মিয়ানমার নির্বাচনে সামরিক ভোট কেন্দ্রের বিলুপ্তি চায় ইসি

myanmar-elec.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৬ নভেম্বর) :: মিয়ানমারের ইউনিয়ন ইলেকশান কমিশন (ইউইসি) নির্বাচনী আচরণবিধিতে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে, যেখানে সামরিক বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সামরিক এলাকার বাইরে ভোট দিতে পারবেন। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে কার্যত সামরিক ভোটকেন্দ্রের বিলুপ্তি ঘটবে।

২০১০ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকে সামরিক বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে বিভিন্ন এলাকায় সামরিক ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ভোট দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়, যেখানে তাদের সিনিয়র কর্মকর্তারা নজরদারিতে ছিলেন। মিয়ানমারে ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং ২০১২, ২০১৭ ও ২০১৮ সালের তিনটি উপনির্বাচনে সামরিক ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে স্থাপিত ভোট কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তাজনিত কারণে নজরদারির সুযোগ ছিল খুবই সামান্য।

নির্বাচনী আইনের সংশোধনের যে প্রস্তাব নির্বাচন কমিশন পার্লামেন্টের কাছে পাঠিয়েছে, সেখানে সামরিক বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্যারাকের বাইরে ভোট দেয়া বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে যাতে “তারা বেসামরিক নাগরিকদের সাথে ভোট দিতে পারেন এবং ভোট স্বচ্ছ হয় এবং যাতে প্রার্থী, পর্যবেক্ষক ও দলীয় প্রতিনিধিরা নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ ও পর্যবেক্ষণ করতে পারেন”।

অনেকেই উদ্বেগ জানিয়েছেন যে, সামরিক ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন না, কারণ সামরিক এলাকার মধ্যে ভোটকেন্দ্রে তাদের কমান্ডাররা তাদের উপর নজর রাখেন।

কিছু রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা বলেছেন যে সামরিক বাহিনীর সদস্যদেরকে এমন দলকে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়, যাদেরকে তাদের কমান্ডাররা সমর্থন করেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে সিনিয়র কর্মকর্তারা সরাসরি তাদের অধীনস্থদের ভোট নিয়ন্ত্রণ করেন। তারা যে সব ব্যালট পান, সেগুলোতে আগেই সিল দেয়া থাকে এবং তাদের সিনিয়র কর্মকর্তারা তাদের হয়ে ভোট দিয়ে দেন।

আগের নির্বাচনগুলোতে সামরিক বাহিনী সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) সামরিক ক্যান্টনমেন্টের ভেতরের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক ভূমিধস বিজয় পায় এবং অন্যান্য দলগুলো সেখানে সামান্য কিছু ভোট পায়।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রায় পাঁচ লক্ষের মতো সেনা রয়েছে। এদের সাথে পরিবারের সদস্য যুক্ত হয়ে ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় এক মিলিয়নের বেশি। ২০১৫ সালে মিয়ানমারের ভোট সক্ষম ভোটার ছিল ৩২ মিলিয়ন।

সেপ্টেম্বর মাসে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) মিডিয়াকে বলেছিল যে, ব্যারাকের ভেতরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের তারা বিরোধী এবং আগামী নির্বাচনের আগে তারা নির্বাচনী আইনে সম্ভাব্য পরিবর্তনের দাবি জানাবেন।

সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুন তুন নি এনএলডির আপত্তির জবাবে বলেছিলেন, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ব্যারাকের ভেতরে ভোট দিতে হয় কারণ তাদের বাইরে যাওয়ার সময় থাকে না।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri