ইরানে হামলার ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের

trump-iran.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১৬ সেপ্টম্বর) :: সৌদি আরবের দুটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় ইরানের জড়িত থাকার পক্ষে ‘গোয়েন্দা প্রমাণ’ হাজির করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের মতে, হামলার ঘটনাস্থলের চিত্র বলছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা নয়, হামলা হয়েছে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম প্রান্ত তথা ইরান থেকে। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবারের মতো ওই হামলার সামরিক জবাব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এদিকে চীন বলেছে, নিবিড় অনুসন্ধান ছাড়া কাউকে দোষারোপ করা দায়িত্বহীনতা। ইরান এই চাপের মুখেও জানিয়েছে, আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন চলাকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন না পারস্য প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

সৌদি আরবের দুটি তেলক্ষেত্রে হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। গত শনিবারের ওই হামলায় সৌদির তেল উৎপাদন ৫০ শতাংশ ও বিশ্বের তেল উৎপাদন ৫ শতাংশে নেমে যাওয়ায় এ দাম বৃদ্ধি ঘটে। এরই মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ২০ শতাংশ বেড়ে ৭১ মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এটাই তেলের সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধির ঘটনা।

গত শনিবার ভোরে সৌদির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে দেশটির সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্র আবকাইক ও এর পাশের তেলক্ষেত্র খুরাইসে ড্রোন হামলা হয়। হামলার পর ওই দিনই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ইরানকে দায়ী করেন। ইরান কঠোর ভাষায় এর দায় অস্বীকার করে বলে, এটা ইরানে হামলার জন্য অজুহাত খোঁজার চেষ্টা। এর মধ্যেই রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক টুইটে বলেন, হামলায় কারা দায়ী যুক্তরাষ্ট্র তা জানে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস করার কারণ আছে যে আমরা জানি অপরাধী কারা। আমরা যাচাই সাপেক্ষে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে সৌদি আরব কী বিশ্বাস করতে চায় তা শোনার অপেক্ষায় আছি আমরা।’

তেল স্থাপনায় হামলার পেছনে ইরানই দায়ী—এমন দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র উপগ্রহের ছবি ও গোয়েন্দা তথ্য সামনে এনেছে। নাম প্রকাশ না করে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক টাইমস, এবিসি ও রয়টার্সের কাছে এ বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, সৌদি তেল শিল্পক্ষেত্রের কেন্দ্রস্থলে হামলাটি পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হয়েছে। সেটি দক্ষিণে ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত কোনো এলাকা নয় বলে দাবি করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। কারণ হুতিদের অবস্থান ঘটনাস্থল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায়।

ওই মার্কিন কর্মকর্তা হামলায় ১৯টি ‘পয়েন্ট অব ইমপ্যাক্ট’ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। তাঁর মতে, হামলার এ দিক ইঙ্গিত করছে, উেক্ষপণকেন্দ্রগুলো সম্ভবত উপসাগরের উত্তর অংশে, ইরান কিংবা ইরাকে ছিল। তিনি আবকাইক তেল শোধনাগার প্লান্টের ক্ষতিগ্রস্ত একটি পয়েন্টের ক্লোজআপ ছবি বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘ইমপ্যাক্ট পয়েন্ট’ বলছে, হামলা পশ্চিম দিক থেকে হয়েছে। তাঁর ধারণা, ওই হামলায় ড্রোনের পাশাপাশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

চীনের সতর্কতা : সৌদির তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলায় ইরানকে দোষারোপের ঘটনায় চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংযমের নীতি অবলম্বনের জন্য আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনইং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান ও রায় ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা দায়িত্বশীলতা নয়। দ্বন্দ্ব তীব্র হয়—এমন কোনো পদক্ষেপের আমরা বিরোধিতা করি। আমরা আশা করি, দুই পক্ষই সংযমের পরিচয় দেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতা যৌথ নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করবে।’

হামলার পর গতকাল সোমবার প্রথমবারের মতো এসএস মার্কেট খুলেছে। তাতে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২০ শতাংশ তথা ১২ মার্কিন ডলার বেড়ে ৭১ শতাংশের ওপরে উঠেছে। এ ছাড়া এশিয়ায় ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে (ডাব্লিউটিআই) ব্যারেলপ্রতি ৮ দশমিক ৯ ডলার তথা ১৫ শতাংশ বেড়েছে। ১৯৯০-৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এটাই সর্বোচ্চ দাম বৃদ্ধির ঘটনা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বাজারে মার্কিন মজুদ থেকে তেল ছাড়ার অনুমোদন দেওয়ার পর দর খানিকটা নেমে আসে বলে বিবিসি জানিয়েছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক নয়, বলল ইরান : গত রবিবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, ট্রাম্প তাঁর প্রতিপক্ষ হাসান রুহানির সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান। এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্বাস মৌসুভি গতকাল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বৈঠকে বসতে আমাদের কোনো পরিকল্পনা নেই। এমনকি আমরা ভাবছিও না যে নিউ ইয়র্কে এমন কিছু ঘটতে পারে।’ বিবৃতিতে তিনি আবারও পরমাণু চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসার শর্তে বৈঠকে বসার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, দি সান (ইউকে)।

Share this post

PinIt
scroll to top
bahis siteleri