রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ এখন কোথায় ?

Rohingya-leader-Mohibullah-25.8.jpg

২৫ আগস্ট লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশকালে মিয়ানমারের রয়টাসের সাংবাদিক পাম্পী মাইকেল ও মহিবুল্লাহ

বিশেষ প্রতিবেদক(৩০ আগস্ট) :: রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) নিয়ে তোলপাড় চলছে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের ভেতরে ও বাইরে।সবারই একটি প্রশ্ন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ এখন কোথায় ?

এদিকে প্রভাবশালী দেশের মদদপুষ্ট মুহিবুল্লাহ সংগঠনটির ভেতরের গোপন খবর ক্রমেই প্রকাশ পাচ্ছে। জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির আদলেই সংগঠনটির দায়িত্বশীল ‘মজলিসে শুরার’ সদস্যরা মাসিক বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন।

জানা গেছে ‘মজলিসে শুরার’ ৫২ সদস্যের মধ্যে ৫১ জনই প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে পান। মূল ব্যক্তি মুহিবুল্লাহ কত পান তা বাকি সদস্যরা জানেন না। আর এসব অর্থ কোথা থেকে আসে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

মুহিবুল্লাহর নেতৃত্বে গত ২৫ আগস্ট লাখো রোহিঙ্গার সমাবেশ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে তাঁকে।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুহিবুল্লাহকে তাঁর রোহিঙ্গা শিবিরের অফিস থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তাঁর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) হিসেবে পরিচিত এমদাদ হোসেনসহ আরো কয়েকজন রোহিঙ্গা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তবে পুলিশ ও রোহিঙ্গা শিবিরের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তারা বিষয়টি অবগত নয় বলে জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর সংগঠন এআরএসপিএইচ নিয়েও নানা কথা উঠেছে। কুতুপালংয়ের এক নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের লম্বাশিয়া চারমাথা এলাকায় সংগঠনটির বিশাল অফিস খুলেছেন তিনি। অফিসের পাশেই রয়েছে মুহিবুল্লাহর জন্য বরাদ্দ করা বস্তির ঘর। অফিসে যথারীতি ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে পিয়ন ও তাঁর ব্যক্তিগত সচিবও রয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুহিবুল্লাহ মিয়ানমারের রাখাইনের মংডু এলাকার লংডাছড়া গ্রামের মৌলভি ফজল আহমদের ছেলে। ২০১০ সালের দিকে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলে মুহিবুল্লাহ মংডু টাউনশিপের নেতৃত্বে আসেন। সেই সময় চাঁদাবাজিসহ বড় ধরনের আর্থিক কেলেংকারিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

এ ঘটনার পর মিয়ানমার বাহিনীর দায়ের করা মামলার আসামি হয়ে শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা ঢলে তিনিও পাড়ি জমান বাংলাদেশে।

উখিয়ার কুতুপালং শিবিরে আশ্রয় নিয়েই মুহিবুল্লাহ বিদেশি ব্যক্তি ও সংস্থার চোখে পড়ে যান। তাদেরই পৃষ্ঠপোষকতায় তিনি ধীরে ধীরে রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠন গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন।

এআরএসপিএইচ গঠন করে বিদেশি একটি মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়ে যান। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও সাক্ষাতের সুযোগ পান।

এদিকে রোহিঙ্গা শিবিরে দীর্ঘদিন ধরে গোপনে কাজ করে আসা পাকিস্তান ভিত্তিক সংগঠন আল খিদমত ফাউন্ডেশনের লোকজনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজেও পাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

এ সংগঠনের সঙ্গে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া-মহেশখালী থেকে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সংসদ সদস্য এম এইচ হামিদুর রহমান আযাদের সুসম্পর্কের কথাও সবার জানা রয়েছে।

কক্সবাজারে বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) কর্মকাণ্ড তদারকির দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার রোহিঙ্গা শিবিরে এনজিওগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে জানিয়েছেন, সেন্টার ফর সোশ্যাল ইন্টারগ্রিটি (সিএসআই) নামে মিয়ানমারভিত্তিক একটি এনজিওর গোপন তথ্যাবলি সংগ্রহেরও কাজ চলছে।

শিবিরে কর্মরত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিরোধী কাজে জড়িত এনজিওগুলো শনাক্তের কাজও চলছে বলে তিনি জানান।

এদিকে গত ২৫ আগস্ট কুতুপালং ৪ নম্বর শিবিরের বর্ধিতাংশের খোলা মাঠে ৩ থেকে ৫ লাখ লোকের সমাবেশ করতে ২২ আগস্ট লিখিত আবেদন করেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ। ক্যাম্পটির ইনচার্জ সিআইসি উপসচিব শামিমুল হক পাভেল সেদিনই অনুমতি দিয়ে দেন। কিন্তু এ বিষয়ে উখিয়া বা কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসনকে কিছুই জানানো হয়নি। পরে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ‘আমাকে সমাবেশ আয়োজনের কথা বলা হয়নি। তবে বিশালসংখ্যক রোহিঙ্গার অংশগ্রহণে সমাবেশের কথা শুনেই আমি আরআরআরসি স্যারের কাছে আমার উদ্বেগের কথা জানাই। জবাবে আরআরআরসি স্যার বলেন, কোনো অসুবিধা হবে না। এ রকম সমাবেশ আয়োজনে বিদেশিরা খুশি হবেন।’

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri