buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort rize escort sinop escort usak escort trabzon escort

দেশে গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে একটি গোষ্ঠী : প্রধানমন্ত্রী

pm21.jpg

কক্সবাংলা ডটকম(২১ নভেম্বর) :: গুজবে কান না দেয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস হলে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, মাঝে মাঝে আমরা দেখি, অপপ্রচার চালিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়। আমি সবাইকে একটা কথা বলব, এ অপপ্রচারে কান দেবেন না। খবর বাসস।

মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য ও সশস্ত্র বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০১৯ উপলক্ষে এ সংবর্ধনার আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিভিন্ন অপপ্রচার বিশেষ করে পেঁয়াজ, লবণ প্রভৃতির সংকটের অপপ্রচার চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এটা করবে আমি জানি। এটা স্বাভাবিক। সেটাকে মোকাবেলা করেই আমাদের চলতে হবে, আমরা সেভাবেই চলছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার মাছ, সবজিসহ বিভিন্ন তরিতরকারির উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। এখন জনগণের নিরাপদ খাদ্য ও পুুষ্টির চাহিদা পূরণে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ৩০ ধরণের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করছি। জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে আমরা যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণ করেছি ও তা অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা ইতিহাস আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের কাহিনী শিশু, নাতি-নাতনি ও স্থানীয় জনগণের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা সব উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধ কমপ্লেক্স তৈরি করে দিচ্ছি। কাজেই সেসব অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের দলিল-দস্তাবেজ আর নষ্ট হবে না। আগামী প্রজন্মের শিশুরা যুদ্ধের প্রকৃত ঘটনা জানতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি, আমরা বিজয়ী জাতি। প্রজন্মের পর প্রজন্ম জানবে বাঙালি জাতি কখনো হারতে জানে না। এর মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের আত্মমর্যাদার ধারণা তৈরি হবে এবং তারা মাথা উঁচু করে চলতে শিখবে।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা তার জ্বালাময়ী ভাষণে বলেন—বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। কেউ অতীতে বাঙালিকে দাবিয়ে রাখতে পারে নাই এবং ভবিষ্যতেও পারবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বে যে সম্মান অর্জন করেছিল, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মধ্য দিয়ে তা আবার হারিয়ে ফেলে। দেশটি একটি হত্যা, ক্যু, ষড়যন্ত্রের দেশে পরিণত হয়। সে সময় ১৯টি ক্যু সংঘটিত হয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর বহু সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে হত্যা করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে ধ্বংস করার ও জাতির পিতার নাম মুছে ফেলার অপচেষ্টা চলে। ২১ বছর পর সরকার গঠন করে আমরা আবারো মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথাকে ফিরিয়ে এনেছি। আমরা বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের আকাশ যে রকম কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল, তা সরিয়ে তার সরকার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের জনগণকে নতুন করে আলোকিত করেছে।

একটি মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বে নিজের অবস্থানকে সুসংহত করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার আদর্শকে ধারণ করে ও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আমরা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা এ সময় বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার তার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে দাঁড় করিয়েছি। আমাদের অঙ্গীকার এই যে, আমরা অবশ্যই জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণেও সক্ষম হব। লক্ষ্য প্রাণের বিনিময়ে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তা কখনো বৃথা যেতে পারে না।

শেখ হাসিনা এ সময় জাতির সূর্য সন্তান মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার-পরিজনের জন্য সম্ভব সবকিছু করতে তার সরকারের সংকল্পের কথা পুনরুল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ এবং আর্থসামাজিক সমৃদ্ধিতে আমরা সংকল্পবদ্ধ। আমরা তাদের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মান প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার মহান দায়িত্ব সশস্ত্র বাহিনীর ওপর ন্যস্ত জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এ পবিত্র দায়িত্ব পালন করা ছাড়াও সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যরা দেশমাতৃকার নানা কাজ যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা, অবকাঠামো নির্মাণ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে তাদের সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করা অব্যাহত রেখেছে। এজন্য আমরা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিভিন্ন জনকল্যাণমুখী যেমন আধুনিকায়ন, ভৌত ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করায় ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী বিপন্ন ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।

বক্তৃতার শুরুতে শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর সব সদস্যের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই দিনে অকুতোভয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা ও দেশের সাধারণ জনগণ পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মিলিত আক্রমণ শুরু করেন। এ কারণে আমাদের বিজয় ত্বরান্বিত হয়। আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনে সমর্থ হই।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য ও খেতাবপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানীর চেক ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন। তিনি অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের হাতে ‘বিশিষ্ট সেবা পদক’ ও নয়জন সেনা সদস্য, দুজন নৌবাহিনীর সদস্য এবং তিনজন বিমান বাহিনীর সদস্যের হাতে শান্তিকালীন ‘বাহিনী পদক’ তুলে দেন। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল আবু মোজাফফর মহিউদ্দিন মোহাম্মাদ আওরঙ্গজেব চৌধুরী, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সশস্ত্র বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত ১০১ জন মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার-পরিজন এবং সাত বীরশ্রেষ্ঠের নিকটাত্মীয়রা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

Share this post

PinIt
izmir escort bursa escort Escort Bayan
scroll to top
en English Version bn Bangla Version
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri