২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা !

Rohingya-shalbon-camp-Repatreation-point-1.jpg

হুমায়ূন রশিদ,টেকনাফ(২১ আগষ্ট) :: কক্সবাজার থেকে ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তালিকাভূক্ত তিন হাজার ৪৫০ জন রোহিঙ্গাদের অনিহার কারণে তা এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এরফলে যে কোন মূহুর্তে ২২ আগস্ট’র রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রত্যাবাসনে তালিকাভূক্তদের দাবী রোহিঙ্গা হিসেবে নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত না হলে মিয়ানমারে যাবেনা।

এদিকে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমার নাগরিকদের স্বদেশ প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য আশ্রয় কেন্দ্র এবং জেটিঘাট প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।আর যেকোন মূল্যে কাংখিত এই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফল করতে প্রস্তুত রয়েছে সরকার।তবে কাউকে জোর করে ফেরত পাঠানো হবে না। বাংলাদেশ একটি নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন ছাড়া আর কিছুই চায় না।

তবে অনেক দেশী-বিদেশী এনজিও প্রত্যাবাসনে তালিকাভূক্ত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ছেড়ে আত্বগোপনে যেতে প্ররোচিত করায় অনেক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আতংকে টেকনাফ শালবন ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে। যার ফলে শেষদিন এই প্রত্যাবাসন সফলতা রোহিঙ্গাদের সদিচ্ছার উপরই নির্ভর করছে।

এদিকে ২১ আগষ্ট সরেজমিনে দেখা যায়,রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য শালবাগান ক্যাম্প ইনচার্জ অফিসের পাশে এবং কেরুনতলীতে প্রত্যাবাসন বিশেষ আশ্রয়ন কেন্দ্র তৈরী করা হয়েছে। প্রস্তুত করা হয়েছে প্রত্যাবাসন জেটিঘাটও।

এই প্রত্যাবাসন সফল করতে শরণার্থী ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কমিশনারের লোকজনসহ ইউএনএইচসিআরের লোকজন কাজ করে আসছে। এই লক্ষ্যে সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তৎপর রয়েছে।

তবুও সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনকারী রোহিঙ্গাদের কেউ এখনো এসব আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান না নেওয়ায় অনেকের মধ্যে এই প্রত্যাবাসন নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

গত বছর ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রথম পদক্ষেপ ব্যর্থ হওয়ার পর আবারো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তৎপরতার পর প্রাথমিকভাবে ৩হাজার ৪শ ৫০জনের এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এই প্রক্রিয়াটি মুলত রোহিঙ্গাদের সদিচ্ছার উপরই নির্ভর করছে।

উক্ত বিষয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একাধিক মুরুব্বী ও নেতাদের সাথে আলাপকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,রোহিঙ্গাদের উত্থাপিত ৫ুট দাবী পূরণ হলেই রোহিঙ্গারা ওপারে যেতে পারে। অন্যথায় রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

গোপনীয় একটি সুত্রের দাবী, এসব রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ন্ত্রণকারী উগ্রপন্থী স্বশস্ত্র গ্রুপের লোকজনের কাছে এসব রোহিঙ্গারা জিম্মি এবং নিরাপত্তাহীন অবস্থায় রয়েছে। তাই তাদের কথার বাহিরে গেলে রাতে হামলার আশংকায় মিয়ানমার ফিরতে আগ্রহী অনেকে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারছেনা।

এছাড়া কতিপয় দেশী-বিদেশী এনজিও কর্মকর্তাদের রহস্যজনক কর্মকান্ড রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বিরোধী হিসেবে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলেও বিভিন্ন সুত্রের দাবী।

২৬নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি খালেদ হোসেন দুপুরে বলেন,গত ২০ আগষ্ট ২১পরিবার এবং আজ ২১ আগষ্ট অদ্যবধি ৮০ পরিবার স্বেচ্ছায় স্বদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য মতামত দিয়েছেন।

বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই মতামত নেওয়া হবে। কেউ প্রত্যাবাসন বিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাই কাংখিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমরা প্রস্তুত রয়েছি।

এই ব্যাপারে কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোঃ আবুল কালাম জানান,এই প্রত্যাবাসন কার্য্যক্রম সফল করতে আমরা প্রস্তুত। আশাকরি নির্ধারিত সময়ে সফলভাবে এই প্রত্যাবাসন শুরু হবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri