পেকুয়ায় আলম ডাকাতের কাছে জিম্মি ছিল উপকূলের মানুষ

FB_IMG_1574146228616.jpg

মোঃ ফারুক,পেকুয়া(২০ নভেম্বর) :: কক্সবাজারের পেকুয়ায় পুলিশ ও দুই দল ডাকাত বাহিনীর ত্রিমুখী গোলাগুলিতে নিহত আলম ডাকাত ছিলেন উপকূলীয় এলাকার আতঙ্ক। শক্তিশালী একটি জলদস্যু সিন্ডিকেট, অস্ত্র ব্যবসায়ী ও ডাকাত দলের প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর বাহিনীর কাছে জিম্মি ছিলেন মহেশখালী, পেকুয়া ও বাঁশখালী উপকূলের মানুষ।

তিনি নিহত হওয়ার পর ভুক্তভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও তার বাহিনীর সদস্যদের বেপরোয়া আচরণে এলাকাবাসীর মাঝে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তাঁর বাহিনীর হাতে শতশত অস্ত্র জমা থাকায় যে কোন সময় বড় ধরণের ঘটনা ঘটাতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে স্থানীয় এলাকাবাসী। তার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইতোমধ্যে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা তার সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডাকাত আলম বাহিনীর কাজ ছিল উপকূলীয় এলাকায় ডাকাতি, সাগরে জলদস্যুতা, অস্ত্র ব্যবসা, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানিসহ মারধর, লবণ চাষীদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করা। এমনকি এলাকায় বিভিন্ন পরিবারের ছোট ছোট মেয়েদের ধর্ষণ করার হুমকি দিত তারা। তাদের কথা ছাড়া কোন মেয়ে বিয়ে পর্যন্ত দিতে পারতোনা। একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় আলম ডাকাত থাকতো বলে কেউ প্রতিবাদ করার সাহসও করতো না।

এমনকি আলম ডাকাত এত বেশি কৌশল অবলম্বন করতেন যে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতিতে তার হাত থাকলেও ডাকাতি মামলা থেকে তিনি বেঁচে যেতেন। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদবাজিসহ বেশ কয়েকটি মামলা থাকলেও ডাকাতি মামলা ছিলনা। প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি তাকে মামলা থেকে বাঁচাতে সহযোগিতা করতেন।

আলম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন তার বড় ভাই মোঃ মনিরুজ্জামান। বিভিন্ন অপরাধে তারও রয়েছে বেশ কয়েকটি মামলা।

এছাড়াও তার বাহিনীর অপর সদস্যরা হলেন বদিউদ্দিন পাড়ার মো. এনাম, জামাল, আন্টু, সুজাঙ্গীর, আজমগীর, চুট্টু, বকশিয়া ঘোনা এলাকার আবদুল্লাহ, আনাস ও রেজাউল করিম, চাকলাদার পাড়ার কাইছার, লালজান পাড়ার জকু ডাকাত, ৭ অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে আটক মোঃ আনছারের ভাই বামুলা পাড়ার মোঃ বাচ্ছু, আলমগীর ও আরিফুল ইসলাম, সুন্দরী পাড়ার আনোয়ার হোসেন ও জাকের হোসেন, আমিলা পাড়ার রফিক, নেজাম ও শাহাদত।

টৈইটং ইউনিয়নের নাপিতখালী এলাকার আমিনুল ইসলাম প্রকাশ মলিঙ্গ্যা(বর্তমানে জেলে রয়েছেন), বাঁশখালীর পুইছড়ি সাইয়ার পাড়া এলাকার মোঃ ইস্কান্দর ও মহেশখালীর অস্ত্র কারিগর শহিদুল্লাহসহ আরো বেশ কয়েকজন। তাদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে বিভিন্ন থানায় মামলা চলমান রয়েছে।

আরো জানা গেছে, আলম নিহত হওয়ার পর তার বড় ভাই মনিরুজাম্মান আলম বাহিনীর ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ওই বাহিনীকে আরো বেশি সু-সংগঠিত করার জন্য সদস্যদের নিয়ে বুধবার সকালে রাজাখালীর বদিউদ্দিন পাড়ায় বৈঠক করেছে।

টইটং ও রাজাখালীর ডাকাত দল এবং পুলিশের ত্রিমুখী গোলাগুলিতে আলম ডাকাত নিহত হলেও তারা তা মানতে নারাজ। বৈঠকে বেশ কয়েকজন নিরহ ব্যক্তির তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণাও প্রকাশ করেছে। এঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিহত ডাকাত আলম ও বাহিনীর সদস্যরা এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক। মূর্তিমান আতঙ্কের নামটি চলে যাওয়ায় এলাকাবাসীরা অনেক খুশি। তার বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত আটক করার দাবীও রয়েছে তাদের। এছাড়াও আলম ডাকাত নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভুমিকায়ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন টইটং ও রাজাখালীর স্থানীয় বাসিন্দরা।

ডাকাত দলের বন্দুক যুদ্ধের পর চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মোহাম্মদ মতিউল ইসলাম, পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরো বড় ধরণের রক্তপাতের ঘটনা ঘটতো বলে তাদের ধারণা।

জানতে চাইলে পেকুয়া থানার ওসি কামরুল আজম বলেন, উপকূলীয় এলাকার ডাকাতদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। কোনো বাহিনী সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে না। ইতিমধ্যে অনেক ডাকাত ধরা পড়েছে, অনেকে মারাও পড়েছে। পুলিশ ডাকাতদের বিষয়ে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri