পেকুয়ায় রিক্সা চালকের জায়গায় ভাইস চেয়ারম্যানের স্কুল!

pekua-map.png

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(৮ নভেম্বর) :: কক্সবাজারের পেকুয়ায় উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ) এম, আজিজুল হকের বিরুদ্ধে স্কুল দিয়ে জমি জবর দখলের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৩০ শতক পৈত্রিক জমি নিয়ে সৎ ভাই বোনদের মধ্যে বিরোধের সুত্রপাত হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক বিরোধীয় ওই জমি রেকর্ডীয় মালিকের এক পক্ষ থেকে আগাম নিয়েছিল। সন সন খাজনা পরিশোধ পূর্বক ওই ভাইস চেয়ারম্যান দীর্ঘ ১৫/২০ বছর যাবৎ ৭ শতকেরও বেশী জমি ভোগ করছিলেন। চাষা হিসেবে ওই জমিতে তিনি বর্ষার সময় ফসল ও মৎস্য উৎপাদন করছিলেন।

এ দিকে উজানটিয়া মৌজার ৩০ শতক পৈত্রিক অংশের জমির মধ্যে সাড়ে ৭ শতক জমি বেহাত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সুত্র জানায়, সাড়ে ৭ শতক জায়গা জবর দখল নিতে উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক কয়েক বছর ধরে প্রাণপন প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এর সুত্র ধরে প্রভাবশালী ওই ক্ষমতাধর ব্যক্তি বিরোধীয় জমিতে অনুপ্রবেশ পূর্বক ওই স্থানে স্কুল ভবন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছিলেন। প্রাপ্ত সুত্র জানায়, উজানটিয়া মৌজার ৩০ শতক জমির মালিক মৃত ছৈয়দ আহমদ। ছৈয়দ আহমদের সংসারে দু’স্ত্রী ছিল। প্রথম স্ত্রীর সংসারে ১ ছেলে ও ২ মেয়ে আছে। দ্বিতীয় স্ত্রীর সংসারে ২ ছেলে, ১ মেয়েসহ মৃত ব্যক্তির ৬ জন ওয়ারিশ। প্রথম স্ত্রীর ছেলে মেয়েদের প্রাপ্ত অংশ আজিজুল হককে লাগিয়ত করছিলেন। ছৈয়দ আহমদের আপন ভাগিনা হচ্ছেন উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান এম আজিজুল হক।

ছৈয়দ আহমদের ছেলে মোহাম্মদ আলী, মিনুয়ারা বেগম ও ছেনুয়ারা বেগমের অংশ সমুহ মামাতো ভাই রক্ষনাবেক্ষন করছিলেন। খতিয়ানি জমি ছাড়াও সোনালী বাজারের নিকটে ছৈয়দ আহমদের বসতবাড়ি আছে। ওই সম্পত্তি পাউবোর মালিকানাধীন ও সরকারের পিএফভূক্ত সম্পত্তি। তবে এসব জমি ছৈয়দ আহমদ আবাদ করে বসতবাড়িসহ ব্যবসা প্রতিষ্টান নির্মাণ করে দোকান ভাড়া দিয়েছিলেন। ছৈয়দ আহমদ মৃত্যুর পর তার প্রথম স্ত্রীর ওয়ারিশরা সোনালী বাজারের লাগোয়া অংশ দোকান ও বসতবাড়ি নিয়ে বসবাস করছিলেন।

সুত্র জানায়, নন জুড়িসিয়াল স্ট্যাম্পমূলে আজিজুল হক মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে একটি দোকান ফটক ক্রয় করে। পিএফ ও নাল জমিসহ অবশিষ্ট জায়গা আগাম নিয়ে ভোগ দখল করছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, আজিজুল হক তার এক মামাতো ভাই ও দু’মামাতো বোনকে উচ্ছেদের কু-মানসে মামার সম্পত্তিতে অনুমতি ছাড়াই স্কুল ভবন নির্মাণ করে। সোনালী বাজারের নিকট একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল প্রতিষ্টিত হয়েছে। স্কুলটির নাম সোনালী কিন্ডার গার্টেন স্কুল। ব্যক্তিমালিকানাধীন কেজি স্কুলের শ্রেণী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বিরোধপূর্ণ জায়গায়। আজিজুল হক ওই জমিতে জবর দখল করে ভবন তৈরী করেছেন। এমনকি স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে মাসিক ভাড়া নেন ওই ভাইস চেয়ারম্যান।

মামাতো বোন মিনুয়ারা বেগম জানায়, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল হক আমাদের আপন ফুফাতো ভাই। আমরা এক ভাই দুই বোনের অংশ তাকে লাগিয়ত করি। খাজনা আদায়ের লিখিত রশিদ আমরা সংরক্ষন করছি। আমরা তিন ভাইবোন এলাকায় নেই। ফুফাতো ভাইকে দোকান বাড়ি ও নাল জমির দায়িত্ব ভার দেখভাল করতে দিয়েছি।

কিন্তু আমাদের অগোচরে ও অনুমতি ছাড়া নাল জমি ভরাট করে স্কুলের জন্য সেমিপাকা ভবন তৈরী করে। আমার ভাই রিক্সা চালক মানসিক ভারসাম্যহীন। ভবঘুরে রাস্তায় পড়ে থাকে। আমি ও আমার বোনও অসহায়। আমরা এতিম। এমনকি হতদরিদ্রও। স্কুল দিয়ে পিতার সম্পত্তি বেহাত হওয়ার উপক্রম হচ্ছে। ভাইস চেয়ারম্যান ক্ষমতাধর। আমরা অসহায়। আমাদের সৎ ভাই মো: রশিদ, মো: কবির ও হামিদা বেগমের অংশ কিনে এখন আমাদের প্রাপ্ত অংশ বৈধ করার কৌশল করছেন। জায়গা অনেক আগে পরিমাপ হয়েছে।

পিতার দু’স্ত্রীর সন্তানদের কে কোনদিকে ভোগ করবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আমরা যেখানে ভোগ করছি এর চৌহর্দ্দি নির্দিষ্ট আছে। ফরায়েজ মতে সম্পত্তির বিভাজন হয়েছে। লিখিত রোয়েদাদ হয়েছে। কিন্তু আজিজুল হক আমাদের সৎভাইদের অংশ কিনে নিয়ে আমাদের অংশ সমুহ কেড়ে নেয়ার পায়তারা করছে। কক্সবাজারের সহকারী জজ আদালতে এমআর মামলা রুজু আছে। যার নং ১৩৮/১৮। ওই মামলায় আমরা ১ম পক্ষ।

মৃত মোহাম্মদ আলীর মেয়ে ছেনুয়ারা বেগম জানায়, স্কুল দিয়ে অসহায় ভাইবোনের জমি ও ঘরবাড়ি কেড়ে নিচ্ছে ভাইস চেয়ারম্যান আজু। আমরা জমি লাগিয়ত ও বাড়িঘর রক্ষনাবেক্ষনে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। পিতার তৈরী কয়েকটি দোকান ছিল। এখন সবটুকু তার নিয়ন্ত্রনে চলে গেছে। আদালতে মামলা করেছি। ক্ষমতাবান ও টাকা পয়সা আছে। আর আমরাতো অসহায়। খাজনার কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। সৎ ভাইদের কাছ থেকে রেজিষ্ট্রি নিয়ে আমাদের প্রাপ্ত অংশ জবর দখলের পায়তারা করছে।

এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও উজানটিয়া পেকুয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা এম, আজিজুল হক জানায়, তারা আমাকে নন জুড়িসিয়াল স্ট্যাম্পমুলে খাস জায়গাগুলি বিক্রি করেছে। সরকারী জায়গাতো রেজিস্ট্রি হয়না। দখল বিক্রি করেছে স্ট্যাম্প দিয়ে। আমি জোরপূর্বক জায়গা দখল করিনি। চলতি দিয়ারা রেকর্ডে তারা ১২/১৩ শতক জায়গার মালিক। থানায় বৈঠক হয়েছে। ওই জমিগুলি রেজিষ্ট্রি দিতে চাচ্ছে। তারাতো আগে নি:স্বত্তবান হয়েছে।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri