেশে আসার পর মগনানা জেটিঘাটের কথা শুনে বন্ধুদের সাথে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। খুবই ভাল লেগেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু তালেব বলেন, আমার মনে হয় যাঁরা কক্সবাজার যেতে পারেন না, অল্প সময় ও স্বল্প খরচে তাঁদের জন্য বিনোদনের উপযুক্ত জায়গা মগনামা জেটিঘাট। জেটিঘাটের আশপাশের জায়গায় ভাল মানের কিছু রেস্টেুরেন্ট বসালে আরো ভাল হতো।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে বেড়িবাঁধে বসানো ব্লকগুলোকে সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। করা হয়েছে বসার উপযোগী করে। ঈদ-পার্বন ছাড়াও প্রতিদিন শত শত দর্শনার্থী আসছে জেটিঘাটে। সাগরের ঢেউ আর সুর্যাস্ত দেখতে।

এ ব্যাপারে জানতে জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম লিটু বলেন, মগনামা ঘাট দিয়ে প্রতিদিন অন্তত হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। পাশাপাশি বর্তমানে বিনোদন প্রেমীদের জন্যও আর্কষনীয় পর্যটন স্পর্ট হিসেবে গড়ে উঠেছে। আমি জেলা পরিষদের সভায় মগনামা ঘাটটিকে কিভাবে আধুনিকায়ন করা যায় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করবো।

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জাকির হোসেন ভুঁইয়া বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে দর্শনার্থীদেও আগমন বেড়েছে। তাই দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশা করি অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটবেনা।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.মাহাবুবুউল করিম বলেন, মগনামা জেটিঘাট আসলে জেলা পরিষদের অধীনে। তাই এখানে আমরা কিছু করতে চাইলেও করতে পারিনা। তবে, ঘাটটি যাতে পর্যটন উপযোগী করে তুলা যায় সেজন্য ডিসি স্যারকে জানাবো।

Share this post

PinIt
scroll to top
alsancak escort bornova escort gaziemir escort izmir escort buca escort karsiyaka escort cesme escort ucyol escort gaziemir escort mavisehir escort buca escort izmir escort alsancak escort manisa escort buca escort buca escort bornova escort gaziemir escort alsancak escort karsiyaka escort bornova escort gaziemir escort buca escort porno