পেকুয়ায় ইটভাটার মালিকের বাড়ি থেকে চোরাই বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন

power.jpg

নাজিম উদ্দিন,পেকুয়া(২০ নভেম্বর) :: কক্সবাজারের পেকুয়ায় চোরাই বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল বিদ্যুত বিভাগ। পল্লী বিদ্যুত পেকুয়ার উপবিদ্যুত কেন্দ্র গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়িয়াখালী গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় চোরাই খুঁটি পুঁতে বসতবাড়িতে অবৈধভাবে বিদ্যুত সুবিধা ভোগ করছিলেন প্রভাবশালী চক্র। চোর সিন্ডিকেট পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি চুরি করে। পাচারকৃত ওই খুঁটি ইটভাটার মালিক স্বল্প মূল্যে কিনে বসতবাড়িতে পুঁতে ফেলে।

বিদ্যুত বিভাগের নিয়ম ও নীতিমালা ভঙ্গ করে এমনকি ওই সংস্থার অগোচরে ইটভাটার মালিক নিজ বাড়িতে অবৈধ উপায়ে খুঁটি ও বিদ্যুত সঞ্চালন লাইন স্থাপন করে। সরকারের বিদ্যুত বিভাগকে ফাঁকি দিয়ে ইটভাটার কোটিপতি ওই মালিক বিদ্যুত সুবিধা ভোগ করছিলেন। পাহাড়ীয়াখালীতে ইটভাটার মালিক বহুতল ভবন নির্মাণ করে। ওই ভবনে বিদ্যুত সংযোগ লাইন স্থাপন করতে চোরাই লাইন স্থাপন করেছে।

খবর পেয়ে কক্সবাজারের পল্লী বিদ্যুত সমিতির চকরিয়া জোনাল অফিসের পেকুয়া উপবিদ্যুত অফিসের ইনচার্জ পূর্ণেন্দু মজুমদার বারবাকিয়া ইউনিয়নের পাহাড়ীয়াখালী গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় পাহাড়িয়াখালী গ্রামের সোলতান আহমদের ছেলে আহমদ নবীর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ওই বসতবাড়ির বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে।

এ সময় আহমদ নবীর বসতবাড়ি থেকে বহমান বিদ্যুত তার খুঁটি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। খুঁটিও চোরাই সিন্ডিকেট থেকে কিনছিলেন ওই ব্যক্তি। বিদ্যুত বিভাগ চোরাই ওই খুঁটিও জব্দ করেছে। স্থানীয়রা জানায়, পেকুয়ায় বিদ্যুত সংযোগ লাইন স্থাপন কাজ চলছে। টইটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়নেও নতুন লাইন স্থাপন হচ্ছে।

সুত্র জানায়, টইটংয়ে ধনিয়াকাটা গ্রামে বিদ্যুত লাইন স্থাপনকাজ বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যুতবিভাগ খুঁটি বরাদ্ধ দেয়। মাইনুল ইসলাম ঠিকাদার এ সব কাজ বাস্তবায়ন করছে। ধনিয়াকাটা বাজারে খুঁটি মজুদ করে। চাহিদার অতিরিক্ত ৪ টি খুঁটি ঠিকাদার ভাগিয়ে নেয়। একটি খুুঁটি বিনষ্ট হয়। অতিরিক্ত ৩ টি খুঁটি তারা দালাল চক্র দিয়ে পাচার করে। দালাল চক্র ও চোর সিন্ডিকেট ধনিয়াকাটা বাজার স্তুপ থেকে আহমদ নবীকে ওই খুঁটি পাচার করে।

উজ্জল ও আকাশ নামক পল্লী বিদ্যুত সংশ্লিস্ট ব্যক্তি এ সব কাজে জড়িত বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দায়িত্বশীল সুত্র নিশ্চিত করে। পেকুয়ায় আহমদ নবী অবৈধ ইটভাটার মালিক। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের এক কিলোমিটারের মধ্যে ওই ব্যক্তি ইট উৎপাদন করছে।

কক্সবাজার জেলায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ইট উৎপাদন নিষিদ্ধ করেছে। প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষন করতে এ জেলায় ইট উৎপাদনের উপর নিষেধাজ্ঞা আছে। কিন্তু ওই ব্যক্তি টইটং ইউনিয়নে ইট উৎপাদনে মহোৎসবে মেতেছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ পুঁড়ে ইটভাটায়। নামে মাত্র কয়লার স্তুপ রয়েছে।

ইট উৎপাদন করতে জীবাস্ম জ্বালানীর যোগান দেয়। গত ১ বছর আগে আহমদ নবীকে ইট উৎপাদন না করতে নির্দেশ দেয় প্রশাসন। তাকে আর্থিক জরিমানাও গুনতে হয়েছে। ওই ব্যক্তি পাহাড়ীয়াখালীতে সুরম্য অট্রালিকা নির্মাণ করছে। নিজ বসতবাড়িতে বিদ্যুত সংযোগ দিয়েছিলেন অবৈধভাবে।

এ ব্যাপারে আহমদ নবী জানায়, আমি খুঁটিটি কিনে নিয়েছি। তবে আবেদন করেনি। আমার মিটার বৈধ। আকাশ নামক পল্লী বিদ্যুতের ইলেকট্রিশিয়ান আমাকে এ খুঁটি এনে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে পেকুয়া পল্লী বিদ্যুতের ইনচার্জ পূর্নেন্দু মজুমদার জানায়, খুঁটিটি অবৈধ। এর প্রমাণ পেয়েছি। আমরা গিয়েছিলাম। ওই ব্যক্তির বাড়ি থেকে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। লাইন কেটে দিয়েছি।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri