দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ

PM-1911071331.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(৭ নভেম্বর) ::  দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি বিরোধী আন্দোলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যারা ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন তাদের তা প্রমাণ করতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। আর তা না হলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমি ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছি, আন্দোলনে সকলের কথা, বক্তৃতা লিফলেট সব রেকর্ড করতে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে লক্ষ্য করেছি, কথা নাই বার্তা নাই ভিসির বিরুদ্ধে আন্দোলন, ভিসিকে দুর্নীতিবাজ বলছে। যারা দুর্নীতির অভিযোগ আনছে তাদেরকে এই অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে, তথ্য দিতে হবে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। কিন্তু কোন নির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারবে না, আবার সময় নষ্ট করবে, ক্লাস চলতে দেবে না, আন্দোলনের নামে ভিসির বাড়িতে আক্রমণ, অফিসে আক্রমণ, ভাঙ্চুর- এটাও এক ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। ছাত্র-শিক্ষকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ড কেন ঘটাবে?’

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারি বরাদ্দের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘তারা ক্লাস কেন বন্ধ করবে? প্রত্যেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য কত টাকা খরচ করে? খরচতো সরকারের পক্ষ থেকে করি। স্বায়ত্তশাসন তাদের আছে, স্বায়ত্তশাসিত হলেতো তাদের নিজেদের অর্থের জোগান দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠান চালানোর কথা। কিন্তু প্রতি বছর বাজেটে আমরা টাকা দেই। টাকা আমরা দেব, আর সেখানে সরকার কিছুই করতে পারবে না। আর এভাবে দিনের পর দিন ক্লাস বন্ধ করে থাকবে। এটাতো হয় না।’

জাহাঙ্গীরনগরে ভিসির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগকারীরা প্রমাণ করতে না পারলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের (দুর্নীতির অভিযোগ) প্রমাণ করতে হবে।… যারা অভিযোগ নিয়ে এসেছে, যারা আন্দোলনে বক্তৃতা দিচ্ছে; তাদের ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। যদি প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে দুর্নীতি করলে যে শাস্তি, অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হলেও অভিযোগকারীও সেই সাজা ভোগ করবে। এটা আইনে আছে। মিথ্যা অভিযোগ করলে আইন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে এবং সেই ব্যবস্থা কিন্তু আমরা নেবো। এটা আপনাদের জানিয়ে দিলাম। আমি ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছি, সকলের কথা, বক্তৃতা লিফলেট সব রেকর্ড করতে বলে দিয়েছি।’

এসময় বুয়েটে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে চলমান আন্দোলন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন,‘বুয়েটে আবরার হত্যায় আমরা সাথে সাথে সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। সকলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ছাত্রদের আন্দোলনের আগেই তখনই আমরা অ্যাকশনে নিয়েছি। গ্রেফতার হয়েছে, মামলা চলছে- তারপরও সেখানে আন্দোলন কেন? দিনের পর দিন ক্লাস চলতে দেবে না, নিজেরা ক্লাস করবে না। তাহলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে কেন? এ ধরনের যারা কাজ করবে তাদের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক্সপেলড (বহিষ্কার) করে দেওয়া উচিৎ।’

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri