buy Instagram followers
kayseri escort samsun escort afyon escort manisa escort mersin escort denizli escort kibris escort

কক্সবাজারের পেকুয়ায় মাদ্রাসাছাত্রী হত্যা : প্রেমিকের হাতেই ধর্ষণ ও খুন হয় আয়েশা

pekua-student-murder-followup.jpg

মোঃ ফারুক,পেকুয়া(২৩ নভেম্বর) :: কক্সবাজারের পেকুয়ায় প্রেমের সম্পর্ক ছিল নিহত আয়েশার সাথে আনোয়ার হোসেনের ছেলে ওমর ফারুকের। তাদের মধ্যে বিয়ের কথাও চলছিল। এরই মাঝে প্রেমিক ফারুকের ভাই মোঃ মানিকের হাতে খুন হন মোঃ আরফাত নামের এক শিশু। শিশু খুন হওয়ার পর মাদ্রাসাছাত্রী আয়েশা ও তার পরিবার বিয়ের মত পাল্টান। তিনি কিছুতেই খুনির ভাইকে বিয়ে করবে না। প্রেমিক ফারুককে একথা জানিয়েও দেন। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রেমিক ফারুক। তার বন্ধুদের সাথে পরামর্শ করে প্রেমিকা আয়েশাকে অপহরণ করার সিদ্ধান্ত নেন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে মাদ্রাসা যাওয়ার পথে প্রেমিক ফারুক ও তার সহযোগিরা আয়েশাকে অপহরণ করে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। দুপুরে প্রেমিক ফারুকের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ আরো কয়েকজন তাকে গণধর্ষণ করে। কেটে নেয় তার কান। উপড়ে পেলেন দুটি চোখ। পরো শরীর ক্ষতবিক্ষত করেন। এক পর্যায়ে দুপুরেই মাদ্রাসাছাত্রী আয়েশা বেগম মৃত্যুর কাছে হার মানেন।

এরপর প্রেমিক ফারুক বাড়ির মহিলাদের বলে আয়েশা আত্মহত্যা করেছে। স্বাভাবিক হয়ে দিনে বিভিন্ন এলাকায় গুরাগুরি করে লাশটি গুম করার চেষ্টা করে। না পারায় রাতে বাড়ির মহিলাদের সহযোগিতায় লাশটি কবরস্থানে গুম করার চেষ্টা করে। সেখানেও সফল না হয়ে বাড়ির মহিলা ও তার বন্ধুদের সহযোগিতায় লাশটি বিসমিল্লাহ সড়কের একটি পুকুর পাড়ে বস্তাবন্দি করে রেখে যায়। এরপর প্রেমিক ফারুক পালিয়ে যায়।

শুক্রবার সকালে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করার পর জামাল হোসেনের মেয়ে আয়েশা বেগমের বলে সনাক্ত হয়।

মরদেহটি উদ্ধারের পর আয়েশার পরিবারের সদস্যরা ও অভিযুক্ত প্রেমিক ফারুকের নিকটাত্মীয়দের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় পুলিশ।

এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খুনি প্রেমিক ফারুকের ছবি ছড়িয়ে পড়ে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন এলাকাবাসীরা।

বাবা জামাল হোসেন বলেন, ‘একই ইউনিয়নের মিয়াজি পাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে ওমর ফারুকের সাথে আমার মেয়ের প্রেমের সর্ম্পক ছিল। এব্যাপারে আমাদের মৌন সম্মতিও ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ওমর ফারুকের ভাই মোঃ মানিক এক শিশুকে খুন করে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। সেসময় আমি তাদের পরিবারে মেয়ে বিয়ে দেব না বলে জানিয়ে দেই। মেয়েও বিয়ে করতে নারাজ ছিল।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মেয়েকে মাদ্রাসায় যাবার পথে অপহরণ করে ওমর ফারুক। অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে আমার মেয়েকে খুন করে। পরে তার লাশ গুমের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে বস্তায় ভরে সড়কের পাশে ফেলে যায়। আমি আমার মেয়ের খুনি ওমর ফারুক ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি।’

পেকুয়া থানার এসআই কাজী আব্দুল মালেক বলেন, ‘খবর পেয়ে মগনামা বিসমিল্লাহ সড়কের পাশ থেকে বস্তাবন্দি লাশটি উদ্ধার করি। শিক্ষার্থী আয়েশার চোখ দুটি উপড়ে ফেলা হয়েছে। বাম কান কেটে ফেলেছে। বুকেও ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে। বাড়ির মহিলাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি। প্রেমঘটিত কারণে নৃশংসভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

পেকুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, ‘খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ওমর ফারুক ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। তারপরেও ঘটনা সর্ম্পকে জানতে তার দুই চাচীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যার রহস্য উদঘাটনের জন্য কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ।’

তিনি আরো বলেন, নিহত মেয়ের পিতা জামাল হোসেন বাদি হয়ে থানায় ফারুককে প্রধান আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তাকে আটকের সর্বাত্বক চেষ্টা চলছে।

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri