কক্সবাজারে হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর ২৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ২৩শে নভেম্বর (ইতিহাস)

Hamontika.jpg

প্রেস বিজ্ঞপ্তি(২১ নভেম্বর) :: কক্সবাজারের সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন “হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী” ১৯৯১ সালের ২৩ নভেম্বর নির্যাতিত, নিপিড়িত ও শোষিত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের মূখপাত্র হিসাবে গণ-সাংস্কৃতিক সংগঠন “হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী” প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

আগামী ২৩ নভেম্বর শনিবার ২৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা গ্রহন করা হয়েছে।

প্রধান সড়কের হোটেল আল-আমিন কমপ্লেক্সের ৩য় তলাস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠান মালার মধ্যে রয়েছে-আলোচনা সভা, কেক কাটা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠান মালায় সকল শুভাকাঙ্খি ও প্রগতিশীল আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের যথা সময়ে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অনিল দত্ত।

হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর ইতিহাস (আংশিক)

১৯৮৬ সালের ৪ এপ্রিল বাম রাজনৈতিক ধারার গণসংস্কৃতি চর্চা ও প্রসারের উদ্দেশ্যে মিলন কান্তি নাথ, শ্যামল দত্ত, নিপু বিশ্বাস, শিবু রায়, দ্বীপান্বিতা ভট্টাচার্য্য,এইচএম রিয়াজ শহিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয় হেমন্তিকা। হেমন্তিকা সাংস্কৃৃতিক গোষ্ঠীর প্রথম সভাপতি ছিলেন চট্টগ্রামের প্রখ্যাত যাদু শিল্পী পার্থ সারথি চক্রবর্তী। নাম প্রস্তাবক দ্বীপান্বিতা ভট্টাচার্য্য।


১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাংষ্কৃতিক সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন শাখার পরিচালক থাকাকালে বিপ্লবী বার্তা নিয়ে গণসংষ্কৃতি প্রসারে চট্টগ্রাম বিভাগের সর্বত্রে সাংষ্কৃতিক আন্দোলকে এগিয়ে নেন এইচএম রিয়াজ শহীদ । স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনেও হেমন্তিকার ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক আদর্শে উজ্জীবিত এ সংগঠন ১৯৯১ সালে হেমন্তিকার কক্সবাজার শাখার খোলা হয়। ১৯৯১ সালের ২৩ নভেম্বর গান নাটক গণসংগীত দিয়ে কক্সবাজারের গণমানুষের মুক্তি প্রয়াসে প্রতিষ্ঠিত হয় হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী।

এইচএম রিয়াজ শহীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কক্সবাজার হেমন্তিকা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম রিয়াজ শহিদ। প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ছিলেন সুজন কল্যান বড়ুয়া। প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন রিকা বড়ুয়া, শুভাশিষ বড়ুয়া পিকু, নিলা বড়ুয়া, উত্তম নন্দী, টুটুল পাল, প্রদীপ পাল, সুভাষ চন্দ্র নাথ, নকিবুল হুদা হিমু, লিনা আক্তার, জহির উদ্দীন, মো. সেলিম রেজা, দীপন পাল, বিধান পাটোয়ারী, লিটন পাল, সংগ্রাম পাল, রীনা কনা পাল, পুষ্পকনা পাল, সুমন বড়ুয়া, সুপ্রিয়া বড়ুয়া, সুমি নন্দী ও অনিল দত্ত।

রিয়াজ শহীদকে সহযোগিতা করেন কক্সবাজারের তৎকালিন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি স্বপন রায় চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সাইফ উদ্দীন আহমেদ মানিক ( মানিক বৈরাগী)। ১৯৯২ সালে রিকা বড়ুয়াকে সভাপতি উত্তম নন্দীকে সেক্রেটারি করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট প্রথম নির্বাচিত কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৯৩ সালে এড. পীযুষ কান্তি চৌধুরীকে চেয়ারম্যান ও কামরুল হাসানকে মহাসচিব করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।

অনুষ্টান সম্পন্ন হলেও কমিটি গঠন নিয়ে বিভাজন সৃষ্টি হয়। প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম রিয়াজ শহীদকে বাদ দিয়ে নুরুল আবছার চেয়ারম্যান ও কামরুল হাসান কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হলে কমিটি না হয়ে বিভাজনের সৃষ্টি হল, কমিটি আর হলে না। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কবি কামরুল হাসান একটি গ্রুপ নিয়ে ভারত চলে যান।


তখনি সোমনাথ চক্রবর্তী(শম্ভু দা) হেমন্তিকায় যুক্ত হন। ঢাকা থেকে রিয়াজ শহীদ এসে এডভোকেট সানাউল্লাহকে আহ্বায়ক, সোমনাথ চক্রবর্তী যুগ্ন আহ্বায়ক বাহারছড়ার আজাদকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এ ক্ষেত্রে রিয়াজের সহায়তা ভুলার মত। উনি হইলেন হেমন্তিকার প্রাণ।


১৯৯৫ সালে এড. সানাউল্লাহ ও আজাদ ভাইয়ের আহ্বায়ক কমিটি ১৯৯৯ সালে অনিল দত্ত ও জয়ন্তী বড়ুয়া সেক্রেটারি এবঙ সুখেন্দু বড়ুয়া রকিকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে কমিটি উপহার দেয়। ২০০৩ সালে সোমনাথ চক্রবর্তীকে পরিচালক ও অনিল দত্তকে উপ পরিচালক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিতে থাকাকালিন সময়ে শম্ভুনাথের সাথে মতবিরোধ থাকায় কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়। সর্বশেষ পরিচালক প্রথা বাদ দিয়ে একলা চলো নীতিতে কাজ শুরু করে। সব সময় রিয়াজ ভাইয়ের পরামর্শের মাধ্যমে সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যেতো ।

২০১১ সালের ৭ জুলাই প্রফেসর মোশতাক আহমদকে সভাপতি বাদল বড়ুয়াকে সহ সভাপতি ও অনিল দত্তকে সাধারণ সম্পাদক এবং এ বি ছিদ্দিক খোকনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। যে কমিটি অনেক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কাজ করে যাচ্ছে।


১৯৯৩/৯৪ সালের দিকে সাংস্কৃতিক সংগঠক তপন মল্লিককে সভাপতি ও সুনয়ন বড়য়াকে সম্পাদক করে হেমন্তিকা রামু শাখা গঠন করা হয়। হেমন্তিকার প্রতিষ্ঠাতা রিয়াজ শহীদ ‘তুই তো শালা ঘাতক দালাল একাত্তরের রাজাকার ,’ ওরা মানুষ মারে, বুঝেনারে মানুষের ক্ষতি, কী সৌন্দর্য্যা সৈকত নগরী কক্সবাজারসহ ১০০টির গান রচনা করেন এবং সুরারোপ করেন। এ যাবৎ পর্যন্ত হেমন্তিকা নিজস্ব রচিত নাটক মঞ্চায়ন করেছেন। তার মধ্যে এইচ এম রিয়াজ শহীদ নির্দেশিত গীতিআলেখ্য ‘বকুলপুরের স্বাধীনতা, সত্যপ্রিয় চৌধুরী দোলন রচিত মহারাণীর কান্ড (২০০৪), জসিম উদ্দীন রচিত ও নির্দেশিত ‘একাত্তরের শকুন’ (২০১১), ‘জাতিশত্রু, ‘দূরে আলো’, শামসুর রাহমানের ‘তোমাকে পাওয়া হে স্বাধীনতা’।

আর এসব নাটক নিদের্শনা ও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন রিয়াজ শহীদ, অনিল দত্ত, তপন মল্লিক, তাপস মল্লিক, আবু বকর ছিদ্দিক খোকন, আবদুল নবী, মঞ্জু বড়ুয়া, ফাতেমা আক্তার মার্টিন, লিটন সৈকত দেবনাথ, সাহেদ, আবু সুফিয়ান এনাম, হারুন অর রশিদ, নারগিস আক্তার রনি, অন্তিক চক্রবর্তী, অজয় মজুমদার, রিফাত হোসেন নির্যাস, রুনা আক্তার, কনা দাশ, লিটন কান্তি দে মিন্টু, তাকবিন আক্তার কলি, রবিউল হাসান, মরিয়ম আক্তার প্রমুখ।
চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজারের বিজয় মেলা প্রতিষ্ঠালগ্ন হেমন্তিকা মেলা উদযাপনের সাথে জড়িত আছেন। সাংস্কৃতিক দল নিয়ে ভারতও সফর করে হেমন্তিকা।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri