কক্সবাজারের মহেশখালীতে ১২ জলদস্যু বাহিনীর ৯৬ সদস্য অস্ত্র ও গুলি সহ আত্মসমর্পণ (ভিডিও সহ)

aaa23.jpg

কক্সবাংলা রিপোর্ট(২৩ নভেম্বর) :: কক্সবাজারের মহেশখালীতে ১২ জলদস্যু বাহিনীর ৯৬ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন। শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে আয়োজিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তারা।

শনিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা পুলিশের উদ্যোগে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করাহয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আবসার, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান,কক্সবাজার জেলা কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি বলেন, স্বরাস্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘যাঁরা আত্মসমর্পণ করেছেন, তাঁদের হত্যা ও ধর্ষণ মামলা ছাড়া অন্যান্য মামলা থেকে পর্যায়ক্রমে মুক্তি দেওয়া হবে। আর যাঁরা আত্মসমর্পণ করেননি, তাঁদের স্থান এ দেশে আর হবে না। গডফাদারদের তালিকাও আমরা হাতে পেয়েছি। তাদেরও রেহাই দেওয়া হবে না।। আত্মসমর্পণকারীরা যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে, সরকারের পক্ষ থেকে সেই সহযোগিতাও করা হবে। অস্ত্রকারিগরেরা ভালো অস্ত্র বানায়। তারা যদি চায় ওয়ার্কশপ দিতে পারে। সেখানেও সরকার সহযোগিতা করবে। যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেনি, তাদের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, যারা এখনো আত্মসমর্পণ করেনি, আমরা সবার নাম-ঠিকানা পেয়ে গেছি। তারা যদি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে না আসে, তাহলে তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে যে জলদস্যুরা আত্মসমর্পণ করেছিলেন, এখন তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। অন্ধকার জগতের এই জীবন কতটা কষ্টের, সেটি তারা টের পেয়েছে। নিজের কষ্ট, দুঃখ-দুর্দশার কথা চিন্তা করে তারা আত্মসমর্পণ করেছিল। ‘আজকে যারা আত্মসমর্পণ করেছে, তারাও বুঝতে পেরেছে অন্ধকার জগতে জীবন যাপন করা কতটা কষ্টকর। তারা নিজের ভুল বুঝতে পেরে, নিজের ও পরিবারের কষ্টের কথা বুঝতে পেরে আত্মসমর্পণ করেছে।

’আমরা জোর গলায় বলতে পারি, দেশকে দস্যু, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করতে কাজ করছে এ সরকার।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানেরর আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গি, সন্ত্রাসী, অপরাধীর স্থান হবে না। যেকোনো মুহূর্তে ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের অনিয়মের বিরুদ্ধে যে কেউ কথা বলতে পারবেন। যদি পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অন্যায় করে, তাঁদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। তাই যেখানে অপরাধ সংঘটিত হোক না কেন, দ্রুত ৯৯৯ নম্বরে কল করে জানান।

আত্মসমর্পণকারী জলদস্যু বাহিনীগুলো হলো-নুর মোহাম্মদ বাহিনী,কালা জাহাঙ্গীর বাহিনী,গোরা কালু বাহিনী,হামিদ গ্রুপ,জীয়া বাহিনী,করিম বাহিনী,সিরাজ বাহিনী,স্বপন বাহিনী,মিন্টু বাহিনী, আবু শামা বাহিনী প্রমুখ। এসময় প্রতিটি বাহীনিকে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আত্মসমর্পণকারীদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। তবে সন্ত্রাস ও দস্যুতার পথ পরিহার করে স্বভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের তরফ থেকে গতবারের মতো তাদেরকে সর্বোচ্চ আইনি সহায়তাসহ সার্বিক সহায়তা করা হবে।

মহেশখালী থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, এ আত্মসমর্পণের পর মহেশখালী সম্পূর্ণ সন্ত্রাসমুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর সশস্ত্র ৪৩ জন জলদস্যুর আত্মসমর্পণের পর এবার কক্সবাজারের সন্ত্রাস কবলিত মহেশখালীতে আত্মসমর্পণ করলো ১২টি বাহিনীর ৯৬ জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর। এছাড়া, চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে আত্মসমর্পণ করেন ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী।

Posted by Muazzem Hossain Shakil on Friday, November 22, 2019

 

Share this post

PinIt
scroll to top
error: কপি করা নিষেধ !!
bahis siteleri