buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

pm1-1.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(১ অক্টোবর) :: ওয়ান-ইলেভেনের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে ওয়ান-ইলেভেন জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ তাঁর সরকার আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটতে পারে।

নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় গত রবিবার বিকেলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি দেশে শুরু হওয়া দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেছেন, সামগ্রিক স্বার্থেই সমাজে বৈষম্যের জায়গাটিতে এ ধরনের আঘাতের প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে জন্য আগে থেকেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমি এটুকু বলতে পারি, ওয়ান-ইলেভেন হওয়া লাগবে না। যদি কোনো অনিয়ম থেকে থাকে, আমি ব্যবস্থা নেব, আমরা ব্যবস্থা নেব এবং সে যেই হোক না কেন, এমনকি তারা আমার দলের হলেও। যদি আমি দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দিতে চাই, আমার ঘর থেকেই তা আগে শুরু করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকল্প প্রস্তুতি থেকে শুরু করে প্রকল্পের কাজ পাওয়ার জন্য অর্থ বিতরণের সুযোগ নিয়ে কিছু লোক বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাচ্ছেন। এই অর্থ চটের বস্তাতেও লুকিয়ে রাখা হচ্ছে এবং ওয়ান-ইলেভেনের পটপরিবর্তনের পর আমরা এটা দেখেছি।’ তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে যে সম্পদ আসে তা দেখানো কিছু মানুষের স্বভাব। আমাদের সমাজের এই অংশটিকে আঘাত করতে হবে।’

সমাজে সমতা আনতে দুর্নীতিবিরোধী এ ধরনের অভিযানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া লোকজনের কারণে সামাজিক বৈষম্য বাড়ে এবং সত্ভাবে যারা আয়-উপার্জন করেন তাঁদের সন্তানরা হতাশায় ভোগেন। শিশুরা তো বুঝতে পারে না, তাই তারা মা-বাবার কাছে জানতে চায়, ‘ওরা যদি দামি গাড়িতে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারে, দামি পোশাক পরতে পারে, আমরা কেন পারি না?’ এমন পরিস্থিতিতে একটি সমাজ এগোতে পারে না। এমন পরিস্থিতির অবসানের জন্যই একটি আঘাত দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। সেটি করা হচ্ছে সামগ্রিক স্বার্থে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে অনিয়ম, সেটির শুরু কোথায়, গোড়াটা কোথায়, সেটি তো দেখতে হবে। পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পরই যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করতে শুরু করেছে, ক্ষমতায় বসে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট দিয়ে রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করতে চাইছে, তখনই তারা একটি এলিট শ্রেণি তৈরি করেছে, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন শুরু হয়েছে। মানি ইজ নট আ প্রবলেম—এমন কথা বলেই তো কাড়ি কাড়ি টাকা দিয়ে রাজনীতিকে নষ্ট করা হয়েছে। এখনো তারাই ঘুষ খাবে, দুর্নীতি করবে, সব কিছু করবে। আবার হালাল মাংসও খুঁজবে। এটাই তো ওদের চরিত্র।’ তিনি বলেন, ‘মসজিদে যাবে নামাজ পড়তে, সেখানে গিয়েও তার ফুটানি দেখাতে হবে, তার বডিগার্ড থাকবে, তার জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে রাখতে হবে, তার গাড়ি ঢুকবে বলে সব গাড়ি বন্ধ হয়ে যাবে, তার স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স—যাদের কোনো লাইসেন্স নেই, কোনো নিয়ম নেই, কিছু নেই, মনে হয় কোনো দেশের রাজা এসেছে নামাজ পড়তে। এমন বৈষম্য কেন থাকবে?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মানুষ যত ওপরে ওঠে, তত ভদ্র হতে হয়, হাম্বল হতে হয়। আর আমাদের উল্টো। এটা হয় তখনই, যখন হঠাৎ করে পয়সার জোরে নিচ থেকে অনেক ওপরে যায়, তখন তারা ভাবে ‘মুই কী হনুরে’। সমাজের এই জায়গাটায় একটি আঘাত দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। অসৎ উপায়ে অর্জিত অর্থের বাহাদুরি, সে সম্পদের শো-অফ করা, আর যারা সৎপথে চলবে, তারা একেবারে মরে থাকবে, এটা তো হতে পারে না।”

তিনি বলেন, ‘আমি অভিযান চালাচ্ছি। কিছু মানুষ অখুশি হতে পারে। তাতে আমার কিছু আসে যায় না। কারণ আমার কোনো সম্পদের মোহ নেই। ক্ষমতারও মোহ নেই। আমার বাবা দেশটা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। আমি দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই তাঁর আদর্শ দিয়ে, স্বপ্ন নিয়ে। আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। আজ অর্থনীতি উন্নত হচ্ছে। সবাই ভালো থাকুক—এটা আমি চাই। কিন্তু এই সুযোগ নিয়ে মুষ্টিমেয় লোক সমাজটাকে কলুষিত করবে, এটা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ওয়ান-ইলেভেন আসবে না। ওয়ান-ইলেভেন আসা লাগবে না। যা করার আমি করব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না, সে যে দলেরই হোক। ঋণখেলাপি কমিয়ে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি, জুয়া ও ক্যাসিনো সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিরা যারা এই দেশে (যুক্তরাষ্ট্র) রয়েছে, তাদের বাংলাদেশের কাছে ফিরিয়ে দিতে এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে একটি চিঠি দিয়েছি। এ কথা তাঁকে আমি সরাসরি বলেছিও।’ তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, কোনো অপরাধীকে তিনি তাঁর দেশে থাকতে দেবেন না। সবচেয়ে বড় ক্রিমিনাল জাতির পিতার হত্যাকারী।’

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই সমস্যা মিয়ানমারই তৈরি করেছে। তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে। তাদের দেশের মানুষ, বাইরের দেশে উদ্বাস্তু হয়ে আছে, সেটা কোনো ভালো কথা নয়।’

আরেকটি প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী বছর জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ পালিত হবে জাতিসংঘে। সেটা সেপ্টেম্বরে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতেও হতে পারে। সেই সঙ্গে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সহায়তার জন্য হওয়া কনসার্ট ফর বাংলাদেশের আদলে স্বাধীনতার ৫০ বছরে যদি নিউ ইয়র্কের মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে কিছু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তাহলে সরকার সর্বাত্মক সহায়তা দেবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দেওয়াসহ নিউ ইয়র্ক সফরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন। যুক্তরাষ্ট্রে আট দিনের সরকারি সফর শেষে রবিবার রাতেই দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী; আজ মঙ্গলবার তাঁর দেশে পৌঁছার কথা।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri