কক্সবাজার ক্যাম্প থেকে পালানো রোহিঙ্গা নারী পাসপোর্ট করতে গিয়ে ভুয়া স্বামীসহ আটক

rh-wmn-pp-13.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(১৩ নভেম্বর) :: কক্সবাজার জেলার টেকনাফের শরনার্থী ক্যাম্পে নিবন্ধিত হয়ে পালানো এক রোহিঙ্গা নারী মানিকগঞ্জে বাংলাদেশি পাসপোর্ট করতে গিয়ে ভুয়া স্বামীসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছে। তার নাম আসমা। ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর কক্সবাজার জেলার টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিবন্ধিত হন।তার রোহিঙ্গা নিবন্ধন নম্বর ১৪৩২০১৭১২১৩১৫৪৪১৫।

বুধবার মানিকগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে পাসপোর্ট করতে যান ওই নারী। এ সময় তিনি নিজেকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দিঘলীয়া ইউনিয়নের বেংরোয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা পরিচয় দেন। তার নাম উল্লেখ করেন জান্নাত আক্তার।

মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট করার সময় আসল পরিচয় বের হয়ে আসে ওই নারীর। তার আসল নাম আসমা। তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিবন্ধিত সদস্য। এ ঘটনায় ওই রোহিঙ্গা নারী, তার ভুয়া স্বামী রেজাউল করিম ও পাসপোর্ট ফরমে তার প্রত্যয়নকারী আইনজীবী মো. মনোয়ার হোসাইনকে আটক করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মাকসুদুর রহমান জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে সাটুরিয়ারর বেংরোয়া গ্রামের রেজাউল করিম নামের এক ব্যক্তি স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে এক নারীর জন্য পাসপোর্ট করতে আসেন। ওই নারী পরিচয়ের ঘরে নিজেকে বেংরোয়া গ্রামের আব্দুল হাইয়ের মেয়ে জান্নাত আক্তার হিসেবে উল্লেখ করেন। জন্ম ১০ জুন ২০০০ সাল দেখিয়ে একটি নকল জন্মসনদও দিয়েছেন সঙ্গে।

জন্মসনদ ইস্যুর তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৯, যার নম্বর ২০০০৫৬১৭০৪৭১০৫২১১। ওই পাসপোর্ট আবেদনপত্রে সনাক্তকারী হিসেবে আইনজীবী মনোয়ার হোসাইনের সই রয়েছে।

ওই নারীর কথাবার্তা সন্দেহজনক মনে হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিবন্ধিত সার্ভার ঢোকেন। এরপর তার আসল পরিচয় পেয়ে যান। তার নাম আসমা। বাবা সিরাজুল হক। রোহিঙ্গা নিবন্ধন নম্বর ১৪৩২০১৭১২১৩১৫৪৪১৫। তার জন্ম তারিখ ৫ জানুয়ারি ২০০১। আসমা ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর কক্সবাজার জেলার টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিবন্ধিত হন।

তিনি আরও জানান, ওই নারী, তার ভুয়া স্বামী রেজাউল করিম ও আইনজীবী মনোয়ার হোসাইনেকে সদর থানা পুলিশের কাছে সোর্পদ করা হয়।

দিঘুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের পরিচালক মো. সামিউল ইসলাম বাদল জানান, ওই ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য নাসিমা আক্তার ও চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমানের প্রত্যয়ন দেখে তিনি জন্মনিবন্ধন করান। ওই নারী সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা কি-না সেটা তিনি জানেন না। অপর দিকে দিঘুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি রকিবুজ্জামান জানান, ওই নারী গত দুই সপ্তাহ আগে চট্টগ্রাম থেকে রেজাউল করিমের সাভারের বাসায় আসেন। এরপর বুধবার রেজাউল ওই রোহিঙ্গা নারী, তার প্রকৃত স্ত্রী ও একটি কন্যা সন্তানসহ মানিকগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে যান। এ সময় তাদের কাছ থেকে পুলিশ একটি নাগরিকত্ব সনদের কপি উদ্ধার করেন।

ওই নারী, তার ভুয়া স্বামী রেজাউল ও আইনজীবী মো. মনোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri